মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর কাছে আন্তর্জাতিক সীমান্তসহ বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে দেশটির জান্তা বাহিনী। স্পেশাল অ্যাডভাইসরি কাউন্সিল ফর মিয়ানমার (এসএসিএম) এর তথ্য মতে মিয়ানমারের ৮৬ শতাংশ ভূখণ্ডের দখল এখন বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে। দেশটিতে জান্তা বাহিনীর কার্যকরী নিয়ন্ত্রণ নেই।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে জান্তা বাহিনী। গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাতের প্রতিবাদে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। শুরু হয় সাধারণ মানুষের ওপর জান্তার দমন পীড়ন ও নির্বিচার হামলা।
বেপরোয়া জান্তা বাহিনীকে রুখতে একত্রিত হয় মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো। শুরু হয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সমরাস্ত্রে সজ্জিত জান্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহীদের লড়াই।
বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো। মিয়ানমার জান্তা আন্তর্জাতিক সীমান্তসহ বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে বিদ্রোহীদের কাছে। গত বছরের অক্টোবরে ৩টি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সমন্বিত অপারেশন টেন/টুয়েন্টি সেভেনের পর থেকে কোণঠাসা সামরিক বাহিনী।
স্পেশাল অ্যাডভাইসরি কাউন্সিল ফর মিয়ানমার এসএসি-এম এর তথ্য মতে, বর্তমানে মিয়ানমারের ৮৬ শতাংশ ভূখণ্ড বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে। দেশটির ৬৭ শতাংশ জনগনের বসবাস এই এলাকাজুড়ে।
বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতি আর ক্রমেই পিছু হটছে জান্তা বাহিনী। এমনকি গত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বিদ্রোহীদের তীব্র হামলার মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে কয়েক দফায় আশ্রয়ও নেয় কয়েকশ জান্তা সেনা।
এতে সংশয় দেখা দিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে। আপাতত জান্তা প্রধান তার অবস্থান ধরে রাখলেও, পরবর্তীতে তাকে ক্ষমতা থেকে অপসারণের চেষ্টা করা হতে পারে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থার এক প্রতিবেদন।

