বেইলি রোডে আগুন: কাচ্চি ভাই কর্মকর্তাসহ আটক ৩

রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় অর্ধশত প্রাণহানির ঘটনায় তিনজনকে আটকের কথা জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

আটক ব্যক্তিরা হলেন- ভবনটির নিচতলার চা-কফির দোকান ‘চুমুক’র দুই মালিক আনোয়ারুল হক ও শফিকুর রহমান রিমন এবং বিরিয়ানি রেস্তোরাঁ ‘কাচ্চি ভাই’র বেইলি রোড শাখার কর্মকর্তা জয়নুদ্দিন জিসান।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খ মহিদ উদ্দিন।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আটতলা গ্রিন কোজি কটেজের নিচতলার চা-কফির দোকান ‘চুমুক’ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তারা স্থানীয়দের কাছ থেকে সংগৃহীত একটি ভিডিওকে তদন্তের বড় আলামত হিসেবে দেখছে।

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনের নিচতলায় আগুন লেগেছে, আর তা নেভানোর চেষ্টা করছেন কেউ কেউ।

ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের সিনিয়র স্টাফ অফিসার শাহজাহান শিকদার বলেন, একটি ভিডিও পাওয়া গেছে। আগুনের সূত্র খুঁজতে গিয়ে এটি পাওয়া যায়। এটি স্থানীয় লোকজন আমাদের দিয়েছেন। আমাদের করা ভিডিও না।

তিনি বলেন, এটি একটি সূত্র, তবে চূড়ান্ত নয়। তদন্তের সময় অনেকের সাথে কথা বলতে হবে, আরও তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। তারপরই বলা যাবে প্রকৃত ঘটনা।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে বেইলি রোডের ভবনটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এ পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজন এবং শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আটজন ভর্তি আছেন। বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি আটজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ডিএমপির সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত কমিশনার খ মহিদ উদ্দিন বলেন, ভবনের মালিকের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, এটা আমরা বলছি না। আমরা তদন্ত করে দেখছি। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ না পেলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.