জার্মানি ও জার্মান সাহিত্য নিয়ে বইমেলায় ড. মুকিদ চৌধুরীর দুটি বই

ড. মুকিদ চৌধুরীর ছয়টি বই এসেছে এবারের গ্রন্থমেলায়। তার মধ্যে দুটি গ্রন্থ জার্মানি ও জার্মান সাহিত্য নিয়ে। আগামী প্রকাশনী নিয়ে এসেছে ড. মুকিদ চৌধুরীর ‘জার্মানি : অতীত ও বর্তমান’ বইটি। এখন জার্মানি বলতে জার্মান জাতির আবাসভূমি বোঝানো হয়, কিন্তু জার্মান জাতি বলতে যা বোঝায় তা অতীতে অনেক ব্যাপক ছিল, কেননা অস্ট্রিয়া, হল্যান্ডসহ ইউরোপীয় কিছু দেশের জনগোষ্ঠী জার্মান জাতির অন্তর্ভুক্ত।

 

খ্রিষ্টপূর্বের রোমান ঐতিহাসিকদের রচনায় জার্মান জাতি ছিল বর্বর, মদ্যসিক্ত ও যুদ্ধপ্রিয়। তাদের ছিল প্রভুভক্তি, সাহস ও বিক্রম। ফ্যাংকীয় উপজাতিই প্রথমে রোমান ভাষা, ধর্ম, রীতিনীতি আয়ত্ত করে রোমান সাম্রাজ্যের ধ্বংসস্তূপ থেকে পবিত্র রোমান সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে। অটো ফন বিসমার্ক, ১৮ জানুয়ারি ১৮৭১, নতুন রাষ্ট্র জার্মানির জন্ম দেন। অতঃপর ইউরোপীয় রাজনীতিতে ফ্রান্সের শক্তি ও মর্যাদা ক্ষুন্ন করে জার্মানির প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়। অতঃপর দানবের মতো বিশাল পদক্ষেপে শিল্পজগতে প্রবেশ করে। রাজনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ, অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ, সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ, কৃষি সাম্রাজ্যবাদ ও সমরতন্ত্রের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। নেমে আসে প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে জার্মানি হয় দুইভাগে বিভক্ত- পূর্ব ও পশ্চিম জার্মানি।

 

 

নির্মিত হয় বার্লিন প্রাচীর। ১৯৯০-এ বার্লিন প্রাচীর ভেঙে দুই জার্মানি সংযুক্ত হয়। জার্মান জনগোষ্ঠী ইউরোপীয় সংস্কৃতিতে অনেক অবদান রেখেছে ও রাখছে। জার্মানিতে অনেক লেখক, শিল্পী, স্থপতি, সংগীতজ্ঞ এবং দার্শনিক জন্মগ্রহণ করেছেন। জার্মানি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। জার্মানির সুদীর্ঘ ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সাহিত্য, দর্শন, রাজনীতি, কূটনীতি, আর্থসামাজিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক দিকগুলো এই গ্রন্থে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়ে। সমগ্রভাবে জার্মানির বিবর্তনের ইতিহাস বাংলা সাহিত্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ হিসেবে এটি একটি উল্লেখযোগ্য ও চমকপ্রদ দলিল। তাছাড়া অনিন্দ্য প্রকাশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে ড. মুকিদ চৌধুরীর বই– ‘জার্মান সাহিত্য : প্রারম্ভ থেকে অধুনা।

 

 

জার্মান সাহিত্যের ব্যাখ্যামূলক ধারাবাহিক বিবরণ এই বইটিতে পাওয়া যায়। এটি জার্মান সৃজনশীল চিন্তাধারার এক পরিপূর্ণ ইতিহাস। জার্মান ভাষায় লিখিত সাহিত্যের ভিত্তি প্রস্তুত হয় মৌখিক কাব্য উত্তরাঞ্চলীয় কিংবদন্তির মধ্য দিয়ে। সপ্তম শতকে লেখা হিলডেব্রানডের কীর্তন থেকে শুরু করে উচ্চজার্মান ও ব্যারোক যুগ হয়ে ক্যানট, লেসিং, ক্লোপস্টক, হারডার, ক্লিংগার (তুফান ও তাড়ন), ভাগনার, গ্যেটে, শিলার, ফিশচে, নোভালিশ, ক্লাইস্ট, কার্ল মার্কস, কাফকা, ম্যান, ব্রেশট, রেমার্ক, গ্রাস, মুলার প্রমুখ কথাসাহিত্যিক, কবি, দার্শনিকের রচনার নিদর্শন এই গ্রন্থে দেওয়া হয়েছে। জার্মান সাহিত্যের সুদীর্ঘ ঐতিহ্য, মানবিকতাবোধ, সমাজব্যবস্থার সমালোচনা- কখনও উগ্র, কখনও-বা বৈপ্লবিক; যুক্তিবোধের সঙ্গে দেশের ও দশের মঙ্গলসাধন; ন্যায়পরায়ণতা ও গণতান্ত্রিক প্রত্যয়, পুঁজিতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক আর্থসামাজিক ব্যবস্থা- সামগ্রিকভাবে এই গ্রন্থে জার্মান সাহিত্যের বিবর্তন ও ক্রমবিকাশ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে। গ্রন্থটি স্বাতন্ত্র্য, অভিনব, সার্থক, সরস ও তথ্যপূর্ণ। গুরুত্ব সময়ের দাবির চেয়ে অনেক বেশি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.