একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার জন্য সরকার নিজেরা নিজেরা নির্বাচন করেছে: তৈমূর আলম খন্দকার

একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার জন্য সরকার নিজেরা নিজেরা নির্বাচন করছে বলে মন্তব্য করেছেন তৃণমূল বিএনপি’র মহাসচিব এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। গতকাল সন্ধ্যায় নির্বাচনে তার পরাজয় ও নির্বাচনের পরস্থিতি নিয়ে   তিনি এ মন্তব্য করেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সামগ্রিক বিষয় নিয়ে কথা বলবো। দলের চেয়ারম্যান সাহেব ও নির্বাহী চেয়ারম্যান নিজ এলাকায় আছেন। আমরা পরামর্শ করে বিস্তারিত জানাবো। আমার শরীরটা ভালো নেই, কথা বলতে পারছি না। তবে মূল কথা হলো সরকার নিজেরা নিজেরা নির্বাচনটা করেছে। অর্থাৎ একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার জন্য। নৌকা বনাম স্বতন্ত্র। কিন্তু সরকারি দলই তারা।

যদিও রোববার সকালে ভোটগ্রহণ শুরুর পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেয়া হচ্ছে।

নৌকার প্রার্থী টাকা বিলি করে ভোট কিনছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

তৈমূর বলেছিলেন, নৌকার প্রার্থী টাকা বিলি করছে- আমরা অভিযোগ করে আসছি। মিডিয়াতেও এসেছে এটা। একজন ৫ লাখ টাকা নিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে। শনিবার রাতে বরপা এলাকায় আমার এজেন্টদের পিটিয়েছে ছাত্রলীগ, যুবলীগের ছেলেরা।

তিনি বলেছিলেন, চনপাড়ায় বিশাল ভোটব্যাংক। সেখানে তার এজেন্ট ঢুকতে দিচ্ছে না। বহুবার আমরা অভিযোগ করেছি। এসপি’র সঙ্গে দেখা করেছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছি। কিন্তু চনপাড়ার ব্যাপারে কোনো কার্যকর ভূমিকা নেয়া হয়নি। তবে মাটি কামড়ে হলেও নির্বাচনের শেষ দেখবেন বলে জানিয়েছিলেন তৃণমূল বিএনপি’র মহাসচিব। শুধু তাই নয়, ২রা জানুয়ারি রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ইছাখালি মাঝিনা নদীর পাড় এলাকায় জনসংযোগ ও প্রচারপত্র বিলি করার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন নির্বাচন নিয়ে জাতীয় পার্টি সংশয়ে থাকলেও আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই- তৃণমূল বিএনপি নির্বাচন করবে। কারণ তৃণমূল বিএনপি একমাত্র বিরোধী দল। জাতীয় পার্টি, ১৪ দল- এগুলি সরকারি দল।

তিনি আরও বলেছিলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, সরকারের সফলতা ব্যর্থতা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে হবে তৃণমূল বিএনপিকেই। তাই যত প্রতিকূলতাই হোক, সরকারি সন্ত্রাসী  বাহিনী ও এমপি’র বাহিনীকে মোকাবিলা করে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবো।

তবে রোববার অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। নির্বাচনে তিনি মাত্র ৩ হাজার ১৯০ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ৬২৪। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এই হিসাবে জামানত বাঁচাতে তৈমূর আলমের প্রয়োজন ছিল অন্তত ২৬ হাজার ৫৭৮ ভোটের। তৈমূর আলম মাত্র ১.৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।

এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে তৃণমূল বিএনপি’র প্রার্থী আবু হানিফ হৃদয় (সোনালী আঁশ) পেয়েছেন ৬৪৫ ভোট, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মো. আবদুল হামিদ ভাসানী ভূঁইয়া (সোনালী আঁশ) পেয়েছেন ১ হাজার ৮৩১ ভোট, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে তৃণমূল বিএনপি’র মো. আলী হোসেন (সোনালী আঁশ) পেয়েছেন ১ হাজার ৯৮৭, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে তৃণমূল বিএনপি প্রার্থী ছিল না। মোটকথা নারায়ণগঞ্জের ৪টি আসনে তৃণমূল বিএনপি’র প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

এদিকে নির্বাচনে তৃণমূল বিএনপি’র প্রার্থীদের এমন ভরাডুবিতে আগামীদিনে দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। যেখানে দলের মহাসচিবের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে সেখানে বাকি কথা বলে লাভ কি বলে শঙ্কা জানিয়েছেন তারা। প্রসঙ্গত, তৈমূর আলম খন্দকার বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর দেড় বছরের মাথায় তৃণমূল বিএনপিতে যোগ দেন।

facebook sharing button
twitter sharing button
skype sharing button
telegram sharing button
messenger sharing button
viber sharing button
whatsapp sharing button

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.