পাকিস্তানে কেবল কারে আটকে পড়া ছয় শিশুসহ আটজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ১৫ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস এক অভিযানে তাদের উদ্ধার করে দেশটির সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্মীদের একটি যৌথ দল। উদ্ধারকাজে যুক্ত ছিলেন স্থানীয়রাও। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল মঙ্গলবার সকালে খাইবার পাখতুনখোয়ার বাট্টাগ্রামে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় একটি কেবল কার বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে আটকা পড়েন আটজন, এর মধ্যে ছয়জনই স্কুলপড়ুয়া শিশু। স্কুলশিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা স্কুলে যাচ্ছিলেন। তখনই এই দুর্ঘটনা ঘটে। ১৫ ঘণ্টারও বেশি সময় ৯০০ ফুট উচ্চতায় ক্যাবল কারে ঝুলে ছিল শিশুরা।
উদ্ধারকাজে অংশ নেয় পাকিস্তান সেনাবাহিনী দুটি হেলিকপ্টার ও বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার। কিন্তু ঝুঁকি এড়াতে খুব কাছে যেতে পারছিল না কোনো হেলিকপ্টার। কারণ তীব্র বাতাসে ক্যাবল কারটির আরও ঝুঁকি বাড়তে পারতো। ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় পর্যবেক্ষণের পর হেলিকপ্টারে করে দুজন শিশু উদ্ধার করে কমান্ডোরা।
কিন্তু রাত হয়ে যাওয়ায় হেলিকপ্টারে করে উদ্ধার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে সেনাবাহিনী। অন্ধকার আর দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় তারা ঝুঁকি বাড়াতে চাননি বলে জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই উদ্ধার অভিযান ছিল অত্যন্ত জটিল। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, আটকে পড়া সবাইকে নিরাপদে মাটিতে নামানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী উদ্ধারকাজে এগিয়ে এসেছিল।
হেলিকপ্টারে করে উদ্ধার বন্ধ হওয়ার পর এই অভিযান আরও জটিল হয়ে পড়ে। তারের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে কেবল কারের দিকে এগিয়ে যান একজন কমান্ডো। চেয়ারলিফটের সহায়তায় একজন একজন করে নিয়ে আসেন নিরাপদ স্থানে।
প্রথমে ছয়জন শিশুকে উদ্ধার করা হয়। এরপর প্রাপ্তবয়স্ক দুজনকে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সবাইকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পাকিস্তান জরুরি সেবার কর্মকর্তা বিলাল ফাইজি বলেন, ‘উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক দুজনকে সবার শেষে উদ্ধার করা হয়েছে।’
ওয়াকার আহমেদ নামে আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, পুরো দেশ আটকে পড়াদের জন্য প্রার্থনা করছিল। শেষ ব্যক্তি উদ্ধার হওয়া পর্যন্ত এই প্রার্থনা চলে। সবাই ভয় পাচ্ছিল, দড়ি যেন না ছিঁড়ে যায়। উদ্ধার হওয়ার পর উপস্থিত সবাই খুশিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

