বিএনপি’র বিভিন্ন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গত দেড় মাসে সারা দেশে ২১৫টি মামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। এসব মামলায় ৮৩৬ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আসামি করা হয়েছে ৯ হাজার ৮০০-এর বেশি নেতাকর্মীকে। গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সরকার সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে বিএনপিকে দমন করার চেষ্টা করছে। এজন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর অন্যায়ভাবে জেল-জুলুম চালিয়ে যাচ্ছে। এবারের ঈদুল আজহায়ও বিরোধী দলের উপর দমন পীড়ন চালিয়েছে। বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীর উপর একাধিক স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ১৯শে মে থেকে ২রা জুলাই পর্যন্ত বিএনপি’র কেন্দ্র ঘোষিত জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে সার দেশে ২১৫টি মামলা হয়েছে। বিরোধী দলের আন্দোলন ঠেকাতে গণ মামলা ও গ্রেপ্তার অভিযানে নেমেছে সরকার।
রিজভী বলেন, ঈদের প্রাক্কালে মানুষ ঘরমুখো হলেও নিজ জেলা বা গ্রামে নিরাপদ ছিল না।
আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ এদের নানা সহযোগী সংগঠনের সমন্বয়ে সারা দেশে আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করেছিল। মানুষ বাড়িতে ফিরেও স্বস্তিতে ছিল না। সমাজ, সংস্কৃতি, সভ্য আচরণ আজ বিপন্ন অশুভ রাষ্ট্রশক্তির দৌরাত্ম্যে। আওয়ামী অবৈধ শাসনের তীব্র কষাঘাতে আজ জনগণের জীবন মরণের প্রশ্ন। ওরা (আওয়ামী লীগ) হিংসা-প্রতিহিংসার পথে এগোতেই ভালোবাসে। তিনি বলেন, বর্তমানে সামাজিক অবক্ষয় এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, ক্ষমতার আশ্রয় প্রশ্রয়ে গড়ে ওঠা দানবদের আক্রমণে কেউ রেহাই পাচ্ছে না। বিশেষ করে এই সমাজে নারীদের জীবনের যেন কোনো মূল্যই নেই। এমনই এক দুঃসময় চলছে যখন বোনকে উত্ত্যক্ত করার কারণে বিচার চাইতে গিয়ে তরুণ খুন হয়। পিতা-মাতা নিজের মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের কবলে পড়ে জীবন হারায়। প্রতিনিয়ত নিজের বোন বা কন্যা সন্তানের সম্ভ্রম বাঁচাতে গিয়ে প্রচণ্ড নাজেহালসহ জীবন দিতে হয়। জেলায় জেলায় গড়ে উঠেছে ক্ষমতার ছত্রছায়ায় বখাটেদের উৎপাত। কয়েক বছর আগে বরগুনায় নয়ন বন্ডের কথা আমরা জানি, এবারে ভোলায় শুনছি ০০৯ নামে এক ভয়াল গ্যাং এর নাম। ইতিমধ্যে এই বিষয়ে সংবাদপত্রে যে কাহিনী ছেপেছে তা লোমহর্ষক।
তিনি আরও বলেন, এবারের ঈদের ছুটিতে প্রায় ৩৫ জন মানুষের জীবনহানি ঘটেছে শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাফিলতির কারণে। তারা বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি। বর্তমান শাসন ব্যবস্থায় অবৈধ দখলদাররা কর্তৃত্ব করার কারণে চারদিকে গডফাদার, মাফিয়া আর সিন্ডিকেটবাজদের জয়-জয়কার। যদি জনসমর্থিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার থাকতো তাহলে বর্তমানে খাদ্যপণ্যের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটতো না। দলীয় লোকদের দিয়ে গঠিত সিন্ডিকেটের প্রতি সরকারের উদার দৃষ্টিভঙ্গির জন্যই আজ জনগোষ্ঠীর অধিকাংশ মানুষকে অনাহারে থাকতে হচ্ছে। রুহুল কবির রিজভী বলেন, গণতন্ত্রের স্থায়ী নিরাপত্তা ও ঐতিহাসিক সার্থকতার প্রতি আওয়ামী লীগ বিদ্বেষপরায়ণ। এজন্য গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠ চাপা দেয়ার জন্য তারা বিগত ১৪ বছর ধরে লক্ষ মানুষকে কারাবন্দি ও অসংখ্য মৃতদেহ ইতস্তত বিক্ষিপ্ত, কোথাও স্তূপিকৃত করে গণতন্ত্রের পথকে করেছে জনশূন্য। তবে এবারের আন্দোলন হবে আওয়ামী প্রভূত্ববাদের অধীনতা থেকে মুক্তির আন্দোলন।

