বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী একটি হারিকেন দেখিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘এই হারিকেন সরকারের হাতে ধরিয়ে দিতে হবে।’
অসহনীয় লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক দুর্নীতির প্রতিবাদে মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে অনুষ্ঠিত পদযাত্রা পূর্ব সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশ শেষে কয়েক হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে এই পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। মহাখালী থেকে শুরু হওয়া পদযাত্রা কারওয়ান বাজার গিয়ে শেষ হয়।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহাখালীতে অনুষ্ঠিত এই পদযাত্রা পূর্ব সমাবেশে আমীর খসরু আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ নির্ভরশীলতা জনগণের ওপর নেই, তাদের নির্ভরশীলতা পুলিশ, র্যাব ও আনসারের একাংশের ওপর। এই একাংশ এই অবৈধ অনির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় রাখার জন্য বেআইনি কাজ করছে, জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ও সংবিধান লঙ্ঘন করছে। এই একাংশের কাছে অনুরোধ এই পথ থেকে সরে আসেন, দেশের জনগণ জেগেছে।’
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘জনগণের চলমান আন্দোলনের সাথে শামিল হোন। আপনারা যারা পুলিশ-র্যাব-আনসারে আছেন, সরকারি কর্মকর্তা আছেন আপনারা আপনাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব নির্বিঘ্নে পালন করতে পারবেন। আপনারা জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েন না, জনগণের পাশে থাকেন।’
এই সরকার ‘ভোট চোর থেকে শেয়ার বাজার চোর’ বলে মন্তব্য করেন খসরু। চলমান আন্দোলনকে জনগণের আন্দোলন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা এই আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করবেন তাদের খবর আছে।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘আগামী দিনগুলো সতর্কতার সাথে চলতে হবে। এই সরকারের সাথে জনগণ নেই। তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তারা চাইবে সহিংসতা করতে। তারা চাইবে আমাদের সহিংসতার দিকে ঠেলে দিতে।’
এ সময় তিনি বলেন, ‘আমরা জয়ের শেষ ভাগ এসে পৌঁছেছি। সহিংসতা কে করে, যার সাথে জনগণের সমর্থন নাই তারা। কোটি কোটি জনতা বিএনপির পক্ষে আছে, আমরা কেন সহিংসতা করব? সরকারকে বলব ওই পথে যাইয়েন না। সুবোধবালকের মতো গণতন্ত্রের পথে ফিরে আসেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন, আপনাদের জন্য ভালো হবে, দেশের জন্য ভালো হবে।’
এই পদযাত্রা কর্মসূচিতে আরো অংশ নেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, আসাদুজ্জামান রিপন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল হক, তাবিথ আউয়াল, আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, শহিদুল ইসলাম বাবুল, কামরুজ্জামান রতনসহ ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েক হাজার নেতাকর্মী।

