স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদের সিরাজুল আলম খান সম্পর্কে স্মৃতিচারণ

প্রয়াত সিরাজুল আলম খানের জানাজা হলো বায়তুল মোকররম মসজিদ প্রাঙ্গণে আজ সকাল ১০ঘটিকায়। অনাড়ম্বর এ অনুষ্ঠানে দুর থেকে কাছ থেকে অনেককে দেখলাম।তরুণ ছাত্র নেতা হিসাবে তাদের অনেককে দেখেছি। ।এখন সবাই বয়সের ভারে বেশ কিছুটা শারীরিকভাবে কাতর।২০/৩০/৪০/৫০ বছর আগে দেখা অনেকেকে দেখে চেনার উপায় নেই।প্রাতিষ্ঠানিক কোন সম্পর্ক না থাকলেও প্রয়াত সিরাজুল আলম খানের বেশ কিছু স্নেহ সান্নিধ্য পেয়েছি।সে সব সময় এবং কথাবার্তাগুলো আজকে স্মরণ করার চেস্টা করলাম। আর তখন যারা সাথে ছিলেন তারাও অনেকে পৃথিবীতে নেই।জাসদ পন্থী কৃষক নেতা টাঙাগাইলের খন্দকার আবদুল বাতেন নাগরপুরের উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং পরে আওয়ামী লীগ এমপি, কুমিল্লার প্রয়াত এ্যাডভোকেট হাবিবউল্লা চৌধুরী ও তার স্ত্রী প্রয়াত জাসদ নেত্রী মমতাজ বেগম।বাকি জীবিতদের মধ্যে অনেকেই দল পরিবর্তন করে নানা দল -উপদলে। একবার তাঁর সাথে তৃতীয় শ্রেণীর ট্রেন যাত্রী হয়ে চট্টগ্রাম গিয়েছিলাম। চট্টগ্রাম পৌছে সে রাতে তিনটি বেশ দীর্ঘ বৈঠক করে রাত ২টার দিকে বনানী সিনেমা হলের মালিক প্রয়াত গোলাম কবীরের বাসায় সিরাজভাইসহ আমরা তিনজন রাতের খাওয়া শেষ করি।

 

তিনি আবার গোলাম কবিরসহ আড্ডা ও আলজিরিয়ার বিপ্লবের্‌ উপর সিনেমা দেখতে বসে যান। আমি এবং অপরজন (বর্তমানে দেশের একজন বিখ্যাত উপাচার্য) আমরা ঘুমুতে যাই। দুইজন এক খাটেই ঘুমাই। তিনি কখন ঘুমিয়েছেন জানি না। সকালে সাড়ে সাতটায় আবার আমাদের জাগিয়ে নাস্তা খেয়ে আটটায় বের হয়ে পড়েন। আর একবার খন্দকার বাতেনসহ আমি তাঁদের ইস্কাটনের বাসায় রাত একটা পর্যন্ত কাটিয়ে বের হই।পরদিন সকালে দু’জনে কুমিল্লা যাব। তখন বার্ডে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের প্রশিক্ষণ চলছিল। তিনি উপজেলা পরিষদ ও চেয়ারম্যানেদের মনোভাব জানতে চেয়েছিলেন।বাংলাদেশের সংবিধান ও রাষ্ট্র কাঠামো নিয়ে তাঁর চিন্তাগুলো ধারণ করে উইসকনসিনের বাঙ্গালী প্রফেসর জিল্লুর রাহমান খানসহ Constitution and Constitutional Issues শিরোনামে একটি বই লিখেছিলেন। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র মিলনায়তনে এ বইটির উপর একটি আলোচনা হয়। আমি সেখানে আলোচনার আমন্ত্রন পাই এবং অংশগ্রহন করি।যার উপর ভিত্তি করে জাসদ পার্লামেন্টে পেশাজীবির প্রধিনিধেত্বের ফর্মু লা প্রনয়ণ করে। পড়াশুনায় যতটুকু ধারণা হয়েছে, তাতে মনে হতো তার রাজনৈতিক আলাপ আলোচনার ধারা সক্রেটিসের মত। তাকে নানাজন ইতিবাচক নেতিবাচক নানা রকম অভিধায় ভূষিত করেছেন ।কেউ বলেন , কাপালিক,কারও গুরু,কেউ বলেন রহস্য পুরুষ, বেশীরভাগের ”তাত্ত্বিক” দাদা। আমার কাছে এখন মনে হয় তিনি সক্রেটিস না হলেও তাঁর ধারা সক্রেটিসের। তিনি বিরামহীন ডায়ালগ করতেন,বলতেন এবং শুনতেন। অনেক সময় কোন উপসংহার থাকত না। লোকে তাঁর কাছ থেকে শেষ কথা শুনতে চাইতেন। উনি তা করতেন না। তোমার উপসংহার তুমিই টান। তিনি নিজে কোন উপসংহারে আসতেন না। ’উপসংহার অমিমাংসিত’ রেখেই তিনি ৮২ বছর বয়সে পরপারে চলে গেলেন ,আমাদের কালের রাজনীতির কিংবদন্তি সিরাজুল আলম খান।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.