সৈয়দ সফিকুন্নবী আবু একজন ঢাকার বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা , প্রয়াত হয়েছেন কয়েকদিন আগে , আমার সাথে তার খুব ভালো পরিচয় আছে , তিনি জার্মানিতে এসেছিলেন ৭০ দশকের শেষের দিকে তাঁরই অনুজ মাহবুবুর রহমান রতনের কাছে , তখন আমি এবং রতন ভাই তখন একই বাসাতে থাকতাম , আবু ভাই যখন এলেন তখন আমার সাথে তার বেশ ভাব জমে উঠেছিল , যখন শুনলাম তিনি মুক্তিযোদ্ধা এবং অভিনয় শিল্পী , দি রেইন , এবং ওরা ১১জন ছবিতে অভিনয় করেছেন । তিনি মজার মজার কথা বলতেন আমি খুব উপভোগ করতাম । আমাদের আরেকজন বন্ধু ছিলেন কায়েস চৌধুরী , তিনিও ছিলেন মিডিয়া জগতের মানুষ , রতন ভাই , কায়েস ,এবং আমি আবু ভাইর গল্প করতাম সেই সময়ে । এটা ৭০ দশকের শেষর দিকের কথা । আবু ভাই জার্মানিতে থাকেন নি , তিনি দেশে ফেরত গিয়েছিলেন । তার কথা আমার প্রায়ই মনে হতো । তারই অনুজ মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান রতন ভাইর ফেসবুক পোস্ট এ তার মৃত্যুর সংবাদ জেনেছিলাম । রতন ভাইর সাথ আমার যোগাযোগ সবসময়ই আছে , তিনিও জার্মানি থেকে দেশে ফিরে অবসর সময় কাটাচ্ছেন , স্বজন নামে একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তুলেছেন ধানমণ্ডি এলাকায় ।

আবু ভাই শুধু মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না , মুক্তিযুদ্ধ পূর্ববর্তী সময়ে এন এস এফ নামে যে সন্ত্রাসী ছাত্র সংগঠন ছিল তাদের সেই সময়ে অপকর্মের বিরুদ্ধে যারা রুখে দাঁড়িয়েছিলেন তাদের মধ্যে খসরু , মণ্টূ সহ যেসব ছাত্রযুব নেতারা ছিলেন তাদের মধ্যে সৈয়দ সফিকুন্নবী আবু ভাইও ছিলেন । দেশের ক্রান্তিলগ্নে সৈয়দ সফিকুন্নবী আবু তার স্বীয় দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে দেশপ্রেমের প্রমাণ দিয়েছিলেন , কিন্তু আবুর মৃত্যুর পর রাষ্ট্র তার যথাযথ মূল্যায়ন করেনি । মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান রতন শুদ্ধস্বর ডটকমকে জানান , আবু মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট নেন নি , তাই অনেক চেষ্টা করেও তার জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মানের ব্যবস্থা করা যায় নি । তিনি বলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা সবসময়য়েই মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট না থাকলেও তিনি মুক্তিযোদ্ধা, রতন বলে বলেন সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের সার্টিফিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলেছে যা করা ঠিক হয় নি , এই সার্টিফিকেট নেওয়া যে কত কঠিন তা ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধারাই জানেন । রতন আরও বলেন সারা দেশে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট নিতে যেয়ে হয়রানির শিকার হয়েছে , তিনি তার নিজের অভিজ্ঞতাও শুদ্ধস্বর ডটকমের কাছে তুলে ধরেন ।
মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান রতন বলে মুক্তিযোদ্ধাদের গড় বয়স এখন ৭০ এর কাছেকাছি , এই বয়সে সার্টিফিকেটের জন্য মন্ত্রণালয় এবং অফিসে অফিসে ধর্না দেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয় । রতন বলেন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের উচিৎ সারাদেশে জীবিত বা মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজে বের করে তাদের প্রাপ্য সম্মান দেয়া , তা না হলে মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন হবে না । তিনি বলেন আজকে সৈয়দ সফিকুন্নবী আবু তার প্রাপ্য সম্মানটুকু পেলেন না এর দায় সম্পূর্ণ রাষ্ট্রের ।
হাবিব বাবুল , প্রধান সম্পাদক। শুদ্ধস্বর ডটকম ।

