পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে জো বাইডেনের সঙ্গে কী আলোচনা করবেন, সেটা তাদের বিষয়। সেখানে বাংলাদেশের ওকালতি করার প্রয়োজন নেই।
তিনি বলেন, ভারতের দেশপ্রেম অত্যন্ত পরিপক্ব ও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। দেশটি পরিপক্ব একটি গণতান্ত্রিক দেশ। তারা যেটা ভালো মনে করবেন, সেটাই আলাপ করবেন। ওখানে আমার ওকালতি করার প্রয়োজন নেই।
আজ সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোন দেশ কোথায় কী বিষয়ে আলাপ করবে, সেটা তাদের বিষয়। ওই দেশের কে কী নিয়ে আলাপ করবেন, এটা নিয়ে আপনার দুশ্চিন্তা কেন?
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বৈঠকে সম্প্রতি বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নতুন ভিসা নীতির বিষয়ে আলোচনা হতে পারে বলে দিল্লি ও ঢাকার কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে।
সম্প্রতি কংগ্রেস সদস্যদের চিঠির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চিঠিতে কিছু তথ্যের গরমিল আছে, ভুল আছে। মিথ্যা তথ্য আছে। যাদের লবিস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তারা মিথ্যাচার করছেন। যেমন একটা মিথ্যা হলো তারা বলছেন, গত কয়েক বছরে শেখ হাসিনার সরকারে হিন্দুরা নির্যাতিত হয়েছেন। খ্রিষ্টানদের ওপর অত্যাচার হয়েছে। এগুলো তো সত্য নয়। এসব বিষয় গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের পক্ষ থেকে লবিস্ট নিয়োগ দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমাদের লবিস্ট নেই। আমরা বাদ দিয়েছি; বরং যাঁরা লবিস্ট নিয়োগ দিয়েছেন তাদের বলছি, আল্লাহর ওয়াস্তে দেশটারে ধ্বংস করার তালে থাকবেন না।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, দেশ তো আমার আপনার সবার। সুতরাং দেশকে ধ্বংস করে লাভ নেই। যারা লবিস্ট নিয়োগ দেবেন, তারা যেন দেশের মঙ্গলের বিষয়টি মাথায় রাখেন।
লবিস্ট নিয়োগ কারীদের প্রতি (কারও নাম উল্লেখ করেন নি) দেশে কীভাবে আরও জ্বালানি পাওয়া যায়, কীভাবে কর্মসংস্থান বাড়ানো যায়, কীভাবে বিনিয়োগ বাড়ানো যায়, এ জন্য লবিস্ট নিয়োগের অনুরোধ জানান আব্দুল মোমেন।
তিনি বলেন, ‘তাতে দেশের মঙ্গল হবে। ’
আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমি একজন শিক্ষক। সারা জীবন শিক্ষকতা করেছি। আমার দুঃখ লাগে, যখন দেখি মিথ্যা তথ্যের ছড়াছড়ি। যুক্তরাষ্ট্রকে বলেছি, তোমরা তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখো। কোনটা সত্য, কোনটা মিথ্যা। তারপর সিদ্ধান্ত নাও। এটি না করলে ভুল হবে। আমার শিক্ষার্থীদেরও বলেছি, ‘সত্য-মিথ্যা যাচাই করো।’

