দুর্নীতিবাজদের জন্য ইউরোপের দরজা বন্ধ, সম্পদ থাকলে বাজেয়াপ্ত হবে

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক–প্রধান জোসেফ বোরেল দুনিয়ার দেশে দেশে থাকা দুর্নীতিবাজদের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন। বলেছেন, তাদের প্রতি আমাদের বার্তা পরিস্কার, যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের জন্য ইউরোপের দরজা বন্ধ। এই দুর্নীতি বিশ্বের যেখানেই ঘটুক না কেন।
বার্তা সংস্থা এএফপির এক রিপোর্টে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। রিপোর্ট মতে, ইইউ কমিশন যেসব ঘটনাকে গুরুতর দুর্নীতি হিসেবে বিবেচনা করছে তার মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেয়া। এ ছাড়া রয়েছে জনগণের তহবিল তছরুপ করা, বিশেষ করে এমন সব দেশে যারা করের মতো বিষয়ে সহযোগিতা করে না বলে মনে করা হয় অথবা যারা অর্থ পাচার ও জঙ্গি অর্থায়ন বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। যেকোনো দেশের দুর্নীতিবাজেরা ইউরোপে কালো তালিকাভুক্ত ও নিষিদ্ধ হবেন।

এএফপির রিপোর্টে বলা হয়, ইইউ সদস্য দেশগুলোতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নতুন কিছু প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত, কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয় এমন দেশের ব্যক্তিদের ‘কালো তালিকাভুক্ত’ করার মাধ্যমে শাস্তি দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

এএফপি জানিয়েছে, ইউরোপীয় দেশের এই জোট প্রস্তাব করেছে যে ‘গুরুতর দুর্নীতি’ করেছে এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকা সম্পদ জব্দ করা ও তাদের এই জোটে নিষিদ্ধ করা হবে। তবে কমিশনে ওই প্রস্তাব ইইউর সব দেশে স্বতন্ত্রভাবে অনুমোদন পেতে হবে।

উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই প্রস্তাবগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাগনিটস্কি আইনের অনুরূপ। ওই আইনের আওতায় মার্কিন সরকার দুর্নীতি কিংবা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত বিদেশি সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়।

কমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন যেসব পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে, এর মাধ্যমে ‘ইইউর সর্বজনীন পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির প্রতি ব্যাঘাত ঘটায় বা ঘটাতে পারে এমন দুর্নীতির ঘটনার’ বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার অধিকার ইউরোপীয় ইউনিয়ন পাবে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.