জুলকারনাইনের ভাইয়ের ওপর হামলার নিন্দা জানালেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ ও সিপিজে

 

সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খান সামির ভাইয়ের ওপর হামলার নিন্দা এবং এর সুষ্ঠু তদন্দের দাবি জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক মেরি লওলর। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্ট  বা সিপিজে’র তরফেও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃটেনে প্রবাসী এই সাংবাদিকের ভাইয়ের ওপর হামলা নিয়ে শুক্রবার রাতে টুইট করেন মেরি লওলর। তিনি এতে বলেন, ঢাকায় জুলকারনাইন সায়েরের ভাইয়ের ওপর হামলার খবর শুনে তিনি উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, আমি এ নিয়ে দ্রুত তদন্ত দেখবো বলে আশা করছি। একইসঙ্গে আমি জুলকারনাইনের পরিবারকে যথাযথ নিরাপত্তা প্রদানের আহ্বানও জানাই।

এদিকে শুক্রবার সিপিজেও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খানের ভাই মাহিনুর খানের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। সংগঠনটির এশিয়া প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী বেহ লিহ ই বলেছেন, বাংলাদেশি সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের খানের ভাইয়ের ওপর এই হামলা প্রবাসে থাকা সাংবাদিকদের পরিবারের যারা দেশে আছেন তাদেরকে টার্গেট করার সবশেষ ঘটনা। কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই এই হামলার অপরাধীদের জবাবদিহি করতে হবে এবং তার পরিবার যাতে নিরাপদে বসবাস করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয়রা তার পরিবারকে জানিয়েছে যে হামলাকারীদের একজন আওয়ামী লীগের সদস্য হুমায়ুন রশিদ জনির সমর্থক।

এ নিয়ে জনির সঙ্গে কথা বলতে চায় সিপিজে। তবে তিনি সেই ফোন রিসিভ করেননি।

পরে এক মেসেজের উত্তরে জনি বলেন, আমার জীবনে সহিংসতার কোনো ইতিহাস নেই। সিপিজে জানায়, সংগঠনটি এর আগেও বিদেশে থাকা বাংলাদেশি সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক আচরণ নথিভুক্ত করেছে। এর মাধ্যে আছে গত বছরের সেপ্টেম্বরে বৃটেন প্রবাসী সাংবাদিক শামসুল আলম লিটন এবং আবদুর রব ভুট্টোর ভাইদের গ্রেপ্তার। এছাড়া ২০২১ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাংলাদেশি সাংবাদিক কনক সারোয়ারের বোনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। 

অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক ‘দ্য অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্ট’ বা ওসিসিআরপি জানিয়েছে, অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুকারনাইন সায়ের খানকে দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদনের জন্যই টার্গেট করা হয়েছে। তিনি বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি, পক্ষপাতিত্ব এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে আল জাজিরার একটি ডকুমেন্টারিতে কাজ করেছিলেন। ২০২১ সালে সেটি প্রচারিত হওয়ার পরপরই বাংলাদেশ সরকার ওই ডকুমেন্টারি মিথ্যা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছিল। ওসিসিআরপির দাবি, বৃটেনে সায়ের খানের কাছে পৌঁছাতে না পারার কারণে বাংলাদেশে থাকা তার পরিবারের ওপর হামলা করা হতে পারে। রিপোর্ট প্রকাশের জন্য সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদের আক্রমণ করাকে কাপুরুষোচিত বলে বর্ণনা করেন ওসিসিআরপি প্রকাশক ড্রু সুলিভান। সুত্র, মানবজমিন ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.