বৃহস্পতিবার রাতে ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকের পর দলটির নেতারা সাংবাদিকদের এসব জানান।
ডিএমপি কার্যালয়ের সামনে বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ আমাদের বলেছে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় খুলে দেওয়া হয়েছে। সেখানে আমরা যেতে পারব, কোনো সমস্যা নেই।
গ্রেপ্তার নেতাকর্মীদের বিষয়ে তিনি বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ইতিমধ্যে দুজনের জামিন হয়েছে। রবিবার অন্যদেরও জামিন হবে। তারা কারো রিমান্ড চাইবেন না।
এ ছাড়া শনিবার (১০ ডিসেম্বর) বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ নিয়ে নতুন দুটি স্থান নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান। বিএনপি সমাবেশের জন্য চেয়েছে কমলাপুর স্টেডিয়াম। অপরদিকে পুলিশ প্রস্তাব করেছে মিরপুর বাংলা কলেজ মাঠ।
বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ‘দুটি স্পট নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। আমরা রাতেই জায়গা পরিদর্শন করে সিদ্ধান্ত জানাব। পুলিশ আমাদের বলেছে আমাদের পছন্দ মতো জায়গায় সমাবেশ হবে।’
তবে বিএনপি নেতাকর্মীদের জামিন বিষয়ে ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, জামিনের বিষয়টি আদালত দেখবে।
বুধবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এক বিএনপি কর্মী নিহত হন।
ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিএনপির ২ হাজার ৩০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ।
পল্টন, মতিঝিল, শাহজাহানপুর থানায় করা ৩ মামলায় ৫৫৩ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ১ হাজার ৭৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী, খায়রুল কবির খোকন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আমানুল্লাহ আমান ও শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
বৃহস্পতিবার বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমান ও আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল পল্টন থানায় নাশকতার অভিযোগে করা মামলায় জামিন পেয়েছেন।
এ ছাড়া নাইটিঙ্গেল ও বিজয়নগর এলাকায় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১০০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ৩২ রাউন্ড টিয়ার গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেছে বলে রমনা থানায় করা দুটি মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এসব মামলায় পুলিশ বৃহস্পতিবার ৪৫০ জনকে ঢাকার একটি আদালতে হাজির করে ১৫ জনের ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি সংঘর্ষে ৪৭ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

