COP-২৭ সম্মেলনের আলোচ্যসূচি হওয়া উচিত অবিলম্বে ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি: ড. ইউনূস

 

কলম্বিয়ার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ইউনিভার্সিটি এক্সটারনাডো ডি কলম্বিয়া নোবেল লরিয়েট প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের আগমন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক দিনব্যাপী জন-অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু ছিল সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে একটি অধিকতর সমতাভিত্তিক বিশ্ব গড়ে তোলা। চৌদ্দ হাজার ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে ১৪০ বছরের প্রাচীন দেশটির অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই বিশ্ববিদ্যালয়টি এরই মধ্যে ইউনূস সেন্টারের সাথে যৌথভাবে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং ২০১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি “ইউনূস সোশ্যাল বিজনেস সেন্টার” প্রতিষ্ঠা করেছে।

দিনের মূল কর্মসূচি ছিল নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এবং কলম্বিয়ার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোসের মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় সামাজিক ব্যবসার ভূমিকা শীর্ষক এক সুগভীর ও আকর্ষণীয় সংলাপ।

প্রফেসর ইউনূস ও বোগোটার প্রথম মহিলা মেয়র ক্লডিয়া লোপেজ ইউনিভার্সিটি এক্সটারনাডো ডি কলম্বিয়ায় পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যকার এক ঘন্টার বৈঠকে তাঁরা সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে বোগোটাকে কীভাবে একটি “তিন শূন্য’র নগরীতে” পরিণত করা যায়, ব্যবসা উদ্যোগ, এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও এ বিষয়ে করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন। সম্মেলনে মেয়র লোপেজ তাঁর বক্তব্যে তিনি কীভাবে প্রফেসর ইউনূসের বই দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে বিভিন্ন কমূসূচি গ্রহণ করেছেন তা উল্লেখ করেন।

 

প্রফেসর ইউনূস অবিলম্বে ইউক্রেন যুদ্ধ সমাপ্তির আহ্বান জানান এবং বলেন যে, cop ২৭-এর এটিই এখন একমাত্র আলোচ্য বিষয় হওয়া উচিত। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত পৃথিবী এখন জলবায়ু সংকটের মত আরো গভীর সমস্যার দিকে মনোযোগ দেবার স্থলে যুদ্ধের অব্যবহিত ধ্বংসযজ্ঞের হাত থেকে নিজেকে রক্ষায় বাধ্য হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, এই যুদ্ধ এরই মধ্যে একটি “বিশ্ব যুদ্ধে”- এই গ্রহে মানবজাতির বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যকার যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। এটি শুধু একটি দেশ নয়, এটি সমগ্র মানবতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ।

প্রফেসর ইউনূস ব্যাখ্যা করেন কীভাবে একটি তিন শূন্য’র পৃথিবী অর্থাৎ শূন্য নীট কার্বন নিঃসরণ, দারিদ্র দূরীকরণের লক্ষ্যে শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীকরণ এবং সকলের মধ্যকার উদ্যোক্তা-শক্তি অবারিত করার মাধ্যমে শূন্য বেকারত্বের একটি পৃথিবী সৃষ্টি করা সম্ভব যার মূল চালিকাশক্তি হবে তরুণ সমাজ। প্রেসিডেন্ট সাস্তোস তাঁর সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন যে, তরুণরাই এ ধরনের একটি পৃথিবী গড়ে তোলায় মূল ভ‚মিকা পালন করতে পারে এবং তিনি তাঁর ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আমাজনিয়া অঞ্চল এবং অন্যান্য এলাকাগুলিতে ইউনূস এনভায়রনমেন্টাল হাব- যা পরিবেশ ও চক্রাকার অর্থনীতিতে সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে, তরুণদের অন্যান্য সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগকে সহায়তা করছেন। তাঁদের মধ্যকার এই ঘন্টাব্যাপী আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল একটি অধিকতর সমতাভিত্তিক পৃথিবী সৃষ্টির পূর্বশর্ত হিসেবে দারিদ্র দূরীকরণ, তরুণ উদ্যোক্তা ও সামাজিক ব্যবসা সৃষ্টি, জলবায়ু সংকট মোকাবেলা, অবিলম্বে ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি ও শান্তি প্রতিষ্ঠা।

ইউনিভার্সিটি এক্সটারনাডো ডি কলম্বিয়ায় প্রফেসর ইউনূসের আগমন উপলক্ষ্যে একটি অধিকতর সমতাভিত্তিক পৃথিবী গঠনে সামাজিক ব্যবসার ভূমিকার উপর আয়োজিত এই জন-অনুষ্ঠানে প্রায় ১,০০০ ব্যক্তি যোগ দেন। 

 

১৪০ বছরের সুপ্রাচীন ইউনিভার্সিটি এক্সটারনাডো ডি কলম্বিয়ার জন-অনুষ্ঠানে প্রায় ১,০০০ ব্যক্তি অংশ নেন যাঁদের মধ্যে ছিলেন সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধি, কূটনীতিক, জাতিসংঘ কর্মকর্তা, ব্যবসায় উদ্যোক্তা যাঁরা সশরীরে বা অনলাইনে যোগ দেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং শিক্ষকবৃন্দ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.