সেই বিতর্কিত ‘বিশ্বকাপ’ জয়ের কলংক থেকে মুক্তি চায় আর্জেন্টিনা- আবু জাফর শিহাব

সেই বিতর্কিত ‘বিশ্বকাপ’ জয়ের কলংক থেকে মুক্তি চায় আর্জেন্টিনা

বিশ্ব ফুটবলে আর্জেন্টিনা সব সময়েই সমীহ জাগানিয়া নাম। দুইবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দলটির নিজ দেশের বাইরেও রয়েছেকোটি কোটি ভক্ত। বিশেষ করে ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার হাত ধরে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনার ভক্তের সংখ্যাবাড়তে শুরু করে। যা হালের মেসি যুগে এসে আকাশ ছুঁয়েছে। যদিও তিন যুগ হয়ে গেছে আর্জেন্টিনা আর ছুঁতে পারে নি স্বপ্নেরবিশ্বকাপ। কিন্তু প্রতিটা আসরেই ফুটবলের সর্বোচ্চ শিরোপা জয়ের স্বপ্নে বিভোর হয় ভক্তরা।

 

রোড টু কাতারঃ

ল্যাটিন আমেরিকা থেকে চারটি দল সরাসরি পেয়েছে কাতার বিশ্বকাপের টিকেট। ১০ দেশের বাছাই পর্বের লড়াই শেষে ব্রাজিলেরপর দ্বিতীয় স্থানে থেকে কাতারে পা রাখছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ১৭ ম্যাচে আর্জেন্টিনা পেয়েছে ৩৯ পয়েন্ট। আরব্রাজিল ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে ল্যাটিনে পেয়েছে শীর্ষস্থান। দুই দলের মধ্যে একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত বাতিলহয়েছে। আর্জেন্টিনা ১৭ ম্যাচে জয় পেয়েছে ১১টি আর ড্র ৬টি অর্থাৎ কোন ম্যাচ হারে নি এখন পর্যন্ত। এই ম্যাচগুলোয়আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের জালে বল ফেলেছে ২৭ বার। আর তাদের নিজেদের জালে বল ছুঁয়েছে ৮বার। ল্যাটিন অঞ্চলের বিশ্বকাপবাছাইয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ সাতটি করে গোল হাঁকিয়েছেন লিওনেল মেসি আর লাউতেরো মার্টিনেজ। আনহেল ডিমারিয়া আর নিকোলাস গঞ্জালেজ পেয়েছেন তিনটি করে গোলের দেখা।

 

আর্জেন্টিনার বড় তারকা মেসিইঃ

কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলের সবচেয়ে বড় তারকা অবশ্যই লিওনেল মেসি। যদিও আজীবনের ক্লাব বার্সেলোনা ছেড়েফ্রান্সের পিএসজিতে যোগ দেয়ার পর ২০২১-২২ মৌসুম একেবারেই ভাল যায় নি তার। সব মিলিয়ে ৩৪ ম্যাচে তার গোলের সংখ্যামাত্র ১১টি, যার মধ্যে লীগ ওয়ানে করেছেন ছয়টি গোল, এসিস্ট ১৪টি। ২০০৫-০৬ মৌসুমের পর এত কম গোল আর কখনওকরেন নি মেসি। তবে বিশ্বকাপের আগে ২০২২-২৩ মৌসুমে দারুণ ছন্দে ‘খুদে যাদুকর’। পিএসজির হয়ে সব মিলিয়ে ১৬ ম্যাচেতাঁর গোলের সংখ্যা ১১টি।  এছাড়া দেশের হয়ে সাম্প্রতিক সময়ে তার ফর্ম অন্য সময়ের সাথে পার্থক্য করার মত। বিশ্বকাপবাছাইয়ে দলের হয়ে যৌথ সর্বোচ্চ সাতটি গোল আর সর্বশেষ কোপা জয়ে পাঁচ গোল করে রেখেছেন বড় ভূমিকা। হয়েছেনআসরের সেরা খেলোয়াড় আর সেরা গোলদাতা। ২০২২ সালে মাত্র ৬ ম্যাচেই পেয়েছেন ১০ গোল। দেশের হয়ে ১৬৪ ম্যাচে তারগোলের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৯০টি, আর সর্বকালের আন্তর্জাতিক গোলদাতা তালিকায় আছেন পাঁচ নাম্বারে। ব্যালন ডি অর আরইউরোপিয়ান গোল্ডেন শ্যু জয়ে রেকর্ড গড়া মেসি ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে জিতেছেন গোল্ডেন বল। ১৪বার আর্জেন্টিনারবর্ষসেরা হওয়া মেসি কাতার যাচ্ছেন বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে। ক্লাবের হয়ে ৩৫টি শিরোপা জিতলেও দেশের হয়ে জিতেছেনকেবল কোপা আমেরিকা আর এক ম্যাচের লা ফিনালিসিমা। ক্লাব ফুটবলে সাতশোর বেশী  গোল করা মেসির দিকে তাকিয়েথাকবে ভক্তরা সন্দেহ নেই। দেশের হয়ে বড় ম্যাচে নিজেকে সেভাবে প্রমাণ করতে না পারা মেসি সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ খেলতেযাচ্ছেন কাতারে। নিজের নামের পাশে থাকা সেই অপবাদ তিনি কতটুকু ঘোচাতে পারেন সেটা জানা যাবে নভেম্বর-ডিসেম্বরেই।

 

ভরসা সেই ডি মারিয়াঃ

আনহেল ডি মারিয়াকে বলা যায় আর্জেন্টিনা দলের ‘আনসাং হিরো’। যিনি বিশেষ করে বড় ম্যাচে আর্জেন্টিনার সেরা তারকাহয়েই নিজেকে প্রমাণ করে গেছেন বারবার। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ডি মারিয়ার দেয়া একমাত্র গোলে সুইজারল্যান্ডকে নকআউট করে আর্জেন্টিনা। পরের ম্যাচেও বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি এসিস্ট করেন গঞ্জালো হিগুইনেরগোলে। তবে সেমি ফাইনাল আর ফাইনালে খেলতে পারেন নি ডি মারিয়া। অনেকেই মনে করেন, ফাইনালে এই তারকা ফুটবলারথাকলে মেসিদের হাতেই উঠত বিশ্বকাপ শিরোপা। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের নক আউট পর্বেও ফ্রান্সের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক গোলেসমতা এনে দিয়েছিলেন ডি মারিয়া। আবার ২০২১ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে তার একমাত্র গোলেইকাটে আর্জেন্টিনার ২৮ বছরের শিরোপা দুঃস্বপ্ন।সবশেষ লা ফিনালিসিমা ম্যাচেও দুর্দান্ত এক গোল আচ্ছে তাঁর। হিসেবে দেখাগেছে, নক আউট পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ডি মারিয়া সব সময়েই আর্জেন্টিনার সেরা অস্ত্র। এখন পর্যন্ত দেশের হয়ে ৩৪ বছরবয়সী উইঙ্গার খেলেছেন ১২৩ ম্যাচ ম্যাচ, করেছেন ২৫ গোল। কাতারে তিনি খেলতে চলেছেন নিজের ক্যারিয়ারের চতুর্থ আরশেষ বিশ্বকাপ। বেনফিকা, রিয়েল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর পিএসজির মত বড় দলের অভিজ্ঞতায় ডি মারিয়াআর্জেন্টিনা দলের অন্যতম বড় তারকা। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগে মেসি আর রোনালদোর পর সবচেয়ে বেশী (৩২) এসিস্ট তারনামের পাশে। কাতারে সাফল্য পেতে ডি মারিয়ার কাছ থেকে সেরাটাই চাইবে আর্জেন্টিনা।

 

রক্ষণে আছে নির্ভরতাঃ

রক্ষণে ওটামান্ডির আছে দুইটি বিশ্বকাপ আর চারটি কোপা খেলার অভিজ্ঞতা। ৩৪ বছরের এই সেন্টার ব্যাক খেলেছেন দেশেরহয়ে ৯২ ম্যাচ, করেছেন চার গোল। ক্লাব ফুটবলে পোর্টো, ভ্যালেন্সিয়া, এথলেটিকো মাদ্রিদ (লোন) আর ম্যান সিটি হয়ে সর্বশেষমৌসুমে খেলেছেন বেনফিকায়। রক্ষণে ইদানিং আর্জেন্টিনার হয়ে আলো ছড়াচ্ছেন নাহুয়েল মলিনা। ২০২১ সালে দেশের হয়েকোপা আমেরিকা জিতেছেন। খেলেছেন ১৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। কাতার বিশ্বকাপেও তার অন্তর্ভুক্তি অনেকটাই পাকা। ইটালিরক্লাব উদিনিসেতে বর্তমানে আছেন তিনি।

 

এ দিকে দিন দিন আর্জেন্টিনা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছেন নিকোলাস তাগলিয়াফিকো। ২৯ বছরের এই লেফট ব্যাকদেশের হয়ে খেলছেন ২০১৭ সাল থেকে। জিতেছেন ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা। আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার আন্তর্জাতিকম্যাচের সংখ্যা ৪২টি। ২০১৭-১৮ মৌসুম থেকে ইউরোপে আসা এই ফুটবলার রয়েছেন ডাচ ক্লাব আয়াক্সে।

গারম্যান পাজেল্লা ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ প্রাথমিক স্কোয়াডে ছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত ২৩ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াডে তাকেরাখেন নি কোচ সাম্পাওলি। তবে স্কোলানির স্কোয়াডে অনেকটাই নিয়মিত তিনি। এমনকি ২০১৯ সালের মার্চে মরক্কোর বিপক্ষেফ্রেন্ডলি ম্যাচে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশের হয়ে খেলেছেন  ৩১ ম্যাচ, গোল দুইটি।

 

ক্রিস্টিয়ান রোমেরো সেন্টার ব্যাক পজিশনের খেলোয়াড়। ছিলেন ২০২১ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষেপ্রথম একাদশে। দেশের হয়ে ১২ ম্যাচে একটি গোল করেছেন। ২০২১ সালেই আর্জেন্টিনার হয়ে অভিষেকের পর দলে নিয়মিত।২৪ বছরের এই তারকা সর্বশেষ মৌসুমে ধারের খেলোয়াড় হিসেবে খেলেছেন ইংল্যান্ডের বড় ক্লাব টটেনহ্যামে। পুরো মৌসুমেক্লাবের হয়ে ৩০ ম্যাচে মাঠে নেমে দিয়েছেন আস্থার প্রতিদান।

লেফট ব্যাক পজিশনে স্কোলানির মুল আস্থায় আছেন মার্কোস আকুইনা। দেশের হয়ে ইতোমধ্যে ৪২  ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে।২০২০-২১ মৌসুম থেকে খেলছেন স্পেনের অন্যতম ক্লাব সেভিয়ায়। সর্বশেষ মৌসুমে মাঠে নেমেছেন ৪০টি ম্যাচে।

রাইট ব্যাক পজিশনে গঞ্জালো মন্টিয়েল ২০১৯ সালে অভিষেকের পর জাতীয় দলের জার্সিতে খেলছেন ১৭ ম্যাচ। ব্রাজিলেরবিপক্ষে কোপা আমেরিকার ফাইনালে মাঠে ছিলেন পুরো সময়। সেভিয়ার হয়ে সর্বশেষ মৌসুমে নেমেছেন ২৮ ম্যাচে। চলতিমৌসুমেও স্প্যানিশ ক্লাবের নিয়মিত সদস্য ।

 

মধ্যমাঠে আছে আস্থা আর বৈচিত্র্যঃ

আর্জেন্টিনার মধ্যমাঠে চিরকালীন ভাবেই বিশ্ব ফুটবলে সেরাদের সেরারা খেলেছেন। দিয়াগো ম্যারাডোনার হিসেব তো আলাদাইএছাড়া আর্জেন্টিনার মধ্যমাঠে খেলছেন হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন, দিয়াগো সিমিওনে, হাভিয়ের মাশ্চেরানো, ড্যানিয়েল বার্তোনি, রেনে হাউসম্যান, রোডোন্ডো, হাভিয়ের জানেত্তি, রিকুয়েলমে, সার্জিও বাতিস্তার মত তারকা। যারা নিজ নিজ সময়ের সেরাতারকাদের কাতারে ছিলেন সব সময়েই। বর্তমানে আর্জেন্টিনার মধ্যমাঠে রদ্রিগো ডিপল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, অ্যালেক্সিসম্যাকঅ্যালিস্টার, গুইডো রদ্রিগেজ, আলেজান্দ্রো গোমেজ, এনজো ফার্নান্দেজ, এক্সকুয়েল প্যালাসিওস মত খেলোয়াড় আছেন।যারা অনেকেই বয়সে তরুণ আর প্রতিভাবান। ডি পল বর্তমান সময়ের অন্যতম আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার। তার মধ্যে রয়েছে‘বক্স টু বক্স’ মিডফিল্ড জেনারেলের গুণ। দিতে পারেন প্রতিপক্ষের সর্বনাশ ঘটিয়ে দেয়া লম্বা ফাইনাল পাস। সর্বশেষ মৌসুমেএথলেটিকো মাদ্রিদের মধ্যমাঠের নেতৃত্ব দিয়েছেন। খেলছেন ৪৮ ম্যাচ আর করেছেন চার গোল। মধ্যমাঠের খেলোয়াড় হিসেবেক্লাব ক্যারিয়ারে ৪৭টি গোলের মালিক তিনি। ২৮ বছর বয়সী এই তারকা দেশের হয়েও ৪৩ম্যাচে গোল করেছেন দুইটি। ২০২১সালে আর্জেন্টিনার হয়ে কোপা আমেরিকা জেতা এই ফুটবলার ছিলেন আসরের সেরা একাদশে। কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাদলের মধ্যমাঠ সামাল দেবার মুল দায়িত্ব থাকবে ডি পলের কাঁধেই।

লিয়েন্দ্রো পারাদেস খেলেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডারের ভুমিকায়। আর্জেন্টিনার হয়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণ শুরুতেই নস্যাৎ করেনিজেদের আক্রমণের শুরুটা দারুণভাবে করার ক্ষমতা রাখেন। ২৭ বছরের পারাদেস দিন দিন আরও ক্ষুরধার হচ্ছেন। তিনিদেশের হয়ে ইতোমধ্যে খেলেছেন ৪৫  ম্যাচ , করেছেন চারটি গোল। সর্বশেষ মৌসুমে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইয়ের হয়ে মাঠে নেমেছেন২২ ম্যাচে। চলতি মৌসুমে ধারে জুভেন্টাসের হয়ে খেলছেন নিয়মত।

গুইডো রদ্রিগেজ ২০২১ সালে আর্জেন্টিনার হয়ে কোপা আমেরিকা জয়ে ভুমিকা রেখেছেন। উরুগুয়ের বিপক্ষে সেই আসরেইকরেছেন নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক গোল। আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার ম্যাচের সংখ্যা ২৫টি। ২০২১-২২ মৌসুমে রিয়েল বেটিসেরহয়ে দুর্দান্ত খেলেছেন রদ্রিগেজ।নেমেছেন ৪৭ ম্যাচে , গোল করেছেন দুইটি আর এসিস্ট তিনটি। বেটিসের হয়ে জিতেছেন কোপাডেল রে।

 

আক্রমণ ভাগ দারুন শক্তিশালীঃ

আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ নিয়ে খুব বেশী চিন্তার কিছু নেই স্কোলানির। বরং যে দলে মেসি আর ডি মারিয়া খেলেন, তাদেরকেসব সময় আলাদা হিসেবে রাখবেই যে কোন প্রতিপক্ষ। এছাড়া আছে পাওলো দিবালা। অসম্ভব প্রতিভাবান এই ফুটবলারকে একসময় মনে করা হত মেসির ভবিষ্যৎ বিকল্প। এখনো সেই চিন্তা থেকে সরে আসার কোন কারণ ঘটে নি। অল্প জায়গার মধ্যে বলবের করে আনা, ড্রিবলিং, বক্সের বাইরে থেকে আচমকা শটে গোল করার মত ক্ষমতা আছে তার। বক্সের মধ্যেও দারুণবিপজ্জনক। ইতোমধ্যে ক্লাব ক্যারিয়ারের ২৯৩ ম্যাচে ১১৫ গোল পাওয়া হয়ে গেছে দিবালার। জুভেন্টাসের হয়ে ইটালিয়ান লীগে২০১৯-২০ মৌসুমে জিতেছেন মোস্ট ভ্যালুয়েবল এ্যাওয়ার্ড। ২০১৬-১৭ মৌসুমে দলকে নিয়ে গেছেন চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে।নক আউট পর্বে মেসির বার্সেলোনাকে বিদায় নিতে হয় দিবালার অতিমানবিক পারফর্মেন্সের কাছে নতি স্বীকার করে। সর্বশেষমৌসুমেও ক্লাবের হয়ে ৩৯ ম্যাচে ১৫ গোল করেছেন। দিবালা মুলত লেফট উইঙ্গার হলেও খেলতে পারেন প্রধান স্ট্রাইকার হিসেবে।কিংবা এটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবেও। তবে মেসির খেলার ধরণ আর পজিশনের সাথে মিলে যাওয়ায় সেভাবে জাতীয় দলেরহয়ে মাঠে নামার সুযোগ হয় নি। কারণ মেসি তার পজিশনে কিছু সীমাবদ্ধতা স্বত্বেও বিশ্বসেরা। ২০১৫ সালে প্রথম সুযোগপাওয়ার পর জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন মাত্র ৩৪  ম্যাচ। আছে তিনটি  গোল। তবে বয়স মাত্র ২৮ বলে আন্তর্জাতিক ফুটবলেনিজের সেরাটা দেয়ার অনেক সময় এখনও আছে তার।

লাউতারো মার্তিনেজ এই মুহূর্তে আর্জেন্টিনা দলের প্রধান স্ট্রাইকার। আগুয়েরো আর হিগুইনদের পর তিনি এখন জাতীয় দলেনিয়মিত। স্ট্রাইকার পজিশনে স্কোলানির প্রথম প্রছন্দ মার্তিনেজ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ৪০টি আর গোল ২১টি। সর্বশেষকোপা আমেরিকায় মেসির পরেই দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তিন গোল করেছেন। ল্যাটিন আমেরিকার বাছাইয়ে আর্জেন্টিনারপক্ষে তার গোলের সংখ্যা ৭টি। মেসির সাথে সর্বোচ্চ। মেসির চেয়ে খেলেছেন এক ম্যাচ কম। মেসির দুইটি পেনাল্টি গোলথাকলেও মার্তিনেজের কোন পেনাল্টি গোল ছিল না। ইন্টার মিলানের হয়ে সর্বশেষ মৌসুমে সব মিলিয়ে ৪৯ ম্যাচে ২৫ গোলকরেছেন, এসিস্ট চারটি।

 

আর্জেন্টিনার আছে একজন স্কোলানিঃ

২০১৮ সালের বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর দায়িত্ব হারান জর্জ সাম্পাওলি। আর্জেন্টিনার নতুন কোচ হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়লিওনেল স্কোলানির নাম। যদিও সংশয় ছিল, ক্রমাগত ব্যর্থতায় থাকা একটি দলকে তিনি কতটুকু উদ্ধার করতে পারবেন! তবেদায়িত্ব নেয়ার চার বছর পর দেখা যাচ্ছে, আর্জেন্টিনাকে তিনি পরিনত করেছেন বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় এক দলে। রাশিয়াবিশ্বকাপের পর অপেক্ষাকৃত নতুনদের নিয়ে একের পর এক পরীক্ষায় অনেকটাই সফল এই কোচ। তার অধীনে আর্জেন্টিনাজিতেছে কোপা আমেরিকা আর লা ফিনালিসিমা। বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনা শিরোপার অন্যতম দাবীদার। জাতীয় দলের কোচহিসেবে এখন পর্যন্ত ৪৯ ম্যাচে ৩৩ জয়ের দেখা পেয়েছেন স্কোলানি। ড্র.১২ টি আর হার  ৪টি। সবচেয়ে বড় কথা, তার অধীনেআর্জেন্টিনা সর্বশেষ ৩৫ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়েছে। লিওনেল স্কোলানি সবচেয়ে বড়গুণ তিনি খেলার ধারাঅনুযায়ী দলের ফর্মেশন পরিবর্তন করতে পারেন। কখনও ৪-৩-৩ আবার কখনও ৪-৩-২-১ বা ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে দলকেউদ্বুদ্ধ করেন।

 

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্কোয়াড:

গোলরক্ষক : এমিলিয়ানো মার্টিনেজ, জেরোনিমো রুলি, ফ্রাঙ্কো আরমানি।

ডিফেন্ডার : নাহুয়েল মোলিনা, গঞ্জালো মন্টিয়েল, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, জার্মান পেজেলা, নিকোলাস ওটামেন্ডি, লিসান্দ্রোমার্টিনেজ, মার্কোস অ্যাকুনা, নিকোলাস ট্যাগলিয়াফিকো, জুয়ান ফয়েথ।

মিডফিল্ডার : রদ্রিগো ডিপল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, অ্যালেক্সিস ম্যাকঅ্যালিস্টার, গুইডো রদ্রিগেজ, আলেজান্দ্রো গোমেজ, এনজোফার্নান্দেজ, এক্সকুয়েল প্যালাসিওস।

ফরোয়ার্ড : আনহেল ডিমারিয়া, লাউতারো মার্তিনেজ, জুলিয়ান আলভারেজ, পাওলো দিবালা, নিকোলাস গঞ্জালেজ, জোয়াকিন কোরেয়া, লিওনেল মেসি।

 

উপসংহারঃ

১৯৮৬ সালের পর আর্জেন্টিনা আর কখনও বিশ্বকাপ জেতে নি। যদিও সেই বিশ্বকাপ জয়ে আছে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’ কলংক। আর ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপ নিয়ে এখনও গর্ব করার মতো কিছু খুঁজে পায় না খোদ আর্জেন্টিনার ভক্তরা। সেইকারণেই তাদের প্রত্যাশা, মেসিরা অন্তত একটি বিশ্বকাপ জিতুক নিজেদের সামর্থ্যে। যেখানে থাকবে না কোন  ‘কালিমা’।আর্জেন্টিনার এক নাম্বার ফরওয়ার্ড হিসেবে বিশ্বকাপে নামার জন্য প্রস্তুত মার্তিনেজ। বয়স মাত্র ২৩ বলে তার সামনে রয়েছেল্যাটিন আমেরিকার অন্যতম সেরা ফরওয়ার্ড হিসেবে বিশ্ব শাসনের সম্ভাবনা।

২৭ বছরের আনহেল কোরেয়া দেশের পক্ষে খেলেছেন ২২  ম্যাচ। করেছেন তিনটি গোল। ২০১৪-১৫ মৌসুম থেকে আছেনএথলেতিকো মাদ্রিদে। সর্বশেষ লা লিগায় ১২ গোল করে দেখিয়েছেন নিজের দক্ষতা। এসিস্ট আছে পাঁচটি।উচ্চতায় আগুয়েরোরমত হলেও খেলার স্টাইলের কারণে অনেকে কোরেয়ার সাথে কার্লোস তেভেজের মিল খুঁজে পান। ফার্স্ট টাচ ফুটবলে দক্ষ এইফরোয়ার্ডের রয়েছে দারুণ পজিশন সেন্স। তিনি স্কোলানির ভাণ্ডারের অন্যতম অস্ত্র । যাকে বিপদের সময় ব্যবহার করতে পারেনকোচ।

 

আবু জাফর শিহাব(এল এল বি

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.