সিলেটে গণসমাবেশ সফল করতে বিএনপির ছয় কমিটি

facebook sharing button
messenger sharing button
whatsapp sharing button
twitter sharing button
linkedin sharing button
print sharing button

বিভাগীয় গণসমাবেশগুলোয় নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়ায় বিএনপি সিলেটের গণসমাবেশ ঘিরে সতর্কাবস্থান অবলম্বন করছে। কেন্দ্রীয় নেতারা ঘন ঘন ভার্চুয়ালি কথা বলছেন।

নানা সংশয়, আশঙ্কা মাথায় রেখে কর্মসূচির প্রতিটি স্তরে বিকল্প চিন্তা রাখা হচ্ছে। যে কোনো পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক বিকল্প করণীয় আগে থেকেই নির্ধারণ করে রাখা হচ্ছে। যাতে গণসমাবেশ পণ্ড করে দিতে না পারে। সমস্যা থেকে উত্তরণে নানা পন্থাও বের করছে বিএনপি।

গণসমাবেশ সফলে স্থানীয় নেতাদের নিয়ে ছয়টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলোকে কেন্দ্রীয় নেতারা সার্বক্ষণিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল মঈন খান ও দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।

দু-এক দিনের মধ্যে বিভাগজুড়ে মাইকিং শুরুর ব্যাপারে শনিবার আলোচনা হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও স্থানীয় একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে এসব কথা জানা গেছে।

গণসমাবেশ সফলের দায়িত্বে থাকা এক নেতা যুগান্তরকে জানান, সিলেটেও সমস্যার সৃষ্টি হবে-ধরে নিয়েই তারা সমাবেশের আয়োজন করছেন। আর এজন্য ‘মুশকিল আসান’ হিসাবে সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরিফ অত্যন্ত কৌশলী। চাইলে সমাবেশের দুদিন আগেই তিনি নগরীতে লক্ষাধিক মানুষকে ঠাঁই দিতে পারেন।

সমাবেশের জন্য জনতার উপস্থিতিই প্রথম ও প্রধান নিয়ামক। গণসমাবেশে চার লাখ মানুষের উপস্থিতি নিশ্চিত করার টার্গেট নিয়ে প্রচারণা জোরদার করেছে বিএনপি। বিভাগীয় সমাবেশ ঘিরে কৃত্রিম পরিবহণ ধর্মঘট আহ্বান, লোক সমাগমে কৌশলী বাধার ব্যাপারে বিএনপি এখন সতর্ক।

ছয়টি কমিটির ব্যাপারে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, কমিটিগুলোতে ছয়জনকে আহ্বায়ক করা হলেও জেলা, উপজেলা, নগরীর ওয়ার্ড কমিটিসহ নেতৃস্থানীয় সবাইকে কমিটিগুলোতে রাখা হয়েছে। কমিটিগুলোর মধ্যে ‘আবাসন ব্যবস্থাপনা’ কমিটিতে আহ্বায়কের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরকে করা হয়েছে ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা কমিটির আহ্বায়ক। ‘প্রচার ও মিডিয়া’ কমিটিতে আমি সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী আছি। ‘অভ্যর্থনা’ কমিটিতে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল কাইয়ুম জালালী, ‘আপ্যায়ন’ কমিটিতে মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন এবং ‘দপ্তর কমিটি’তে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ূন কবির শাহীনকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।

এসব কমিটিতে রয়েছেন-বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী, সিলেট বিভাগের দায়িত্বরত বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হাসান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ, ক্ষুদ্রঋণ বিষয়ক সহ-সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী ও মিজানুর রহমান চৌধুরী, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি নাসের রহমান, হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জিকে গৌছ, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকী।

শনিবার সিলেট নগরীর কানিশাইল এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ করেন বিএনপি নেতারা। মহানগর ১০নং ওয়ার্ড বিএনপির এ প্রচারণায় নেতৃত্ব দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইন, বিএনপি নেতা আলি হোসেন বাচ্চু, সাইদুর রহমান বুদুরি, শেখ মঈন উদ্দিন, ১০নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমদ, ১২নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান আরাফাত চৌধুরী জাকির, ৮নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ পাঠান, জাসাস নেতা শামীম আহমদ প্রমুখ।

নগরীর লামাবাজার, জিন্দাবাজার, রিকাবীবাজার এলাকায় লিফলেট বিতরণ করা হয় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সিলেট মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাউন্সিলার রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাউন্সিলার সৈয়দ তৌফিকুল ইসলাম হাদী, ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নিহার রঞ্জন দে ও সাধারণ সম্পাদক মামুন ইবনে রাজ্জাক রাসেল প্রমুখ।

সমাবেশ সফলে সিলেট সদর উপজেলার টুকেরবাজার ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রচার মিছিল ও লিফলেট বিতরণ করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন-সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম, সিনিয়র সহসভাপতি আবদুর রহমান, সহসভাপতি জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক শহিদ আহমদ চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি একেএম তারেক কালাম, সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আলিউর রহমান আলী, মিনহাজ আহমদ, আবদুল আহাদ রানা, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল আহাদ লিমন, এনাম হোসেন শিপন, আবদুস সালাম, জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক আলী আব্বাস, সদর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দিলোয়ার হোসেন সায়েম, শিপন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ফজল আহমদ রানা, কান্দিগাঁও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি আসিফ মো. আজিম, জালালাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীর আহমেদ তারেক। সুত্র, যুগান্তর ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.