জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক শীর্ষ সম্মেলন কপ-২৭’র পর্দা নামছে আজ। জলবায়ু সংকট থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে ৬ নভেম্বর থেকে ১৯৬টি দেশের অন্তত ৪৫ হাজার প্রতিনিধি জড়ো হয়েছেন মিসরের নয়নাভিরাম শারম আল-শেখে।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল চলতি শতাব্দীর মধ্যে বিশ্বের তাপমাত্রা যাতে আরও দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস না বাড়ে, অর্থায়ন, অভিযোজন তহবিল, অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি তহবিল, বিশ্বব্যাংক সংস্কার ও আফ্রিকার গ্যাস উত্তোলন।
অন্য বিষয়গুলোর অগ্রগতি সামান্য হলেও বিশ্বের তাপমাত্রা দেড় ডিগ্রিতেই রাখার ব্যাপারে ইতমধ্যে একটি খসড়া চুক্তিও হয়েছে। বৃহস্পতিবার কপ-২৭ সাম্মেলনের প্রথম খসড়া চুক্তিটি প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের জলবায়ু সংস্থা। রয়টার্স।
যদিও খসড়া চুক্তিটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করেছে দরিদ দেশগুলো। বলছে, জলবায় সৃষ্ট ঝড়, খরা এবং বন্যায় ক্ষতি মোকাবিলায় তহবিল ঘাটতি পূরণে ব্যর্থ এ খসড়া চুক্তি।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে এবারের সম্মেলনের প্রেসিডেন্ট সামেহ শোউকরি বুধবার তারিখ উল্লেখ করা বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক চিঠিতে আলোচকদের উদ্দেশে মতভেদ কাটিয়ে আলোচানার গতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। প্রতিনিধিদের উদ্দেশে সামেহ বলেন, ‘সময় আমাদের পক্ষে নেই, আসুন আমরা এখনই একত্রিত হই এবং শুক্রবারের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাই।’
প্রত্যাশিত চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ২০ পৃষ্ঠার খসড়াটিতে গত বছর গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত কপ-২৬ এর বৈশ্বিক তাপমাত্রা দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পুনরাবৃত্তি করা হয়। চুক্তিতে ‘নিরবচ্ছিন্ন কয়লা বিদ্যুতের ব্যবহার ধীরে ধীরে বা পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার পদক্ষেপ ত্বরান্বিত করতে এবং অকার্যকর জীবাশ্ম জ্বালানি ভর্তুকি যুক্তিযুক্ত করতে বা পর্যায়ক্রমে বন্ধ করতে’ বলা হয়েছে।
এই খসড়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য তহবিল গঠনের বিস্তারিতও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোসহ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হুমকির মুখে থাকা অধিকাংশ দেশের প্রধান দাবি ছিল এটি। সম্মেলনের কার্যসূচিতে ‘ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রে সাড়া দিতে তহবিল ব্যবস্থাসংক্রান্ত বিষয়াদি’ অন্তর্ভুক্ত করতে প্রথমবারের মতো পক্ষগুলোর সম্মত হওয়ার বিষয়টিকে ‘স্বাগত’ জানানো হয়েছে। তবে এই নথিতে ‘প্যারিস চুক্তির তাপমাত্রা লক্ষ্য অর্জনের জন্য সব স্তরে সব প্রচেষ্টা চালানোর গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া’ হয়েছে।

