‘খাদ্য ও জ্বালানিসহ ৭ সংকটের মুখে বাংলাদেশ’

বিশ্ব মহামন্দায় বাংলাদেশ খাদ্য ও জ্বালানিসহ সাতটি সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে ‘বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আভাস ও বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ উত্তরণ কোন পথে?’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।

সিপিডি বলছে, বিশ্ব মহামন্দায় বাংলাদেশকে ডলার, জ্বালানি, খাদ্য, মূল্যস্ফীতি, ইউক্রেন, করোনাভাইরাস এবং জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, এসব সংকটের মধ্যে ডলার, জ্বালানি, খাদ্য ও মূল্যস্ফীতি সংকটের কারণে অন্যান্য সংকটগুলো আরও ঘনীভূত হচ্ছে। সার্বিকভাবে এই সাতটি সংকট আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ঐতিহাসিকভাবেই ঊর্ধ্বগতিতে রয়েছে। বিভিন্ন দেশে প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক দিকে রয়েছে। আমরাও সেই প্রভাব অনুভব করছি। আন্তর্জাতিক পণ্যের পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত পণ্যেরও দাম বেশি। ফলে খাদ্য সংকটেরও আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) পৃথিবীর ৪৫টি দেশে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা করছে। এই তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে।

সিপিডি’র গবেষণা বলছে, ঢাকায় চার সদস্যের একটি পরিবারের অত্যাবশ্যকীয় সব খাদ্যসহ সার্বিক খরচ ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে ছিল ১৭ হাজার ৫৩০ টাকা, যা ২০২২ সালের ১৬ অক্টোবরে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৪২১ টাকা। অপরদিকে মাছ ও মাংস বাদ দিয়ে কম্প্রোমাইজ ডায়েট হিসেবে চার সদস্যের পরিবারের ন্যূনতম খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৫৯ টাকা। যা ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি ছিল ৬ হাজার ৫৪১ টাকা। অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের ওপর আমদানি শুল্কের হার কমাতে পারলে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমে আসতো বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, সিনিয়র রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খানসহ অনেকে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.