বিরোধী রাজনৈতিক দলের ‘জাতীয় ঐক্য’ গড়তে সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনে ঐক্যমত হয়েছে গণফোরাম-বিএনপি।
মঙ্গলবার বিকেলে মোস্তফা মোহসিন মন্টুর নেতৃত্বাধীন গণফোরামের সাথে দেড় ঘণ্টা সংলাপ শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একথা জানান।
তিনি বলেন, গণফোরামের সাথে আলোচনা করে আামাদের এই বিশ্বাস জন্মেছে যে, সকল রাজনৈতিক দলগুলো একমত হবে এই যে, ভয়াবহ দানবীয় যে সরকার আছে যারা আমাদের সকল অর্জনকে ধবংস করে দিচ্ছে তাকে সরিয়ে আমরা জনগণের একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করব এবং একটা পার্লামেন্ট তৈরি করব- এই ব্যাপারে আমরা একমত হতে হয়েছি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই বৈঠকে গণতন্ত্রের নেত্রীর বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, ৩৫ লাখ নেতা-কর্মীর মামলা প্রত্যাহার, নির্বাচনকালীন সময়ে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করা, সব দলের মতামতের ভিত্তিতে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করা এবং সেই কমিশনের পরিচালনায় সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য, সকলের অংশগ্রহণমূলক একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।
সেই নির্বাচনের পরে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের জাতীয় সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে দেশে যে অব্যবস্থা রয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধবংস করা হয়েছে সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে তৈরি করার ব্যাপারে অর্থাৎ রাষ্ট্রকে সংস্কার করার জন্য আমরা একটা প্রস্তাবও দিয়েছি। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের মধ্য দিয়ে আমরা এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে পরাজিত করে সত্যিকার অর্থেই একটা জনগণের সরকার গঠন করতে চাই, যেখানে জনগণের মালিকানা থাকবে একটি সুষ্ঠু অবাধ গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।
সংলাপে গণফোরামের সভাপতি মোস্তফা মোহসিন মন্টু ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন নির্বাহী সহসভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ, মহিউদ্দিন আব্দুল কাদের, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সভাপতি পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আনসার খান ও অ্যাডভোকেট ফজলুল হক সরকার ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান ফারুক।
সরকার বিরোধী আন্দোলনে বৃহত্তর প্ল্যাটফর্ম গড়তে তুলতে বিএনপি গত ২৪ মে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপ শুরু করে। এই পর্যন্ত ১৮টি দলের সাথে সংলাপ শেষ করেছে তারা।
এগুলো হচ্ছে- আসম আবদুর রবের জেএসডি, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, সাইফুল হকের বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও জোনায়েদ সাকির গণসংহতি আন্দোলন।

