৫৩ অভিবাসীর মৃত্যু, চালক জানতেনই না এসি চলছে না!

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে একটি লরির ভেতর ৫৩ জনের লাশ পাওয়া যায়। উদ্ধার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন নিহতদের সবাই অভিবাসন প্রত্যাশী ছিলেন।

তারা কীভাবে মারা গেছেন, মূল কারণ উঠে না আসলেও অবাক করা একটি তথ্য প্রকাশ করেছেন তদন্তকারীরা। তারা বলছেন, ওই লরির চালক জানতেনই না বাহনটির এসি কাজ করছে না!

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। এতে বলা হয়, এসি কাজ না করার বিষয়টি নাকি লরি চালনার সময় বোঝেননি হোমেরো জামোরানো নামে ওই চালক । ফেডারেল কোর্টে দেওয়া অভিযোগপত্রে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে, ৫৩ জনের নিহতের ঘটনাটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ অভিবাসন দুর্ঘটনা আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

খবরে আরও বলা হয়, লরি চালক হোমেরো জামোরানোকে আটক করার আগে তিনি সেটির পাশে লুকিয়ে ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে মারাত্মক মানবপাচারের ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে হোমেরো জামোরানো অন্যতম। দুর্ঘটনার ব্যাপারে যে চারজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে তাদের একজনও জামোরানো।

গত ২৭ জুন টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে লরিটি খুঁজে পাওয়া যায়। এর পূর্বাপর ক্রিস্টিয়ান মার্টিনেজ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে কথা বলেন জামোরানো। লরি ও মরদেহ পাওয়ার পরও তাদের মধ্যে কথা হয়েছিল বলে জানান ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট কর্তৃপক্ষ এবং টেক্সাস পুলিশের সঙ্গে কর্মরত এক সরকারি তথ্যদাতা।

আদালতের নথি অনুযায়ী, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি জামোরানো জানতেন না বলে ওই তথ্যদাতাকে জানিয়েছেন মার্টিনেজ। এ কারণেই ৫৩ অভিবাসন প্রত্যাশীর মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আরও কিছু তথ্য পাওয়া যায়। যাবতীয় তথ্য প্রমাণ হলে জামোরানো ও মার্টিনেজ দুজনেরই মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।

লরিতে নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। ৪২ জনের ‘সম্ভাব্য পরিচয়’ জানা গেছে। পরিচয় পাওয়া যায়নি এমন ব্যক্তির সংখ্যা পাঁচ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.