সন্ত্রাসীদের গুলিতে বাবার কোলে থাকা শিশু নিহত

তুচ্ছ ঘটনার জেরে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে স্থানীয় রিমন বাহিনীর সন্ত্রাসীদের গুলিতে বাবার কোলে থাকা তিন বছরের শিশু নিহত হয়েছে। এতে শিশুটির বাবা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

বুধবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে উপজেলার ১৪নং হাজীপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মলকার বাপের দোকান এলাকায় ওই গুলি চালানো হয়।

এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিশুটি মারা যায়।

নিহত শিশুর নাম জান্নাতুল ফেরদাউস (৩)। আর গুলিবিদ্ধ তার বাবার নাম মাওলানা আবু জাহের (৩৭)। তিনি সৌদি প্রবাসী এবং উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের রাসাদ মিয়ার বাড়ির মৃত জানু সরদারের ছেলে।

অভিযুক্ত রিমন (২৫) একই উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের লক্ষীনারায়ণপুর গ্রামের দানিজ বেপারী বাড়ির মমিন উল্যার ছেলে।

হাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়রম্যান মো.শাহ আজিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রিমন এলাকার চিহিৃত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

নিহতের মামাতো ভাই ব্যবসায়ী আবদুল্যাহ আল মামুন অভিযোগ করে বলেন, গত কয়েক দিন আগে আমাদের বাড়ির আল আমিন নামে এক ব্যক্তি জমির মাটি বিক্রি করে সন্ত্রাসী রিমনের কাকা বাদশার কাছে। বাদশা ওই জায়গা থেকে ৬ ফিট মাটি কাটেন। এরপর আরও মাটি কাটতে গেলে আমাদের বাড়ির লোকজন তাকে বাধা দেন। কারণ, এভাবে মাটি কাটতে গেলে তাদের জায়গা ভেঙে পড়বে। একপর্যায়ে মাটি কাটতে বাধা দেওয়ার খবর পেয়ে সন্ত্রাসী রিমন ও তার সহযোগী রহিম, মহিন, সুজনসহ আরও কয়েকজন গত দুই দিন একাধিকবার আমাদের বাড়িতে এসে হুমকি-ধামকি দেয় এবং আমার গর্ভবতী ভাগ্নিকে পেটে লাথি দেয়। তাৎক্ষণিক বিষয়টি পুলিশকে জানালে, পুলিশ ওই নারীকে প্রথমে চিকিৎসা দিতে বলে।

মামুন অভিযোগ করে আরও বলেন, মাটি কাটার বিরোধের জের ধরে বুধবার বিকাল ৫টার দিকে সন্ত্রাসী রিমনের নেতৃত্বে তার বাহিনীর সক্রিয় সদস্য রহিম, মহিন, সুজনসহ ১০-১৫ জন অস্ত্রধারী মালকার বাপের দোকানে এলাকায় অবস্থিত আমার দোকানে এসে আমাকে গালিগালাজ করে। ওই সময় আমার মামা জাহের তার শিশু মেয়ে জান্নাতকে নিয়ে দোকানে আসেন চিপস আর চকলেট কিনে দেওয়ার জন্য। সন্ত্রাসী রিমন আমার মামাকে আমার দোকানে দেখে মামাকে গালমন্দ করে বলে, তোর শেল্টারে এরা এসব করছে। এ কথা বলার সাথে সাথে আমাদের উদ্দেশ্য করে গুলি ছোড়ে। এরপর মামা দোকান থেকে বের হয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করলে রিমন ও তার বাহিনীর সদস্যরা পেছন থেকে পুনরায় মামাকে লক্ষ্য করে গুলি করলে জান্নাতের কানে, মাথায় গুলি লাগে এবং মামার চোখে গুলি লাগে।

এরপর এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ৮টার দিকে জান্নাত মারা যায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বেগমগঞ্জ সার্কেল নাজমুল হাসান রাজিব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.