তাইজুল-খালেদে ভর করে প্রথম দিন শেষে স্বস্তিতে টাইগাররা

ঘরের মাঠ গেবেখায় বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে দারুণ অবস্থায় ছিল স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে দিনশেষে তাইজুল ইসলাম ও খালেদ আহমেদের দারুণ বোলিংয়ের সুবাদে ম্যাচে ফিরেছে টাইগাররা। প্রথম দিনশেষে সমতায় আছে দুই দলই।

গেবেখার (সাবেক পোর্ট এলিজাবেথ) সেন্ট জর্জেস পার্কে সিরিজ নির্ধারণী টেস্টে একাদশে দুই পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। তামিম-তাইজুল দলে আসেন তাসকিন ও সাদমানের বদলে। এদিন টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। দিনশেষে পাঁচ উইকেটে ২৮৪ রান করে স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের পক্ষে পাঁচ উইকেট ভাগাভাগি করে নেন তাইজুল ও খালেদ।

সকালে তৃতীয় ওভারে দারুণ এক সুযোগ সৃষ্টি করেন বাংলাদেশি পেসার খালেদ। দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার সারেল এরউইয়ের বিপক্ষে এলবির আবেদন করেন। তবে আম্পায়ার আদ্রিয়ান হোল্ডস্টক সেই ডাকে সাড়া দেননি। তবে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় রিভিউ নিলে নিশ্চিত আউট ছিল সেটি।

এরপর দুই প্রোটিয়া ওপেনার ডিন এলগার ও এরউই পঞ্চাশ রানের জুটি গড়েন। টাইগার পেসার খালেদ ব্যক্তিগত ২৪ রান করা এরউইকে লিটনের ক্যাচে পরিণত করলে ভাঙে ওপেনিং জুটি। দ্বিতীয় উইকেটে কিগান পিটারসেনকে নিয়ে আরেকটি পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটি গড়েন এলগার।

দারুণ ফর্মে থাকা প্রোটিয়া অধিনায়ক এদিন অর্ধশতক তুলে নেন। এ নিয়ে সিরিজে টানা তিন ইনিংসে ফিফটি পেলেন এলগার। দারুণ ব্যাটিং করা এলগারকে ফেরান তাইজুল। লিটনের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৮৯ বলে ১০ চারে করেন ৭০ রান।

অধিনায়ক ফিরলেও তৃতীয় উইকেটে পিটারসেন ও টেম্বা বাভুমা ৫১ রানের জুটি গড়ে স্বাগতিকদের ভালো অবস্থানে রাখেন। এই জুটিও ভাঙেন তাইজুল। এবার অবশ্য ডিআরএসের আশ্রয় নেওয়া লাগে টাইগারদের। ৬৪ রান করা পিটারসেনের বিপক্ষে এলবির আবেদন করলে শুরুতে সাড়া দেননি আম্পায়ার।

পিটারসেন ফিরলেও টানা চতুর্থ উইকেটে ফিফটির জুটি গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। টেম্বা ও রায়াল রিকেলটন দারুণ শেষ করার প্রত্যাশা দেখান। তবে ৮১ ওভারের সময় রিকেলটনের বিপক্ষে কট বিহাইন্ডের আবেদন তোলেন তাইজুল। এবারও শুরুতে টাইগারদের আবেদন নাকচ করে দেন আম্পায়ার মারাইস এরাসমাস। তবে আবারও ডিআরএসে সিদ্ধান্ত টাইগারদের পক্ষে আসে। ৪২ রান করা রিকেলটন ফিরে যান প্যাভিলিয়নে।

এর তিন ওভার পরে টেম্বা বাভুমাকে স্লিপে শান্তর অসাধারণ ক্যাচে পরিণত করে ম্যাচে বাংলাদেশকে ফেরান খালেদ। এই পেসারের লাফিয়ে ওঠা বল ৬৭ রান করা বাভুমার ব্যাটের কানায় লাগলে বামে ঝাপিয়ে তালুবন্দী করেন শান্ত।

দিনের বাকী ৬ ওভার সাবধানে কাটিয়ে দেন কাইল ভেরেইনা ও উইয়ান মুল্ডার। বাংলাদেশের পক্ষে তাইজুল ৭৭ রানে ৩ উইকেট নেন। এছাড়া খালেদ ৫৯ রানে নেন ২ উইকেট।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.