‘আর ভাঙা ঘরে থাকতে হবে না’

ইউক্রেনে ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজ রকেট হামলায় নিহত হাদিসুরের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

মৃত্যুর খবর পাওয়ার আগে সর্বশেষ বুধবার সকালে হাদিসুরের সঙ্গে কথা হয় পরিবারের। রাতেই খবর আগে রকেট হামলার। পরে গণমাধ্যমের খবরে হাদিসুরের মৃত্যুর খবর জানে পরিবার।

নিহত হাদিসুর রহমান আরিফ বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৩ ওয়ার্ডের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি ওই জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে। আরিফ সংসারের বড় ছেলে হওয়ায় পরিবার পরিচালনার দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মা-বাবা। ছেলের লাশ দেশে আনার জন্য সরকারের আকুতি জানিয়েছেন।

বুধবার (২ মার্চ) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে এ হামলায় জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বাকি ২৮ নাবিক এখনো অক্ষত আছেন বলে জানা গেছে।

হাদিসুরের নিহতের বিষয়টি জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট সাজিদ হুসাইন। নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে সাজিদ বলেন, ‘বাংলার সমৃদ্ধি’তে রকেট হামলা হয়েছে। এতে ওই জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. হাদিসুর রহমান মারা গেছেন। বাকিরা ভালো আছেন।

বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজটির মালিক জানতে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ঘটনার শোনার পর আমি বেশ কবার জাহাজের ক্যাপ্টেন নুর ই আলম সিদ্দিকীকে ফোনে চেষ্টা করেছি। কিন্তু জাহাজের ব্রিজে আগুন লাগায় এখন যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। ফলে নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না এখন জাহাজ এবং নাবিকদের অবস্থা কেমন। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

স্বজনদের সাথে কথা বললে তারা জানান, ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’ নামের জাহাজটিতে সাত বছর যাবৎ চাকরি করেন হাদিসুর রহমান আরিফ।

নিহত হাদিসুর রহমান আরিফের ছোট ভাই মো. তারেক বলেন, বুধবার সকালেও ভাই আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। ফোনে বলেন, ‘ভাই আমাদের আর ভাঙা ঘরে থাকতে হবে না। বাড়িতে এসেই যেভাবে হোক ঘরের নির্মাণ কাজ ধরব। ‘

তারেক আরও বলেন, আমার বাবা বাকরুদ্ধ হয়ে বসে আছেন, মা বেহুঁশ। এক নজর জন্য হলেও আমার ভাইয়ের লাশটা শুধু দেখতে চাই। ভাইকে হারিয়ে আমাদের পরিবারটি পথে বসে গেল।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.