সিরাজুল আলম খান: নিবিড় ঘন আঁধারে জ্বলিছে অপ্রিয় সত্য

রাজনীতিতে রহস্য পুরুষ হিসেবে পরিচিত সিরাজুল আলম খান। জাসদ রাজনীতির সাথে যুক্ত অনেকের প্রত্যাশা জনাব খান রহস্য পুরুষ হিসেবে স্থায়ীত্ব পান।। এই প্রত্যাশা বাদীদের একাংশ ব্যাক্তি পূজায় আস্থাশীল। ব্যাক্তিপূজার মানসিকতা থেকে সিরাজুল আলম খানকে নিয়ে আলো আধাঁরির গাল -গল্পতে অভ্যস্থদের সংখ্যা তেমন বেশি নয়। ১৯৮৩ থেকে প্রধানতঃ জাসদ – রবের নেতা কর্মীরা সিরাজুল আলম খান পন্থী প্রচারণার সাথে যুক্ত। সিরাজুল আলম খানের ৮১ তম জন্ম দিন উপলক্ষে ব্যাক্তি উদ্যোগে ঢাকতে  একটি অনুষ্টান আয়োজিত হয়েছিল। দৈনিক সমকাল ০৬ জানুয়ারি ২২ এই অনুষ্ঠান সম্পর্কে লিখছেন ” সিরাজুল আলম খানের ভাইয়ের মেয়ে ব্যারিস্টার ফারাহ খানের উদ্যোগে এর আয়োজন করা হয়।” প্রসঙ্গ ক্রমে ব্যারিস্টার ফারাহ খান অসম রবের নেতৃত্বাধীন জাসদের সাথে যুক্ত। অসম রবের জাসদের ডাকে কোন উদ্যোগ সার্বজনীনতা পাওয়ার কোন সম্ভবনা নাই। যার কারণের ‘ নির্দলীয় ‘ আবরণ দোয়ার কসরৎ। জাসদ -রব গ্ৰুপের প্রযত্নে ব্যারিস্টার ফারাহ এর আমন্ত্রণে সিরাজুল আলম খানকে নিয়ে কেক কাটার বিদঘুটে উদ্যোগকে নিয়ে প্রশ্ন সেই অনুষ্ঠানে উঠছে । ” সমকালের উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান বলেন, সিরাজুল আলম খানের ৮০ তম জন্মবার্ষিকীর শ্রদ্ধা জানানোর অনুষ্ঠান জাতীয়ভাবে হতে পারত। আমরা সম্মিলিত উদ্যোগেও এটা করতে পারতাম। কিন্তু এটা যে হয়নি, সেটা আমাদেরই ব্যর্থতা।” ( সমকাল ০৬ জানুয়ারী ২০২২) । উল্লেখ্য আবু সাঈদ খান জাসদের প্রথম লগ্ন থেকে দলের সাথে যুক্ত ছিলেন। এরশাদের সামরিক শাসনামলে সামরিক শাসন বিরোধী জাসদ ইনুর সাথে যুক্ত ছিলেন।

 

বর্ধিষ্ণু পরিবারের সদস্যদের উদ্যোগে রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্বের জনসভা স্টাইলের জন্মদিন পালন ও জন্মদিনের কেক কাটার অনুষ্ঠান রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে বিদায় ঘন্টা হিসেবে দেখার অবকাশ রয়েছে। যাঁকে নিয়ে জন্ম দিনের কেকের আয়োজন সেই সিরাজুল আলম খান জন্ম দিনের অনুষ্টানে অনুপস্থিত ছিলেন । কারণ হিসেবে বলা হয়েছে জনাব খান অসুস্থ হয়েছেন। অসুস্থতার অজুহাতে অনুষ্ঠান থেকে বিরত থাকা  হচ্ছে অনুষ্ঠানে যাঁরা এসেছিলেন তাঁদের প্রতি অসম্মান দেখানো। অনুষ্ঠানের দিন কিংবা জনসমাগমেরে দিনে অসুস্থ হওয়ার প্রবণতাকে agoraphobia বলে। আর জনসমাগমে কথা বলতে অনীহা বা ভীতির নাম হচ্ছে Glossophobia । জনাব খান ৮০ বছর পার করেছেন। এই বয়সে যে কোন সময় অসুস্থ হওয়া অস্বাভাবিক নয় । পৃথিবীর যে কোন দেশের গড় আয়ু পার করেছেন তিনি। জনাব খানের অসুস্থতার কারণে পুরো অনুষ্ঠানটি স্থগিত বা বাতিল করে আমন্ত্রিতদের বিব্রতকর অবস্থা থেকে রেহাই দিতে পারতেন আযোজকরা  .যাঁর সম্মানে জন্ম দিনের আনন্দ আয়োজন তিনি যখন অসুস্থ তখন কিভাবে অনুষ্ঠানটি  .স্থগিত বা বাতিল করা হলোনা তাই আশ্চার্য্য জনক !

 

১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত সিরাজুল আলম খান জেলে ছিলেন। জেলের শাস্তি হচ্ছে নির্জনতা। ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত জনসমক্ষে না আসলেও জাসদ রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৩ সালে অসম রবের নেতৃত্বে জাসদের একাংশ সামরিক স্বৈরাচার এরশাদকে সমর্থন করে। এই সময় কালে সিরাজুল আলম খান সামরিক স্বৈরাচার এরশাদের রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮২ সালের সামরিক শাসন এর শুরু থেকে ১৯৯০ সালের শেষ নাগাদ সিরাজুল আলম খান চার বার এরশাদের সাথে দেখা করেন। ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ এরশাদের সামরিক শাসনামলে জন অসন্তোষের কারণে জেনারেল এরশাদের পক্ষে জনসভা, মিছিল মিটিং করা প্রায় অসম্ভব ছিল। এই সময় কালে আ স ম রবদেরকে পুলিশ পাহারায় জীবন যাপন করতে হয়েছে। আ স ম রব এর সভা সমাবেশ পন্ড যাওয়ার ঘটনা পত্র পত্রিকায় এসেছে। জন অসন্তোষ এরশাদ পন্থীদের মধ্যে এক ধরণের ভয়ের সংস্কৃতি তৈরী করেছিল। জেনারেল এরশাদ থেকে মন্ত্রী, এমপি,  বিরোধী দলের নেতা আ স ম রব বা সিরাজুল আলম খানকে পুরো সময় জন অসন্তোষের ভয়ের মধ্যে দিনাতিপাত করতে হয়েছিল। ভয়ের মধ্যে বাস করলে মনন জগতে এর প্রভাব পড়ে। এই প্রভাব  সিরাজুল আলম খানের মানুষের সাথে মেশার অবশিষ্ট আত্মবিশ্বাসকে চিরতরে ধ্বংস করে দিয়ে থাকতে পারে।

 

১৯৭২ সালে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল – জাসদ সৃষ্টি এবং পরবর্তী এক দশক রাজনীতিতে জাসদের জোরালো ভূমিকার জন্য জনাব খান আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে ছিলেন । ১৯৮৩ – ১৯৯১ সালের মধ্যবর্তী সময়ে রাজনীতির কোন আলোচনায় তিনি ছিলেন না। সেই সময় সিরাজুল আলম খান রাজনৈতিক ভাবে জেনেরাল এরশাদকে সমর্থন করতেন। আ স ম রবের নেতৃত্বে জাসদের একাংশ এরশাদের রাজনৈতিক সহযোগী ছিল। এরশাদের সকল গুম-খুন সন্ত্রাসের সহযোগী হিসেবে আ স ম রবের নেতৃত্বে জাসদের ভূমিকা রাজনৈতিক ইতিহাসের অংশ। ১৯৮৩ সালের পরে জাসদ বেশ কয়েক ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ১৯৮৩ সালে জাসদ – রব – জিকু, ১৯৮৬ সালে জাসদ শাহজাহান সিরাজ, ১৯৮৮ সালে জাসদ শাহজাহান সিরাজ ভেঙে জাসদ মির্জা সুলতান রাজা তৈরী হয়েছিল। এই গ্রুপ গুলি জনভিত্তি যাই থাকুক না কেন বিভিন্ন মাত্রায় এরশাদের রাজনৈতিক কর্মসূচীকে সমর্থন করেছে। এরশাদকে সমর্থন নিয়ে জাসদ নামের এই গ্রুপ গুলির কোন লুকোচুরি ছিল না। যা কিছু ঘটেছে তা প্রকাশ্যেই ঘটেছে। সেই সময়কার পত্র পত্রিকায় বিষয় গুলি বহুল আলোচিত বিষয় ছিল। এই সময় কালে জাসদ -ইনু -আরিফ সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল।

 

১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে আসম রব নোয়াখালীর রামগাঁতী থেকে নির্বাচিত হয়েছিল। রামগাঁতীতে নির্বাচনী সহিংসতায় খুনের ঘটনা ঘটে। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে গুলি -খুনের ঘটনায় আ স ম  রব এর নাম উঠে আসে। খুনের পরে জনরোষ থেকে আ স ম রব কে বাঁচাতে এরশাদ সরকার হেলিকপ্টার পাঠিয়ে আ স ম রবকে উদ্ধার করেছিল। পরে এরশাদ সরকার আসম রব এর বিরুদ্ধে খুনের মামলা তুলে নেয়। আসম রব এর গর্দান বাঁধা পড়ে যায় জেনেরাল এরশাদের হাতে। ১৯৮৩ সালে জাসদ -রব এর এরশাদকে সমর্থন ছিল রাজনৈতিক সুবিধাবাদ। জাতীয় সরকার গঠনের অবিভক্ত জাসদের রাজনৈতিক স্লোগানকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ধারাবিবরণী তৈরী করে সুবিধাবাদী রাজনৈতিক নেতৃত্ব। ১৯৮৩ সালের দিকে জাসদ রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন তাঁদের একাংশ গড় আয়ুতে মাঝ বয়সে পৌঁছে যায়। সরকার বিরোধী থাকার হাঙ্গমা থেকে মুক্ত থেকে জাসদ রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার পথ হিসেবে তৎকালীন মাঝ বয়সীরা এরশাদ পন্থী জাসদের সাথে যুক্ত হয়ে পড়ে। ১৯৮৬ সালের সংসদ টিকে ছিল অল্প দিন। ১৯৮৮ সালে নির্বাচন হয়। সকল বিরোধী দল এই নির্বাচনে থেকে সরে দাঁড়ায়। জাসদ- রব এই নির্বাচনে সাইন বোর্ড সৰ্বস্ব ৭২টি দল নিয়ে বিরোধী দল গঠন করে সামরিক শাসনকে টিকিয়ে রাখে। এই নিবার্চনে আ স ম রবের ভূমিকার জন্য গৃহপালিত বিরোধী দল হিসেবে পরিচিতি পান। জেনারেল এরশাদ এর সাথে সিরাজুল আলম খানের যোগ সূত্র যেভাবে গড়ে উঠুক। ১৯৮৬ সালের পর থেকে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা ও এরশাদের ক্ষমতায় থাকার জন্য আসম রব অপরিহার্য্য হয়ে পড়ে। জেনারেল এরশাদ – আসম  রবের আঁতাত ছিল সিরাজুল আলম খানের এরশাদ কেন্দ্রিক আবর্তনের খুঁটি। এরশাদের শাসনামলে সিরাজুল আলম খানের রাজনীতি জাসদ – রব এর রাজনীতি ছিল।

 

সিরাজুল আলম খান আত্ম জীবনীতে জেনারেল এরশাদ সর্মথক হয়ে যাওয়া নয়,  জেনারেল এরশাদ তাঁর চিন্তাকে ধার করে উপজেলা ব্যবস্থা করেছেন এমন দাবী করেছেন। কে কার চিন্তাকে বাস্তবায়ন করলো কিংবা স্বীকৃতি না দিয়ে গিলে ফেললো সে আলোচনার পথ না হারিয়ে নিশ্চিত ভাবে বলা যেতে পারে জেনারেল এরশাদ ও সিরাজুল আলম খান একই রাজনীতিকে ধারণ করেছেন । গণ আন্দোলন ও সামরিক – বেসামরিক আমলাতন্ত্রের চাপে ১৯৯০ সালে জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হওয়ার সামান্য আগে সিরাজুল আলম খান জেনারেল এরশাদের সাথে বৈঠক করেছেন। এই তথ্য আত্ম জীবনীতেই এসেছে। জেনেরাল এরশাদের ‘ জাহাজ – মাস্তুল’  যখন পুড়ে ছারখার সেই মুহূর্তে সিরাজুল আলম খান এরশাদের পরামর্শ দিতে বৈঠক করেছেন  । আন্দোলনকারী জনতার চেয়ে স্বৈর শাসকের সহচার্য কে বেছে নিয়েছিলেন জনাব খান।

 

সিরাজুল আলম খানকে রহস্য পুরুষ হিসেবে দেখতে প্রত্যাশী অন্য অংশ জাসদ রাজনীতি ও জাসদ রাজনীতির প্রধান তাত্ত্বিক হিসেবে সিরাজুল আলম খানের নির্মোহ মূল্যায়নকে ধামাচাপা দিতে স্বচেষ্ট। এই ধারায় জাসদের বিভিন্ন উপ দলের লোকদের দেখা যায়। এই ঐক্যের পিছনের অন্যতম কারণ হচ্ছে পিছনে ফেলে আসা বিপর্যস্থ -পরাজিত দিন গুলি নিয়ে কাব্য গাথাঁ তৈরি করা। পরাজিতদের ঐক্য- সংহতি ও সান্তনা খোঁজা। জাসদ রাজনীতির প্রথম প্রজন্ম যুদ্ধপূর্ব কালের রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধে  গুরুত্ব পূর্ন ভূমিকা পালন করেছেন। জাসদ রাজনীতির কারণে এই প্রজন্মে জেল জুলুম নির্যাতনকে হাসিমুখে মেনে নিয়েছিল।  জাসদ রাজনীতির দশ দিগন্তে ছোটাছুটি  ও ভাঙ্গনী কুল এই প্রজন্মকে  বিধস্থ করে ফেলেছে। এই প্রজন্ম পড়ন্ত বেলায় যেখানেই জাসদ নিয়ে আলোচনা সেই খানেই আশাবাদীতা খুঁজতে চেষ্টা করেন। এই আশাবাদীতা সিরাজুল আলম খানকে ঘিরে আলোচনায় স্বস্তি খুঁজে পান।  অতীতের স্মৃতি কাতরতা জাসদ – সিরাজুল আলম খান নিয়ে যে কোন আলোচনা এই প্রজন্মকে কাছে টানে। অতীত আলোচনার প্রয়োজন আছে তবে খণ্ডিত অতীত আলোচনা সামনের পথ দেখতে অসমর্থ।

 

সিরাজুল আলম খানের অনুপস্থিতিতে জন্ম দিনের যে অনুষ্ঠান হয়ে গেল সেই অনুষ্ঠান থেকে সিরাজুল আলম খান ফাউন্ডেশন’ এবং ‘সিরাজুল আলম খান রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সিআখা ফাউন্ডেশন কি করবে তা স্পষ্ট নয় তবে সিআখা রিসার্চ ইনস্টিটিউট গবেষণা করবে অন্তত নাম দেখে নিরাপদ অনুমেয়। আমাদের প্রত্যাশা রিসার্চ ইনস্টিটিউট কচুবনের কালাচাঁদ না হয় ।  তবে পুরানো প্রবাদ সকাল দেখে দিনের গতি বোঝা যায়। এই প্রচলিত কথাকে প্রমান করেছে সিআখা ফাউন্ডেশন ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট ঘোষনার সময় উপস্থিত মেসবাহউদ্দীন আহমেদ। দৈনিক সমকাল ( ০৬ জানুয়ারী ২০২২ )  প্রকাশিত প্রবন্ধে মেসবাহউদ্দীন আহমেদ দাবী করছেন ” ১৯৬২ সালে ত্রৈয়ী [ সিরাজ – রাজ্জাক -আরেফ ] নেতৃত্বে গড়ে তোলা হয় বিএলএফ।”  মেসবাহউদ্দীন আহমেদ এর এই দাবীকে মিথ্যা প্রমাণিত করেছে সিরাজুল আলম খানের নিজের বয়ান। আমি সিরাজুল আলম খান : একটি রাজনৈতিক জীবনালেখ্য বইয়ে জনাব খানের ভাষ্য ” ১৯৬৮-১৯৬৯ সালেই ‘নিউক্লিয়াস -এর রাজনৈতিক শাখা (উইং ) হিসেবে ‘ বিএলএফ’ গড়ে তোলা হয়। ” – ( পৃষ্ঠা ৫০ ) দৈনিক সমকালের একই প্রবন্ধে মেসবাহউদ্দীন আহমেদ দাবী করছেন  ” যুদ্ধের সময়ে সিরাজ সিকদারের বাহিনীর সঙ্গেও নিউক্লিয়াসের যোগাযোগ ছিল।” এই দাবীর সততা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এই জাতীয় কচুবনে কালাচাঁদ মার্কা দাবী কম দেখা যায়। মেসবাহউদ্দীন আহমেদ কোথায় কিভাবে এই সিরাজ সিকদারের বাহিনীর সাথে যোগাযোগ হয়েছিল সে সম্পর্কে একটি শব্দ বা বাক্য ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন নাই। ইতিহাসে এই জাতীয় ঘটনা ঘটে নাই।  যুদ্ধ কালীন সময়ে সিরাজ সিকদারের পাটির দ্বিতীয় প্রধান ব্যাক্তি সাইফুল্লাহ আজমীসহ পাঁচজন যোদ্ধাকে সাভারে  খুনের অভিযোগ মুজিববাহিনীর বিরুদ্ধে। পেয়ারা বাগান – বরিশালে আওয়ামী লীগ পন্থীদের সাথে সিরাজ সিকদারের পাটির বৈরী সম্পর্ক ছিল।

 

মেসবাহউদ্দীন আহমেদের এই জাতীয় ভুল গুলি মামুলি কোন ভুল নয়। মেসবাহউদ্দীন আহমেদ এর মত অনেকের প্রচেষ্টা হচ্ছে সব কিছুতেই সিরাজুল আলম খানকে বড় করে দেখানো প্রবণতা। মিথ -কল্প কাহিনীর সৃষ্টির ভিত্তি স্থাপনের চেষ্টা মাত্র। প্রসঙ্গতঃ মেসবাহউদ্দীন আহমেদে যুদ্ধপূর্ব কাল থেকেই সিরাজুল আলম খানের সাথে পরিচিত  ও শ্রমিক আন্দোলনের সাথে যুক্ত মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক । জাসদের প্রতিষ্টা কালীন নেতা। জেনারেল এরশাদের শাষনামলে মেসবাহউদ্দীন আহমেদ জাসদ – মির্জা সুলতান রাজার গ্ৰুপে ছিলেন। জাসদ -রাজা  ও জাসদ রব  উভয়ই জেনারেল এরশাদকে ভিন্ন অবস্থান থেকে সমর্থন করেছিল। জাসদীয় ধারা থেকে আসা লেখকরা এই আলো আঁধারিতে সিরাজুল আলম খানকে পুনর্বাসিত করতে কলম ধরেছেন। এই ধারার বই গুলির প্রধান বক্তব্য হচ্ছে জাসদ গঠনের পর যখন জাসদের নেতা কর্মী সর্মথকরা সারাদেশে গুম – খুন, নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল ১৯৭২-১৯৭৫ সালের মধ্যবর্তী সময়েও শেখ মুজিব ও সিরাজুল আলম খানের সুসম্পর্ক বহাল ছিল।

 

সিরাজুল আলম খানের রাজনৈতিক জীবনকে চার পর্বে ভাগ করা যেতে পারে।

প্রথম পর্ব ১৯৬২ থেকে ১৯৭০ বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রস্তুতি কাল। ১৯৬২ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সংগঠিত বিভিন্ন আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণ, পরিকল্পনা প্রণয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখে ছাত্রলীগ । তবে ১৯৭১ সালের শুরু থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে পথ হারা হয়ে পড়ে । ছাত্রলীগের পথ হারা পরিবেশ হাজার রাজনৈতিক কর্মীদের ভারতে পাড়ি জমাতে বাধ্য করে ।

 

দ্বিতীয় পর্ব প্রবাসী সরকারের বাইরে বিএলএফ গঠন। ১৯৭১ সালের শুরু থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত অসহযোগ কালীন সময়ের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে ছাত্রলীগের বড় অংশ প্রবাসী সরকারের অধীনে প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করে ফেলেছিল। যুদ্ধকালীন সময়ে প্রবাসী সরকার নিয়ন্ত্রিত মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ শিবির থেকে ছাত্র যুবকদের ভাগিয়ে বিএলএফ ক্যাম্পে নেওয়ার অভিযোগ ছিল। যুদ্ধকালীন সময়ে বিএলএফ এর ভূমিকা নিষ্প্রভ ছিল। যুদ্ধ জয়ের  পরেও বিএলএফ বিনা প্রতিরোধে রূপান্তরিত পাকিস্তানী প্রশাসনের কাছে মাঠ ছেড়ে দিয়েছিল। এই ছেড়ে দেওয়াৰ অন্যতম কারণ হচ্ছে বিএলএফ কেন্দ্রীয় কমান্ডের নির্দেশনার অভাব। রাজনীতিতে বিএলএফ এর অপমানজনক পিছু হটা ছিল যুদ্ধকালীন সময়ে পাকিস্তানী প্রশাসনের আমলা স্বাক্ষরিত মুক্তিযোদ্ধা সনদ পত্র গ্রহণ করা। বিএলএফ এর সনদ পত্র স্বাক্ষর করেছিল তসলিম আহমেদ।  প্রসঙ্গতঃ যুদ্ধকালীন সময়ে প্রবাসী সরকারের প্রধান সেনাপতি জেনারেল ওসমানীকে বিএলএফ কেন্দ্রীয় কমান্ড অসহযোগিতা করেছিল। যুদ্ধত্তোর কালে জেনারেল ওসমানী জবাব দিয়েছিলেন বিএলএফ এর মুক্তিযোদ্বা সনদ স্বাক্ষরে অস্বীকৃত জানিয়ে।

 

তৃতীয় পর্ব জাসদ গঠন। যুদ্ধ ফেরত বিএলএফ ও ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের বড় অংশ নিয়েই জাসদ গঠিত হয়। ছাত্র যুবকদের মধ্যে সমতা ভিত্তিক আখাঙ্খা প্রবল থাকার কারণে দলে -দলে ছাত্র যুবকরা জাসদের পতাকাতলে সমবেত হতে শুরু করে। যুদ্ধকালীন ছাত্রলীগ ও বিএলএফ এর ভূমিকা ও সাফল্য ব্যর্থতার কোন পর্যালোচনা না করেই জাসদ গঠিত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সারসংকলন না করেই যাত্রা শুরু হয় জাসদের।  জাসদ গঠনের আগে ছাত্রলীগ ভাগ হয়ে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রীরা পৃথক হয়ে যায় ২১ জুলাই ১৯৭১। সিরাজুল আলম খান নিজে ছিলেন মুজিববাদী। আবার ছাত্রলীগ  বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রীদের কাছে জনাব খান নেতা হিসাবে সম্মানিত ছিলেন।  ছাত্রলীগ  বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রীর যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকেই আদর্শিক বৈপরীত্ব ছিল। শিক্ষাঙ্গণে প্রায় প্রতিদিন মুজিববাদী ছাত্রলীগ ও ছাত্রলীগ  বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রীদের মধ্যে দাঙ্গা হাঙ্গামা হচ্ছিল। জাসদের জন্ম না হলেও ছাত্রলীগ  বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রীরা পথের খোঁজে রাজনৈতিক উদ্যোগ নিতে বাধ্য হত। অথবা বিদ্যমান বামপন্থী রাজনৈতিক দল গুলির দিকে ঝুকে পড়ত।

 

জাসদ এর নাম থেকে সহজে অনুমান করা যায় সমাজতন্ত্র সমন্ধে জনাব খানের পড়াশুনা অতি প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল। জাতীয় সমাজতন্ত্রের সাথে মার্ক্সবাদের কোন সম্পর্ক নেই। সিরাজুল আলম খান জাসদের সাথে যুক্ত হওয়া সম্পর্কে জনাব খান বলছেন ” মনির [ শেখ ফজলুল হক মনি] নেতৃত্বে যুবলীগ গঠিত হওয়াতে আমাদেরও বিকল্প সংগঠন গড়ে তোলা ছাড়া উপায় ছিল না।” (আমি সিরাজুল আলম খান – পৃষ্ঠা ১৬৩) ।

 

জনাব খানের নিজ বক্তব্য থেকে জানা যাচ্ছে শেখ ফজলুল হক মনির সাথে ঠান্ডা যুদ্ধের কারণে জাসদের সাথে যুক্ত হওয়া। সংখ্যাগরিস্ট এর আদর্শিক নেতা হলেন মুজিববাদী সিরাজুল আলম খান। যা হবার তাই হয়েছে। জাসদ পথ হারা হয়েছে। হাজার যুবকের প্রাণ গেছে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নে। হাজার – হাজার যুবকের শিক্ষা জীবন বিধ্বস্থ হয়েছে। কারাগারে বছরের পর বছর কেটেছে অনেক জাসদ নেতা কর্মীর। ১৯৭২ সালে এই কথাটা জানা থাকলে হাজার যুবক নিজেদের জীবন বিপন্ন করে শেখ মুজিবের দুঃশাসনের প্রতিবাদে নামত না।

 

জনাব খান জাসদ গঠনের আগেই বিশ্বাসঘাতকতার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। জনাব খানের ভাষায় ” কৌশল হিসেবে এ ব্যাপারে আমরা [ খান ও আরেফ] একমত পোষণ করি যে, আমাদের নবগঠিত রাজনৈতিক দল কোনভাবেই মুজিব বিরোধী ভূমিকা নেবে না। তবে রাজনৈতিক ভাবে এ দল আওয়ামী লীগের বিরোধী হবে। ” (আমি সিরাজুল আলম খান – পৃষ্ঠা ১৬৪) । সিরাজুল আলম খান এই সিদ্ধান্ত ১৯৭২ সালে জনসমক্ষে প্রকাশ করলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পাল্টে যেতে পারত। কিন্তু অতি দেরিতে এই সত্য প্রকাশিত হল। শেখ মুজিবকে বাঁচিয়ে আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের বিরোধিতা কি ভাবে সম্ভব হতে পারত এ ব্যাপারে  জনাব খান নীরব থেকেছেন। খানের বয়ানের তার আনুগত্য শেখ মুজিবের নিকট বাধা। জাসদ  নিমিত্ত মাত্র। প্রসঙ্গতঃ কাজী আরেফ আহমেদের একটি বই ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে কিছু লেখা আছে। কাজী আরেফ অবশ্য সিরাজুল আলম খানের বক্তব্যের অনুরূপ কিছু বলে যান নাই। কাজী আরেফ আহমেদের মৃত্যুর অনেক গুলি বছর অতিবাহিত হবার পরে এই তথ্য সামনে আসছে।

 

চতুর্থ পর্ব বাংলাদেশ কাল। জাসদের উত্থান হয়েছিল আওয়ামী লীগের লুটপাট ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে। যুদ্ধকালীন ভূমিকার জন্য প্রায় আধা ডজন চীনপন্থী বাম দল রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে প্রায় হারিয়ে যায়। আর মস্কো পন্থী ন্যাপ – কমিউনিস্ট পার্টির আওয়ামী লীগ ঘেঁষা নীতি জাসদের উত্থানের সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল। সিরাজুল আলম খানকে নিয়ে যাঁদের মাতম তাঁর সিরাজুল আলম খানের মুক্ত যুদ্ধ কাল পর্যন্ত মহিমানিত্ব করেন। যুদ্ধত্তোর বাংলাদেশে  সিরাজুল আলম খানের রাজনীতিকে বাদ দিয়ে খণ্ডিত সিরাজুল আলম খানকে সামনে তুলে আনা সত্যকে খণ্ডিত আকারে প্রকাশ করা।

 

শেখ মুজিবের সাথে সিরাজুল আলম খানের সুসম্পর্কের বয়ান যদি সত্যি হয়, তাহলে স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিশ্বাস ঘাতক সিরাজুল আলম খান। এই বয়ান সত্য কারণ সিরাজুল আলম খান নিজেই এই বয়ানের ফেরিওয়ালা। যিনি একদিকে নতুন স্বাধীন দেশের সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক প্রত্যাশার সাথে প্রত্যাশা বাস্তবায়নের স্লোগান তুলে প্রতারণা করেছেন। অপর দিকে জাসদের নিবেদিত-প্রাণ অসংখ্য নেতা-কর্মী, দলের শুভানুধ্যায়ীদের সমতা ভিত্তিক সমাজ গঠনের স্বপ্নের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন। বর্তমানে এই বিশ্বাস ঘাতকতাকে মহিমানিত্ব করার চেষ্টা চলছে। এই প্রচেষ্টা শেখ মুজিবর রহমানের ১৩৬৫ রজনীর দুঃশাসনকে রাজনৈতিক ভাবে পুনঃবাসনের প্রচেষ্টা।

 

গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কৌশল হিসেবে সিরাজুল আলম খান ও শেখ মুজিবর রহমানের আঁতাত – যোগাযোগ হয়েছিল এই জাতীয় কিছু দুর্বল মত প্রচলিত আছে। এই সাফাইকারীরা ইচ্ছাকৃত ভাবে ভুলতে অভ্যস্থ ১৯৭২-১৯৭৫ সালে কোন ভাবেই গণতান্ত্রিক পরিবেশ ছিল না। ২১ জুলাই ১৯৭২ সালের ছাত্রলীগ ( বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র ) এর যাত্রা শুরুর দিন থেকেই এই ধারার উপরে তৎকালীন সরকারী দল আওয়ামীলীগের আক্রমণ শুরু হয়েছিল। অক্টোবর ১৯৭২ সালে জাসদ গঠন হলে এই হামলার মাত্রা তীব্রতর থেকে তীব্রতর হয়েছিল। গণতান্ত্রিক রীতিনীতিতে রাজনৈতিক আলোচনা রাতের অন্ধকারে গোপনে সংগঠিত হওয়ার কথা নয়। মুজিব – সিরাজুল আলম খানের আলোচনার বিষয়বস্তু এই দুই জনের বাইরে কেউ জানেন না। সিরাজুল আলম খান নিজের রাজনৈতিক পুনর্বাসনের জন্য ছিটেফোঁটা ঝোলা থেকে বের করে কিছুটা আগ্রহের সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন প্রধানতঃ জাসদ ঘরনার মানুষদের মধ্যে। রাজনীতিতে ব্যাক্তিগত সম্পর্ক খুব বেশি দিন স্থায়ী হয় না। মত পথের ভিন্নতা , ভিন্ন দল গঠন ইত্যাকার বিষয় নিশ্চিত ভাবে ব্যাক্তিগত সম্পর্ককের ইতি টানে।  জাসদ ও জাসদের নেতা কর্মীদের জীবন  বিপন্ন ছিল শেখ মুজিবের শাসনামলে। আওয়ামী লীগ এবং দলের নেতা শেখ মুজিব কখোনোই কেন সিরাজুল আলম খানকে  প্রতিপক্ষ হিসেবে মনে না করাই বড় রহস্য জনক।

 

বাংলাদেশের ৫০ বছরে প্রথম সাড়ে তিন বছর মুজিবী শাসন ছিল। জনাব খান সেই সময় শেখ মুজিবর রহমানের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা ও সহযোগিতা করতেন। যোগাযোগের বিষয়টি জনাব খান নিজেই প্রকাশ করেছেন। সহযোগিতা হচ্ছে জাসদের বিপ্লববাদী যুবকদের বিভ্রান্ত করে সামাজিক পরিবর্তনকে বাধা গ্রস্থ করা। সিরাজুল আলম খানই ইতিহাসের একমাত্র ব্যাক্তি নন এই জাতীয় বিশ্বাস ঘাতকতার নজির ইতিহাসে রয়েছে। ১৯১৭ সালের রাশিয়ার বিপ্লবের সময় রাশিয়ার সংসদে বলশেভিক পার্টির সংসদীয় নেতা রোমান মালিনোভস্কি  (Roman Malinovsky ) ছিলেন এই জাতীয় একজন।

 

রোমান মালিনোভস্কি শুধু সংসদে  বলশেভিক পার্টির নেতৃস্থানীয় ছিলেন না।  ১৯১৭ সালের কেন্দ্রিয় লেনিনের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, কমিটির রাশিয়ান ব্যুরোর প্রধান এবং বিপ্লবী পদে পুলিশের অনুপ্রবেশের উপর পার্টির নজরদারিকারী ছিলেন।  রোমান মালিনোভস্কি বলশেভিক পার্টির নির্দেশের রাশিয়ার সংসদ পদত্যাগ করেছিলেন। রোমান মালিনোভস্কি এর বিরুদ্ধে প্রথম জারের চর হিসাবে কাজ করার অভিযোগ এনেছিল মেনশেভিক নেতারা ১৯১০ সালে । লেনিন মেনশেভিক নেতাদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক লেখা প্রকাশ করে  মালিনোভস্কিকে সমর্থন করছিলেন । এর পর বুখারিন সহ বেশ কিছু নেতা তাদের গ্রেফতারের জন্য  মালিনোভস্কিকে দায়ী করলেও লেনিন বিষয়টি গুরুত্ব দেন নাই। বিপ্লবের পর বলশেভিক পার্টির নেতৃত্বে জারের পুলিশের চরদের অনুসন্ধান করতে যেয়ে রোমান মালিনোভস্কি এর বিষয়টি বেরিয়ে আসে। ঘটনাটি লেনিনের জন্য চরম বিব্রতকর ছিল। পরে বলশেভিক পার্টির বিচারে রোমান মালিনোভস্কিকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান ও কার্যকর করেছিল ১৯১৮ সালে। রোমান মালিনোভস্কিদের খুঁজে বের করতে রাশিয়ায় বিপ্লবের প্রয়োজন হয়েছিল।

 

সিরাজুল আলম খান রহস্য পুরুষ। কি কারণে তিনি রহস্য পুরুষ ? কেউ বিষয় গুলি ব্যাখ্যার প্রয়োজনীতা অনুভব করে নাই। তবুও তিনি রহস্যে ঘেরা ! কে বা করা রহস্য পুরুষ খেতাব – তকমা সিরাজুল আলম খানের ললাটে এঁকে দিয়েছিল তা নিশ্চিত নয়। তবে এই তকমা সিরাজুল আলম খানের পক্ষেই কাজ করে যাচ্ছে। গৌরীসেনদের অর্থায়নে গত চার / পাঁচ দশক ঢাকায় বাস সিরাজুল আলম খানের। ইচ্ছে জাগলে নিউয়র্ক কিংবা ইউরোপে উড়াল দেওয়া স্বাভাবিকতায় পরিণত হয়েছে জনাব খানের। এই দুইটি হচ্ছে সিরাজুল আলম খানের বড় রহস্য। রাজনৈতিক বিষয়ে কোন কিছু লুকায়িত নেই। মুজিব -জিয়া – এরশাদের সাথে আঁতাত ও মেহমানদারিতেই কেটেছে প্রায় বাংলাদেশ কাল। কেউ কেউ সিরাজুল আলম খানের সাফাইয়ে বলতে পারেন সিরাজুল আলম খানের কোন ব্যাক্তিগত সম্পত্তি নেই। জনাব খানের ব্যাক্তিগত নামে  সম্পত্তি ও টাকা না থাকার বিষয় সত্য হলেও হতে পারে। অর্থ বিত্তের মালিকানা সব সময় মুখ্য নয়।  প্রয়োজন কিংবা ইচ্ছে জাগলে চাহিদার মেটানো হচ্ছে অর্থের প্রধান কাজ।

 

অপু সারোয়ার 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.