ঠিক সন্ধ্যা নামার আগে। গুলশানের এক অভিজাত বিল্ডিং এর ৭ম তলায় এক বড় ভাইয়ের অফিসের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে রাস্তার ওপারের এক সবুজ বাগানের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। জানিনা আজ পৌষের শেষ বিকেলটাকে কেন যেন খুব বিষন্ন মনে হচ্ছিলো। মোবাইলে মেসেজের নোটিফিকেশন এর সংকেত পেয়ে ফোন বের ফেসবুকের টাইমলাইনে যেতেই দেখি পত্রিকার নিউজ,’বহুল আলোচিত জয়নাল হাজারী আর নেই! নিউজ দেখে বুকের ভেতর কেমন যেন এক ধরণের শূণ্যতা অনুভব হলো। আমার কোনদিন সামনাসামনি জয়নাল হাজারীর সাথে দেখা হয়নি। ফোনে কথা বলেছিলাম ২/১ বার। খুব করে প্রিয়জন হারানোর ব্যথা অনুভব হচ্ছিলো বুকের ভেতর। মধ্য পৌষের এই বিষন্ন বিকেল জয়নাল হাজারীর বিদায়ের শোকেই সম্ভবত বিষাদ যাপন করছিলো। বহুল আলোচিত,সমালোচিত জয়নাল হাজারীর প্রতি আমার অসম্ভব রকম শ্রদ্ধা কিংবা গভীর ভালবাসা কেন অনুভব হয় আমি জানি না। শুধু এটুকু জানি আগামী প্রজন্মের কেউ যদি একই সাথে খাটি দেশপ্রেমিক,তুখোর রাজনীতিক,মহান বিপ্লবী আর তুমুল প্রেমিক হতে চায় তাহলে জয়নাল হাজারীর চাইতে বড় আদর্শ আর কিছু হতে পারে না। ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা মহান বীর কিংবা যুদ্ধপরবর্তী বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য অনুসারী আর কয়জনই বা ছিল?
কলিযুগের এই মিথ্যে কথার শহরে জীবনের সবথেকে দামী জিনিস ভালবাসাকে অবরুদ্ধ করে কয়জনই বা পারে অল্প বয়সের আবেগে কথা দেয়া একটা প্রতিজ্ঞাকে মৃত্যুবধি ধরে রাখতে? কলেজ জীবনের সহপাঠী প্রেমিকা বিজুকে কথা দিয়েছিলেন, বিয়ে করবেন না তাকে ছাড়া কাউকে। বিজুও একই কথা দিয়েছিলেন হাজারীকে। কিন্তু কথা রাখেনি বিজু। বিজু কথা না রাখলেও কথা রেখেছিল হাজারী। তুখোর রাজনীতিক,বিপ্লবী,সাংসদ জয়নাল হাজারী তার পুরো জীবনে আর বিয়ে করেননি। আর কাউকে ভালবাসেননি। রুমিও জুলিয়েট,শিরী ফরহাদ কিংবা লাইলী মজনুর প্রেমের থেকে কি খুব কিছু ছিল হাজারী প্রেম? চারপাশে বহু কথা শোনা যায় তাকে নিয়ে। তিনি নন্দিত যেমন,নিন্দিও ঠিক তেমনই। কিন্তু জমিদার ফ্যামিলির সন্তান জয়নাল হাজারী তার পৈতৃক প্রায় সব সম্পত্তিই দান করে দিয়েছিলেন সাধারণ মানুষের মাঝে। বুকের কলিজা কত বড় হলে এই কাজ করা যায় ভেবে দেখেছেন? বঙ্গবন্ধু ও দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার আনুগত্যের প্রশ্নে ছিলেন আপোষহীন সময়। কি লিখছি নিজেই বুঝতে পারছি না। ল্যাপটপের কি বোর্ডে আঙ্গুল যেন চলছে না। স্বাধীনতা বিরোধীদের বিপক্ষে তার মতো কঠোর অবস্থান কয়জন রাজনীতিবীদের ছিল? একজন মহান রাজনীতিবীদ,দেশপ্রেমিক নেতা,মহান বিপ্লবী,তুমুল প্রেমিক জয়নাল হাজারী ভাল থাকুন অনন্ত জীবনে। প্রজন্ম থেকে প্র্রজন্ম আমরা মনে রাখব আপনাকে। ইতিহাস তার শ্রেষ্ঠ অর্জনটাকে পৃথিবীর অন্তিম সময় অবধি অবশ্যই মনে রাখবে। বাংলাদেশের ইতিহাস যতদিন থাকবে জয়নাল হাজারী ততদিন থাকবেন। পৃথিবীতে যতদিন প্রেম শব্দটা বিদ্যমান থাকবে প্রেমিক জয়নাল হাজারী ততোদিন প্রেমের সর্বশ্রেষ্ঠ উদাহরণ গুলোর মধ্য অন্যতম হয়ে থাকবেন। বিদায় প্রিয় নেতা। এই দেশ,এই জাতি আপনার কাছে চিরঋণী…

জাকওয়ান হুসাইন
উপ দপ্তর সম্পাদক,বাংলাদেশ ছাত্রলীগ,ঢাকা মহানগর উত্তর

