জার্মান চ্যান্সেলর মার্কেল আজ থেকে শুধুমাত্র একজন ব্যবস্থাপনাগত চ্যান্সেলর (administrative Chancellor) হিসেবে ক্ষমতায় অফিসে থাকবেন যতদিন নতুন সরকার গঠন না হচ্ছে। সংবিধানে প্রদত্ত আইন হিসাবে, ফেডারেল রাষ্ট্রপতি স্টেইনমায়ার নতুন পার্লামেন্ট এর সংবিধান অধিবেশনের পরে ম্যার্কেলের নেতৃত্বে ফেডারেল সরকারকে ধন্যবাদের সাথে প্রশংসাপত্র দিলেন। এক বক্তৃতায় তিনি মার্কেলকে তার কাজের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন যে, তাঁর দীর্ঘ ১৬ বছর চ্যান্সেলর পদে থাকা মেয়াদ ছিল এক অনন্য “অনুকরণীয়” সময়।
ফেডারেল প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ওয়াল্টার স্টেইনমায়ার আনুষ্ঠানিকভাবে চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলকে পদ থেকে ইস্তাফা দিলেন। ফেডারেল প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন বার্লিনের বেলভিউ প্রাসাদে, তিনি প্রথমে মেরকেলকে শংসাপত্র এবং তারপর একের পর এক তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের কাছেও উপস্থাপন করেন।
যাইহোক, এর অর্থ এই নয় যে জার্মান ফেডারেল সরকার আর অফিসে নেই: স্টেইনমায়ার সকালে মার্কেলকে চ্যান্সেলরের ব্যবস্থাপনাগত ভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বলেছিলেন “যতক্ষণ না একজন উত্তরাধিকারী সরকার নিযুক্ত হয়।”
এদিকে গত ২৬ শে সেপ্টেম্বর যে দলগুলি ভোটে জিতেছে, তারা একটি জোট সরকার তৈরির আলোচনায় গত এক মাসেও একমত না হওয়ায় আরো আলোচনা চালিয়ে যাবেন। আশাকরা হচ্ছে ক্রিসমাসের আগেই সোসিয়াল ডেমোক্রেটিক দলের (SPD) চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী ওলাফ সলৎজ এর নেতৃত্বে গ্রীনপার্টি ও লিবারেল দলের সমন্বে এক জোট সরকার গঠন করবে। অবাক হবার বিষয় হলো এই লাল-সবুজ-হলুদ “জোট সরকারের আলোচনা” এতোদিন দীর্ঘ হওয়ার কারন হলো প্রতিটি দল জনগনকে দেওয়া তাদের প্রতিশ্রুতি কিভাবে বাস্তবায়ন করবেন, সেটা নিয়েই এই দীর্ঘ আলোচনা। এছাড়াও জোট সরকারে কোন দলের কতজন মন্ত্রী থাকবেন সেটাও আলোচনার মাধ্যমেই সাব্যস্ত হবে। উল্লেখযোগ্য যে, জার্মান সরকারের মন্ত্রীপরিষদে ১৫ জন সদস্য আগেও ছিলো এখনো থাকবেন, সেই হিসেবে এসপিডি ৭ জন গ্রীন ৫ জন ও লিবারেল দল ৩ জন, সর্বমোট ১৫ জন মন্ত্রীই ইউরোপের এই অর্থনৈতিক উন্নত দেশটির মন্ত্রীসভায় থেকে ৪ বছরের জন্যে শাসন ভার গ্রহন করবেন।

লেখক : মীর মোনাজ হক , জার্মান প্রবাসী সাংবাদিক এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ।

