‘করোনায় আক্রান্ত হয়ে সরকার নিজেই ভেন্টিলেশনে, এটা খুলে গেলেই সরকার আর নেই’Ñ এমন মন্তব্যই করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায়। গতকাল বুধবার ঢাকার কেরানীগঞ্জ দক্ষিণ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে থানার করোনা হেল্প সেন্টার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি
এ মন্তব্য করেন।
গয়েশ্বরচন্দ্র রায় বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটা ভেন্টিলেশনে আছে এবং করোনায় মারাত্মকভাবে আক্রান্ত। এ সরকারের বিরুদ্ধে কী আন্দোলন করবেন? এ সরকারকে কী-ই বা ধমক দেবেন? এ সরকার ভেন্টিলেশনে আছে। এ ভেন্টিলেশনটা খুইলা গেলেই শেষ। ওরা আতঙ্কে আছে, ওদের হারানোর যন্ত্রণা সারাক্ষণ, ওদের প্রাপ্তির কোনো বিষয় নেই।’ জনগণের পাশে থাকতে বিএনপির নেওয়া কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের এ কর্মসূচি শুরু। আমরা সব সময় জনগণের পাশে আছি, পাশে থাকব।’ বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতা-মন্ত্রীরা যে টাকা লুটপাট করছে ১২ বছরে, তার একশ ভাগের পাঁচ ভাগ টাকা খরচ করলে এ ভ্যাকসিনের সমস্যা হয় না। মানুষকে না খেয়ে থাকতে হতো না।’
‘পরীমনিরা পাবলিক সাবজেক্ট নয়’
গয়েশ্বরচন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদের মিডিয়া বড় বড় বিষয় থুইয়া কখনো পরীমনি, কখনো খুকুমণি এসব লইয়া বাজার মাত করে। এগুলো তো পাবলিকের সাবজেক্ট না। আর যেসব কথা পরীমনিরা বলে, এসব কথা প্রকাশ পেলে এরা (ক্ষমতাসীনরা) তো বোরকা পরার সময় পাবে না। এগুলো রাজায় রাজায় দ্বন্দ্ব, ভৃত্যে ভৃত্যে দ্বন্দ্ব। তাদের দ্বন্দ্বের ফাঁক দিয়ে পরীমনিরা বের হয়ে যায় মাঝে মধ্যে, মিডিয়ার মাধ্যমে একটা বাজার মাত করে সাধারণ মানুষকে। কিন্তু ওইটা আমার পেটের খোরাক দেবে না, আমার রাজনীতির খোরাকও দেবে না।’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘করোনায় আক্রান্ত রোগীরা আধুনিক চিকিৎসা পাচ্ছে না। সরকারই বলছে, গড়ে প্রতিদিন আড়াইশর বেশি লোক মারা যাচ্ছে। গ্রামেগঞ্জে যারা মারা যাচ্ছে তাদের তো হিসাবই নেই। একবার লকডাউন দেয়, আরেকবার উঠিয়ে নেয়। আজকে মানুষের জীবন-জীবিকাকে তারা বিপন্ন করে দিয়েছে। জনগণের প্রতি তাদের ন্যূনতম দায়বদ্ধতা নেই বলে সরকার যখন যা খুশি তাই করছে।’
থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোসাদ্দেদ আলী বাবুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সদস্য নাজিম উদ্দিন মাস্টার প্রমুখ। লকডাউনের পর উপজেলা পর্যায়ে এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন

