জাতিসংঘে ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানের আহ্বান বাংলাদেশের

জাতিসংঘে ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। ইসরাইল-ফিলিস্তিন চলমান পরিস্থিতি সমাধানে জরুরি ও নিষ্পত্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (মে ২০) মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও ফিলিস্তিন প্রশ্নে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি আহুত এক আলোচনায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এ আহ্বান জানান তিনি।

শিশু ও নারীসহ নিরাপরাধী অসামরিক নাগরিকদের ওপর দখলদার ইসরাইলের বর্বরোচিত
সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে পত্র দিয়েছেন মর্মে সাধারণ পরিষদকে অবহিত করেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লিখিত পত্র উদ্ধৃত করে তিনি পুর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার রক্ষার প্রতি বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনরুল্লেখ করেন।

বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি অবিলম্বে ইসরাইলি আগ্রাসন বন্ধের আহ্বান জানান এবং ধারাবাহিকভাবে এই সহিংসতার ধিক্কার জানান। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং ফিলিস্তিন সমস্যার ব্যাপকভিত্তিক, ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে কিছু অগ্রাধিকার বিষয় তুলে ধরেন রাবাব ফাতিমা।

যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-  আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই সঙ্কটের মূল কারণ খুঁজে বের করে তা সমাধানে আন্তরিক প্রচেষ্টা নিতে হতে; জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদকে তাদের চার্টার অনুযায়ী পরিপূর্ণভাবে দায়িত্ব পালন করা; ‘কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করার সংস্কৃতি’ থেকে বেরিয়ে আসা এবং সবধরণের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও জাতিসংঘের রেজুলেশন ২৩৩৪(২০১৬)সহ এতদসংশ্লিষ্ট সব রেজুলেশন ইসরাইলকে পরিপালন করাতে বাধ্য করা। এছাড়াও শান্তি প্রতিষ্ঠার রোডম্যাপ ও মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিতে সবপক্ষের সঙ্গে জাতিসংঘকে আরও নিবিড়ভাবে সংশ্লিষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

জরুরিভাবে ফিলিস্তিন জনগণের মানবিক প্রয়োজন মিটানোর প্রতি জোর দিয়ে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তায় সৃষ্ট জাতিসংঘের রিলিফ ফান্ডের (আনরুয়া) সক্ষমতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্বরোপ করেন তিনি। আগ্রাসী ইসরাইনি বাহিনীর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়ে রাবাব ফাতিমা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় এটি হবে প্রথম পদক্ষেপ।

একশতের বেশি জাতিসংঘ সদস্যরাষ্ট্র দিনব্যাপী চলমান এই আলোচনায় অংশ নেয়। সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি ছাড়াও এতে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘ মহাসচিব ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি। বক্তারা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অনতিবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং ফিলিস্তিনি সংঙ্কটের আশু সমাধানের আহ্বান জানান।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.