একদিনেই করোনায় প্রাণ গেল ১৪ হাজার মানুষের

গোটাবিশ্বেই ভয়াবহ রূপ নিয়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৪ হাজার ১৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিদিনই নতুন নতুন রেকর্ড হচ্ছে শনাক্ত ও মৃত্যুর। ভারত ও ব্রাজিলসহ বেশ কয়েকটি দেশ এখন করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণে বিপর্যস্ত।

সারাবিশ্বে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৭৬৭ জন। বিশ্বব্যাপী এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন মোট ১৫ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৩২ লাখ ৪১ হাজার ২৪ জন।

করোনার আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস সূত্রে জানা যায়, বিশ্বে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৩ কোটি ৩২ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫৯ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৯২ হাজার ৪০৯ জনের। আর সুস্থ হয়েছেন ২ কোটি ৫৯ লাখ ৬৬ হাজার ৩৮৯ জন।

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় এর পরেই রয়েছে ভারত। গত কয়েক দিন ধরে দেশটিতে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে ২ কোটি ৬ লাখ ৫৮ হাজার ২৩৪ জনের। মোট মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৯। আর সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ৬৯ লাখ ৩৮ হাজার ৪০০ জন।

তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্রাজিল। ল্যাটিন আমেরিকার দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৬০ হাজার ৮১২ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৪ লাখ ১১ হাজার ৮৫৪ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ৩৪ লাখ ৪২ হাজার ৯৯৬ জন।

চতুর্থ স্থানে থাকা ফ্রান্সে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ৫৬ লাখ ৮০ হাজার ৩৭৮ জন রোগী। এর মধ্যে মারা গেছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৩৮৭ জন। সুস্থ হয়েছেন ৪৭ লাখ ১৭ হাজার ৮৩ জন।

শনাক্তের দিক দিয়ে এখন পঞ্চম স্থানে তুরস্ক। দেশটিতে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়েছেন ৪৯ লাখ ২৯ হাজার ১১৮ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৪১ হাজার ৫২৭ জন। সুস্থ হয়েছেন ৪৫ লাখ ৫৪ হাজার ৩৭ জন। এ ছাড়া তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রাশিয়া, সপ্তম স্থানে যুক্তরাজ্য, অষ্টম স্থানে ইতালি, নবম স্থানে স্পেন এবং দশম স্থানে রয়েছে জার্মানি।

সংক্রমণ ও মৃত্যুর তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৩৩তম। দেশে এখন পর্যন্ত ৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯৬ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১১ হাজার ৭০৫ জন। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬ লাখ ৯৫ হাজার ৩২ জন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। দেশটিতে করোনায় প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি। ওই বছরের ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে। পরে ধীরে ধীরে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

করোনা প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.