ওয়েডিং ফটোগ্রাফি নিয়ে কিছু কথা

বিয়ে, শাদি, বিবাহ বা ওয়েডিং যা-ই বলুন না কেন, তা আমাদের সমাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি উৎসব। বিয়ের অনুষ্ঠানপালনের রীতি বহুকাল থেকেই চলে আসছে। এখনকার বিয়ের অনুষ্ঠানের অন্যতম মূল আকর্ষণ বা অবিচ্ছেদ্য অংশও বলাচলে ওয়েডিং ফটোগ্রাফিকে।

সাধারণ কথায় বিয়েতে যে ফটোগ্রাফি করা হয় তা-ই হলো ওয়েডিং ফটোগ্রাফি। অথবা এভাবেও বলা যায়, বিয়ের সাথে সম্পর্কিত কর্মসমূহের আলোকচিত্রই হলো ওয়েডিং ফটোগ্রাফি। ওয়েডিং ফটোগ্রাফি আজকাল বিয়ের বাজারে সবচেয়ে জরুরী জিনিষগুলির মাঝে একটি। উচ্চবিত্তদের জমকালো বিয়েরঅনুষ্ঠান তো বটেই, মধ্যবিত্তের বিয়েও এখন এই বিশেষ ছবি তোলার আয়োজন ছাড়া যেন জমে না।

ওয়েডিং ফটোগ্রাফির গুরুত্ব তাই দিন দিন বাড়ছে। কোটি টাকার বিয়ে অনুষ্ঠানও কিন্তু এক দিনেই শেষ হয়ে যায়। সারা জীবনস্মৃতি হয়ে রয়ে যায় শুধু ছবি ও ভিডিও। ওয়েডিং ফটোগ্রাফি যারা করেন, আমি জানি না তারা  বিয়ের পাত্র পাত্রীর ছবি ফেসবুকে দেওয়ার আগে নিশ্চয়ই কন্সেন্ট নেন? অবশ্য বাংলাদেশে বেশিরভাগ মানুষ প্রাইভেসির ব্যাপারে কনসার্ন না। সেটিই স্বাভাবিক, বরং অজান্তেই তাদেরভালিনারেবিলিটি এভাবে বেড়ে যেতে পারে এটিই ভয়ের। কারণ ওয়েডিং ফটোগ্রাফির পেজ থেকে ছবিগুলো প্রচুর মানুষ দেখে, লাইক ও শেয়ার করে। একবার পাবলিশ হয়ে গেলে ছবি বা ভিডিও ‘ডিজিটাল কন্টেন্টে’ পরিণত হয়। পোস্ট পাবলিকেশনে এরউপর নিয়ন্ত্রণ রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

এক সময় বিয়ের ছবি ছিল প্রাইভেট, এলবামে সাজানো থাকত। মানুষ দেখত, স্মৃতি উদযাপন করত। এখন ডিজিটাল মিডিয়ায়এইসব ছবি বা ভিডিও ডিজিটাল প্রোডাক্ট/ কন্টেন্ট পুনরুৎপাদিত হতে থাকে বারবার শেয়ারের মাধ্যমে। তাও অজানা অচেনামানুষের দ্বারা। ছবিগুলোর চেয়েও ফেসবুকে ছবি দেওয়াই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ‘মিডিয়াম ইজ দ্য মেসেজ’। মাধ্যম বদলেযাওয়ায় ছবি/ ভিডিওর উপযোগিতা তাই বদলে গেছে। যেমন বেশি লাইক পাওয়া বিয়ের ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপযোগিতা।হলুদের ভিডিওতে ভিউসংখ্যাও এক ধরণের কারেন্সি/ সোশ্যাল ক্যাপিটাল।

বিয়ের ছবি বা ভিডিও-কে প্রোডাক্ট হিসেবে দেখলে কিছু বিষয় চলে আসে। যেমন এর মালিক কে? কপিরাইট কার? ধরে নেইফটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠানই এর ‘প্রডিউসার’। ছবি তুলে দেওয়ার জন্য তারা বিয়ের পাত্র পাত্রীর কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন। এখানে পাত্র-পাত্রী কনজিউমারের রোল প্লে করছেন। কিন্তু তাদের রোলটি আসলে প্রজিউমারের (প্রডিউসার + কনজিউমার)। অথবা এভাবেবলা যায় প্রোডিউসারের তৈরি করা সিনেমায়/ ছবিতে বিয়ের পাত্র পাত্রী হিসেবে অভিনয় করছেন। মডেল বা অভিনেতা হিসেবেতাদের টাকা পাওয়া উচিত। কেননা এই ছবি বা ভিডিও ফটোগ্রাফি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন হিসেবে কাজ করে এবং নতুন কাজ পেতেসাহায্য করে। এই কাজ থেকে কোন লভ্যাংশ প্রথম পাত্র-পাত্রী পাচ্ছেন না।

তবে পাত্র-পাত্রী সোশ্যাল ক্যাপিটাল এংগেলে চিন্তা করতে পারেন। টাকা না পেলে কী হবে আমি তো অনেক লাইক বা ভিউপাচ্ছি।দুটোর মধ্যে ব্যালেন্স করতে একটা বার/ স্ট্যান্ডার্ড ঠিক করা যেতে পারে। যেমন ৫০০০ এর বেশি লাইক পড়লে পাত্র-পাত্রীটাকা পাবেন একটি নির্ধারিত হারে৷ অথবা এরকম কিছু একটা।

সামনের দিনগুলোতে কাজের ধরণ বা ব্যবসার রকম বদলে যাচ্ছে। এমন অনেক কিছুই আমরা আগে ভাবিনাই কিন্তু ডিজিটালস্পেসে সেটাই হয়ে উঠতে পারে ‘নর্ম’। বিয়ের স্মরণীয় মুহূর্তগুলো বন্দি করতে ফটোগ্রাফারের বিকল্প নেই। আগের দিনে স্টুডিওতে যিনি পাসপোর্ট সাইজের ছবি তুলতেন, তারই ডাক পড়ত বিয়েবাড়িতে। সময় বদলেছে, কিন্তু বদলায়নি বিয়েবাড়ির ছবি তোলার হিড়িক। যার কারণে দিনে দিনে জনপ্রিয়হয়ে উঠছে ওয়েডিং ফটোগ্রাফি।

 

লেখক: আবু জাফর শিহাব(এল এল বি)

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.