১৯৪৯ সালে ঢাকায় যেভাবে পালিত হয়েছিলো নেতাজীর জন্মোৎসব –হাবিব বাবুল

২৩ শে জানুয়ারিী ১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান ফরোয়ার্ড ব্লকের উদ্যোগে    নেতাজীর জন্মদিন উপলক্ষে  ঢাকার    করোনেশন পার্কে অনুষ্ঠিত এক মহতী জনসভায়   নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় । পূর্ব পাকিস্তানের স্বাস্থ্য সচিব জনাব হাবিবুল্লাহ  এই সভায় সভাপতিত্ব করেন । বক্তৃতাদান কালে তিনি বলেন স্বাধীন পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তিনি  মহান জননায়ক নেতাজীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করিতেছেন । এই উপলক্ষে তিনি বিদেশী সাম্রাজ্যবাদের কবল হইতে দেশকে মুক্ত করার জন্য যারা আত্মহুতি দিয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন । তিনি বলেন সুভাষচন্দ্র বসু আজন্ম বিপ্লবী  এবং হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের প্রতীক ছিলেন । তাঁহারই প্রেরনায় তাহাঁরা হলওয়েল মনুমেন্ট অপসারণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন । কোথাও কোন অন্যায়, অবিচার দেখিলে তৎক্ষণাৎ তিনি তাহার প্রতিবাদ করিতেন এবং সর্বশক্তি করে তিনি তা সংশোধন করতে চেষ্টা করতেন । সুভাষচন্দ্রের আদর্শ ও কার্যবলী কেবলমাত্র ধ্বংসাত্মকই ছিল না, তাহাঁর গঠন ক্ষমতাও ছিল । আজাদ হিন্দ ফৌজই তাহার গঠন শক্তির শ্রেষ্ঠ নিদর্শন । তিনি সকলকে সুভাষচন্দ্রের জনসেবা ও স্বাধীনতার আদর্শে অনুপ্রাণিত হইতে বলেন ।

এই সভায় আরও বক্তৃতা করেন পাকিস্তানে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি  হাই কমিশনার সন্তোষকুমার বসু , তিনি বক্তৃতা প্রসঙ্গে বলেন, যতদিন জগতে স্বাধীনতার উপাসক থাকিবে  এবং স্বাধীনতার আদর্শ মানুষকে অনুপ্রাণিত করিবে ততদিন সুভাষচন্দ্র এবং তাহার আদর্শেরও সম্মান হইবে । তাহাঁর আদর্শ ক্ষণস্থায়ী নয় ইহা ভবিষ্যতেও সকলকে অনুপ্রেরণা দিবে । সুভাষচন্দ্র কেবলমাত্র বিদেশী সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার জন্যই জনসাধারনকে  পরিচালনা করেন নাই ,তিনি সর্বপ্রকার অত্যচার, অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করিয়া প্রকৃত স্বাধীনতা আনায়ন করার জন্যও সকলকে পরিচালনা করিয়াছেন ।

এই সভায় ক্ষিতিন্দ্র ভট্টচায্য,আব্দুল ওয়াদুদ ,নিহাররঞ্জন গুহ, পুলিন দে,  গণেশ চন্দ্র ভট্টচায্য, প্রবীর মজুমদার , প্রাণেশ সমাদ্দার  নেতাজীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বক্তৃতা করেন । এই উপলক্ষে প্রভাতফেরী বাহির হয় এবং  সন্ধ্যায় জগন্নাথ কলেজ ও অন্যান্য স্থানেও আলোকসজ্জা করা হয় ।  সেই সময় ঢাকা প্রকাশ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ হতো সেই পত্রিকায় এই খবর     ৩০ শে জানুয়ারি প্রকাশিত হয়েছিলো ।  নেতাজী সুভাষচন্দ্রের মৃত্যুর রহস্য আজও রহস্যই রয়ে গেছে । ক্ষণজন্মা পুরুষ সুভাষচন্দ্র ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতীক , তার রাজনৈতিক মেধা স্বীয় সিধান্তে অটল এবং রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং প্রজ্ঞা সম্পন্ন গুণসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব । আজ তার জন্মদিনে তার প্রতি শ্রদ্ধা এবং বিপ্লবী সালাম । তথ্যসুত্র,  বাংলাদেশের দলিলে ও সংবাদপত্রে নেতাজী সুভাষ , ডঃ রতন লাল চক্রবর্তী ।

 

লেখক , শুদ্ধস্বর ডটকমের প্রধান সম্পাদক ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.