রাজধানীতে বিস্ফোরণে উড়ে গেল পাঁচটি ম্যানহোল ও স্ল্যাব

রাজধানীর ইন্দিরা রোডের সড়কে বিস্ফোরণে পাঁচটি ম্যানহোল ও স্ল্যাব উড়ে গেছে। এতে সড়কটিতে ছোট বড় কয়েকটি গর্ত তৈরি হয়। কোথাও কোথাও ফাটলও দেখা যায়। শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) বেলা পৌনে তিনটার দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খামারবাড়ি দিকে যেতে ইন্দিরা রোডের শেষ মাথায় বিকট আওয়াজ তুলে কয়েকটি বিস্ফোরণের আওয়াজ শোনা যায়। এ সময় ওই সড়কের পাঁচটি ম্যানহোল ও স্ল্যাব উড়ে যায়। সড়কটিতে ছোট বড় কয়েকটি গর্ত তৈরি হয়। কোথাও কোথাও ফাটলও দেখা যায়।

‘ঘটনার পর পরই ওই এলাকায় ফায়ার সার্ভিস, সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ আসে। ফায়ার সার্ভিসের দলটি এসে ওই সড়কের নিচের গ্যাস ও ময়লা পরিষ্কার করে চলে যায়।’ ওই সড়কের একটি বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী মো. নাজমুল খান। বিস্ফোরণের সময় তিনি সড়কেই ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘রাস্তায় তখন মানুষ ছিলই না। কেবল একটা প্রাইভেট কার ছিল। একেকটার পর একটা ম্যানহোলে বিকট আওয়াজে বিস্ফোরণ হচ্ছিল। মোটা পাঁচটি। প্রাইভেট কারটি তখন থেমে যায়। বিস্ফোরণের পর আমি জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করি। এরপর ফায়ার সার্ভিস ও সিটি করপোরেশনের লোকেরা আসেন।’ স্থানীয় বাসিন্দা মো. শরীফ হোসেন ঘটনার পর পরই ওই সড়কে এসে দাঁড়ান।

তিনি জানান, ‘দুপুরের দিকে হঠাৎ করে বিকট আওয়াজে শব্দ হয়। এসে দেখি ম্যানহোলগুলো উল্টে আছে, স্ল্যাবগুলো উপড়ে গেছে। আর চারপাশে গ্যাসের গন্ধ। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। বারবার তিতাসকে জানানোর পরও কোনো সমাধান মেলেনি।’

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০১৮ সালের মার্চ মাসের দিকে পূর্ব রাজাবাজার এলাকায় একই ধরনের গ্যাসের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ইন্দিরা রোডের এই অংশেও তাঁরা গ্যাসের গন্ধ পেয়েছেন। গ্যাসের এই সমস্যার কথা ঢাকা ওয়াসা ও তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিসট্রিবিউশন কোম্পানিকে বেশ কয়েকবার জানিয়েও কোনো সমাধান তাঁরা পাননি।

বিকেলে সেখানে বাতাসে গ্যাসের গন্ধ এসে নাকে লাগে। ওই রাস্তায় ম্যানহোলগুলোতে তখন কাজ করছিলেন তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিসট্রিবিউশন কর্তৃপক্ষের ভাড়াটে শ্রমিকেরা। তখনো একটি ম্যানহোল থেকে গ্যাস বের হচ্ছিল।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.