মমতাজের প্রতি ভালোবাসার নিদর্শনস্বরূপ তাজমহল গড়েছিলেন সম্রাট শাহজাহান। লাইলি-মজনু কিংবা চণ্ডীদাস-রজকিনীর প্রেম কাহিনীও আজও মানুষের মুখে মুখে। আজও তারা প্রেমিক-প্রেমিকাদের অনুপ্রেরণা। এবার সেই ভালোবাসার কথা মুখ ফুটে জানালেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।
স্ত্রী বুশরা খানকে ছাড়া তিনি ‘বাঁচবেন না’ বলে জার্মান ম্যাগাজিন ‘দেয়ার স্পিগেলস’ এর সাংবাদিক জুজানে কোয়েলডকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন ইমরান।
গেল শুক্রবার ওই সাক্ষাৎকার দেন পাক প্রধানমন্ত্রী। তার সেই সাক্ষাৎকারের বরাত দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জিও টিভি।
বুশরা সম্পর্কে ইমরান খান বলেন, ‘বুশরার সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক। সে আমার সঙ্গী। আমি তাকে ছাড়া বাঁচবো না। বাঁচতে পারবো না।
ইমরান সরকারের ওপর বুশরার প্রভাব নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যখন জোর আলোচনা চলছে, ঠিক এমন সময় স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা উগড়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
ওই সাক্ষাৎকারে ইমরান খান আরও বলেন, ‘বুশরা অনেক জ্ঞানী। বোকারা স্ত্রীর কাছে সব কথা বলে না। আমি সবকিছু নিয়ে বুশরার সঙ্গে আলোচনা করি। সরকার পরিচালনা করতে গিয়ে আমি যেসব সমস্যার সম্মুখিন তা নিয়েও ওর সঙ্গে কথা বলি। বিভিন্ন জটিল পরিস্থিতি নিয়েও আমি ওর সঙ্গে আলোচনা করি।’
এর আগেও স্ত্রীর জ্ঞানের প্রশংসা করতে দেখা গেছে ইমরান খানকে। পিটিআই সরকারের ১০০ দিন পূর্তির অনুষ্ঠানেও বুশরার ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী।
২০১৮ সালে তৃতীয়বারের মতো তার আধ্যাত্মিক ধর্মগুরু বুশরা মানেকার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খান। বিয়ের পর থেকেই বুশরার নামের পেছনে ‘খান’ যুক্ত হয়।
১৯৯৫ সালে জেমাইমা গোল্ডস্মিথের সঙ্গে প্রথম বিয়ে হয় ইমরান খানের। তাদের সংসারে সালমান ও কাশেম নামে দুই সন্তান আছে। ২০০৪ সালে জেমিমার সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হলে সাংবাদিক রেহাম খানকে বিয়ে করেন ইমরান। দ্বিতীয় সংসার টিকেছিল মাত্র ১০ মাস। এরপর বুশরার সঙ্গে এক সময়ের ‘প্লে বয়’ খ্যাত ইমরান খানের নতুন ইনিংস শুরু হয়। বুশরারও একটি দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে খাউয়ার ফরিদ মানেকা নামে ইসলামাবাদের এক সিনিয়র কাস্টমস অফিসারকে বিয়ে করেছিলেন ইমরানের বর্তমান স্ত্রী।
ইমরান খানের জীবনে এর আগেও বহু নারীর আগমন ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বহু নারীর সঙ্গে তার সম্পর্কের খবর মিডিয়ায় বহুবার শিরোনাম হয়েছে।

