রাজধানীর মাইন্ড এইড হাসপাতালে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিম শিপন হত্যা মামলায় ওই হাসপাতালের আরও চার কর্মচারীকে সাত দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে গত ১০ নভেম্বর ওই হাসপাতালের দশ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
বুধবার (১৮ নভেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সুফিয়ান মো. নোমান আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিষয়টি আদালতের সংশ্লিষ্ট থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা এসআই মনির আহমেদ নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘সাত দিনের রিমান্ড শেষে চার আসামিকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. ফারুক মোল্লা। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তিনি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন।’
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এছাড়া ১৩ নভেম্বর হাসপাতালের পরিচালক ফাতেমা খাতুনকে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে এএসপি আনিসুল হত্যা মামলায় মোট ৬ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ১৫ নভেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ উর রহমান আসামি শেখ মাসুদ ও অসীম চন্দ্র পালের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। ১৬ নভেম্বর মাইন্ড এইডের মার্কেটিং ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ জয় ও সজীব চৌধুরী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। গতকাল মঙ্গলবার তানিফ মোল্লা ও তানভীর হাসান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছে।
জানা যায়, পারিবারিক ঝামেলার কারণে আনিসুল মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ৯ নভেম্বর দুপুরে পৌনে ১২টার দিকে আনিসুলকে মাইন্ড এইড হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালটিতে ভর্তির কিছুক্ষণ পরই কর্মচারীদের ধস্তাধস্তি ও মারধরে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। এ ঘটনায় আনিসুলের বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফাইজুদ্দীন আহম্মেদ বাদী হয়ে আদাবর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আনিসুল করিম শিপন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ণ ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ৩৩ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। সে ৩১তম বিসিএসে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পায়। এক সন্তানের জনক আনিসুলের বাড়ি গাজীপুরে। আনিসুল করিম সবশেষ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

