নির্জন ফুটপাতে প্রাইভেটকার থেকে একজন নেমে একটি কাপড়ের ব্যাগের ভেতর কিছু একটা রেখে দ্রুত চলে যান। কিছুক্ষণ পর কয়েকজন পথচারী কান্নার শব্দ শুনতে পারেন। তারপর ব্যাগ খুলে দেখেন, লাল কাপড়ে মোড়া একটি সদ্যজাত শিশু। পথচারীরা গিয়ে খবরটি জানান পাশেই দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক সার্জেন্ট সমরেশকে। ঘটনাটি গতকাল বুধবারের। আর শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় রাজধানীর গলফ ক্লাব ও খিলখেতের নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকার এক নম্বর গেটের মাঝামাঝি ফুটপাত থেকে।
ট্রাফিক সার্জেন্ট সমরেশ শিশুটিকে সঙ্গে সঙ্গেই নিয়ে যান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু কোভিড ডেডিকেটেড হওয়ায় সেখানে শিশুটির ভর্তি নেয়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে ট্রাফিক সার্জেন্ট বিষয়টি ওই এলাকার মোবাইল টিমের দায়িত্বে থাকা খিলক্ষেত থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুরুল হাবিবকে জানান।
মঞ্জুরুল হাবিব বলেন, ‘আমি শিশুটিকে পরে ঢাকা শিশু হাসপাতালে ভর্তি করাই। সেখানকার আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. রিজওয়ানুল হাসান বিপুলের তত্ত্বাবধানে শিশুটি চিকিৎসাধীন। শিশুটি ভালো আছে বলে চিকিৎসক আমাকে জানিয়েছেন। এই ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করছি আমি।
তদন্ত কর্মকর্তা আরো বলেন, সেখানকার স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে শুনেছি, একটি প্রাইভেটকারে করে এসে কে বা কারা শিশুটিকে ফেলে গেছে। শিশুটিকে দেখে মনে হয়েছে দুই-তিন ঘণ্টা আগে জন্ম হয়েছে। যে ফুটপাতে এই ঘটনা ঘটেছে, সেটি সিসি ক্যামেরার আওতার বাইরে ছিল। তবে আমরা সব মিলিয়ে বিষয়টি ভালোভাবে তদন্ত করে দেখছি।
বাচ্চাটিকে দত্তক নিতে চায় এমন ৩০০টি ফোন পেয়েছেন জানিয়ে খিলক্ষেত থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি তাদের বলেছি, এই ঘটনায় যেহেতু একটি জিডি হয়েছে, আপনারা আদালতে আবেদন করেন। আদালত যাকে ভালো মনে করবেন তার কাছে বুঝিয়ে দেবেন।

