মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আইন মন্ত্রণালয়ের প্রতি বিনীত অনুরোধ, নির্মাণ আইন সংশোধন করুন

নির্মাণ কাজের অনিয়ম, প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তার অর্থ কামানের  অবৈধ পন্থা  চলে আসছে বিগত দিন গুলোতে। জনগণের সেবা খাদ থেকে লুটপাট করতে আইনের ফাকঁ ফোঁকরে  বিগত বৎসর গুলোতে চুরি বা অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার রিতি রেওয়াজ কোনো সরকারই অস্বীকার করতে পারবে না, বিগত দিন গুলোর কার্যক্রমে।
তবে এ ভাবেই কি চলতে থাকবে? এখান থেকে বেরিয়ে  আসার উপায় কি?
উপায় হচ্ছে নির্মাণ স্থায়িত্বের নিশ্চয়তা নিয়ে আইন পাশ করা এবং নির্মাণ স্থায়িত্বের গ্যারান্টি নির্মাণ সিডিউলে উল্লেখ রেখে ও বড় জামানতের ভিক্তিতে যে কোনো নির্মাণ কাজ কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তর করা।
বর্তমান নিয়ম হচ্ছে নির্মাণ কাজে যে যতো কম খরচ সরকারের কাজ পেতে টেন্ডারে দেখাতে পারবে  সেই কাজটি পাবে, আর এই সুযোগে ভাগ-বাটোয়ারার সুবিধার্থে যে কাজের খরচ পাঁচ কোটি সেখানে ৭/৮ কোটি হিসাবে সিডিউল ও টেন্ডার বের হচ্ছে
এবং হিসাব কিতাব, ভাগ বাটোয়ারার পর শেষ মার্জিন পাচঁ কোটি বা এমন ধরণের পর্যায়ে এনে কাজ দেওয়া হচ্ছে। এতে কাজ পাওয়ার পর কাজটি দাড় করিয়ে বিল পাশ করতে খরচাপাতি করে কোম্পানি বা কন্টাক্টর অর্থ লুটপাটের সকল ছিদ্র গুলো ইন্জিনিয়ারদের যোগসাজশে  বন্ধ করে খ্যান্ত। দায়িত্ব শেষ।
কিন্তু এই আই ওয়াসের পর কে নেবে এই নির্মাণ স্থায়ীত্বের জবাবদিহিতা বা গ্যারান্টি?
কোনো কাজের টেকসই, নুন্যতম কত বৎসর স্থায়ীত্ব পাবে বা টিকে থাকবে তা অবশ্যই থাকতে হবে কাজটির লিখিত শর্তে।
শুধু তাই নয় এর রক্ষাবেক্ষনের দ্বায়ভার ছাড়া কাজ দেওয়াতে যে, গ্যাস লাইনে দূর্ঘটনা হচ্ছে, বিল্ডিং ধ্বংসের কারণ মানুষ মরছে, রাস্তাঘাট ব্রিজ বছর না যেতেই ভেঙ্গে পড়ছে নিতে হবে এর দায়ভার । তবেই রোধ হবে মৃত্যুর মিছিল। বন্ধ হবে সকল দপ্তরের হয়রানি। বন্ধ হবে প্রদীপের মত পুলিশের রাহাজানি।
এর প্রতিকার অত্যাবশ্যক। যে বিষয় গুলোতে আইন গত দূর্বলতা রয়েছে সেই আইনগত দূর্বলতা কেটে উঠতে বিশেষ প্রয়োজন আইনের সংযোজন। প্রয়োজন নির্মাণ স্থায়িত্বের গ্যারান্টি ও রক্ষণাবেক্ষণের  আইনগত বিষয় গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে নির্মাণ কাজের দায়ভার  দেওয়ার আইন পাস করা।
তাই যদি কোনো কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার আগে জবাদিহিতার বিষয় গুলো উল্লেখ রেখে নির্মাণ কাজ পাওয়ার পূর্ব শর্ত থাকতো এবং সরকারের স্পেশাল তদারক দপ্তর থাকতো, দেখভাল করার স্পেশাল ফোর্স থাকতো এবং এখানের শর্ত ভঙ্গতে বিশাল অংকের অর্থ জরিমানা  ও জেল ও শাস্তির বিধান থাকতো তবে হয়ত বর্তমানের এই  সমস্যা হতে মুক্তি পাওয়া যেতো।
জবাবদিহিতা হউক সর্বস্তরে সর্বক্ষেত্রে আইন ও শাসনের মুল চাবিকাঠি তবেই সম্ভব  একটি সুষ্ঠু, সুস্থ,সুন্দর দেশ জনগণকে উপহার দেওয়া।
আশা রাখি সকল মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আইন সংশোধন, সংযোজন করে সুষ্ঠু ধারায় আগামীতে পথ চলবে।
ময়েদুল ইসলাম তালুকদার , জার্মান প্রবাসী কবি ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.