লাইসেন্স বিহীন হাসপাতালের ভিজিটিং চার্জ বুঝি কম ? রিজেন্ট হাসপাতালের লাইসেন্স বিহীন কার্যক্রম বিগত দিন গুলোতে চলে আসা এমনটাই প্রমান করে যে অর্থমন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের উদাসীনতা চরম পর্যায়ে।
কি ভাবে রাজধানীর মাঝখানে থেকে এমন একটা স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স বিহীন কার্যক্রম চালাতে পারে তাও আবার অনুমতি ছাড়া, উপর্যুপরি ভূয়া করোনা সার্টিফিকেট প্রদান পরীক্ষা ছাড়া, যাতে জড়িয়ে আছে লাখো মানুষের জীবন মরণের প্রশ্ন? কি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর? কি করে অর্থমন্ত্রণালয়? প্রশাসনের কাছে তা জানতে ইচ্ছে করে। কার লাইসেন্স আছে না নাই, তা দেখার জন্য যে ঐ এলাকাতে নিযুক্ত আছে তাকে চাকরি থেকে কেনো বহিষ্কার করা হচ্ছে না, সে জবাব চাইতে কি আদালতে মামলা করতে হবে? না কি সরকার এর দায়ভার নিজ থেকে নেবে?
জার্মানিতে একটা স্বাভাবিক ব্যবসার অনুমোদন পত্রের জন্য গুণতে হয় বার্ষিক ২০০ থেকে ৩০০ ইউরো, অর্থাৎ ২০,০০০ থেকে ৩০,০০০ হাজার টাকা, যা সামান্য ফুটপাতের সমতুল্য ব্যবসায়ীদের, তা ছাড়া ক্রয় ও বিক্রয় ট্যাক্স তো আছেই। সে অনুপাতে বাংলাদেশ ছড়িয়ে ছিটে আছে লাখো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যারা সরকারকে ফাঁকি দিয়ে চলেছে রাজস্ব।
আমরা দেশে আর্থিক সংকটের কথা বলি, কিন্তু যদি সরকারের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান সঠিক তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতো তবে বাজেট ঘাটতি তো দুরের কথা পৃথিবীর সকল দেশ ছাড়িয়ে গিয়ে পৌছে যেতো উন্নয়নের চরম শিখরে।
যে সরকার বা দল ক্ষমতায় থাকুক না কেনো যদি প্রশাসনের কর্মচারীরা তাদের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন না করে, তবে সয়ং ভগবান বা আল্লাহ ক্ষমতায় বসেও এদেশ এগিয়ে নিতে পারবে না।
তবে কি মন্দের ভালো? তা কেনো হবে? শিক্ষিত বলে যারা দাবি করেন তারা কোথায়? নাকি সবাই মরে গেছে? না জেলে আছে?
মানুষের ব্যাক্তিগুণাবলির নাম যে শিক্ষা তার কি বিলুপ্ত হয়েছে? অন্যায়ের প্রতিবাদ করাও ব্যাক্তিগুণাবলির আওতায় পড়ে, কেনো তার বহিঃপ্রকাশ নেই, যারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী তাদের মাঝে?
আমি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ছোট্ট থেকে দেখেই বড় হয়েছি, তাঁহার পক্ষে শিক্ষিত প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী একা জন্ম দেওয়া সন্ভব নয়, যদি কেউ নিজে থেকে ভালো না হয়।
আপনারা যে যেখানে আছেন সেখান থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করুন, নিশ্চয়ই এর পরিবর্তন আসবে। যতটুকু অপরাধমুলক কাজ ধরা পড়ছে তার কঠোরতর সাজা দিয়ে ব্যবস্থা নিন অবশ্যই এমন ঘুণে ধরা সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন আসবে। আপনার জন্য না হলেও আপনার প্রজন্মের জন্য ভালো, অপরাধ মুক্ত সমাজ গড়ার দায়িত্ব আপনার উপরই বার্তায়। অপরের দোষ খোঁজার আগে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে একটু ভাবুন, একটু নিজেকে জানুন, দেখবেন আপনি নিজেকে পরিবর্তন করে অন্যকেও পরিবর্তন করতে পারছেন।
মায়েদুল ইসলাম তালুকদার, প্রবাসী লেখক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ।

