তথ্য প্রবাহ নিয়ে অনেকবার লিখেছি। আজকেও আবার সেই পুরনো কাসুন্দি ঘাটতে হচ্ছে, আপনাদের কল্যাণেই । সত্যি বলতে কি, ক্ষমতার চেয়ারে বসার পরেই আপনাদের পা আর মাটিতে পড়তে চায় না ! নিজেদের ” কি হনুরে ভাবতে থাকেন “! কথাটি কেবল যে জনগণ ভাবেন বা বলেন তা কিন্তু নয় । স্মরণ হয় কি , স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একবার একই কথা বলেছিলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন ” হুদা” সাহেব কে । কেন বলেছিলেন ? সেটা সেই সময়ে একবার লিখেছিলাম, এখন আর চর্বিতচর্বণ করবো না । তাছাড়া সেটা ভিন্ন আলোচনা। তবে প্রধানমন্ত্রী নিজেই এমন কথা বলেছিলেন, আমি কেবল উনার এবং জনগণের কাছ থেকে ধার করে লিখলাম।
আর জনগণ!
তারাতো ধইনচার ডান্ডা, যেমনে খুশি তেমনেই, করতে চান ঠান্ডা ! ধরে, মেরে, ঘাড় মোটকে, হুমকি, ধামকি, ভয় ধরিয়ে, গুম, খুন বা বর্ডারে পাঠিয়ে, কি করতে চান অর্জন?, জনগণ চুপটি মেরে, সোসাল মিডিয়ায় চড়াও হয়ে, থামিয়ে দেয় আপনাদের, ফালতু সব গর্জন।
আজকেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসিরউদ্দিন ২০ কোটি টাকার হিসেব নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য হয়েছেন । লক্ষণীয় যে, এই সংবাদটি সর্ব প্রথম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছিলো, তৎপরবর্তীতে মেইনস্ট্রিম পত্রিকায় খবারাখবর হতে লাগলো ( আজকাল মেইনস্ট্রিম পত্রিকায় অনুসন্ধান মুলক খবর পাওয়া দুরূহ, তারা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই বেশি নির্ভর করে, দুঃখজনক) অতঃপর বিষয়টি সংসদে উঠলো । সংসদে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নিজেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ।

আজকের সংবাদ সম্মেলন নিয়ে কিছুই লিখবো না, এটা পত্রিকায় চোখ বুলালেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে, অথবা টিভির পর্দায় । ব্রিগেডিয়ার জেনারেল যে হিসেব দিয়েছেন তাতে করে ২০ কোটি টাকার হিসেব মূলত কমই খরচ হয়েছে । হিসেবে তা উনি পরিষ্কার করেছেন এবং বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় । বরং বলা যায়, কম খরচের কারণে আমাদের ডাক্তার/ নার্সরা কস্ট করেই সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছেন। আমার দাবী হবে প্রয়োজনে তাদের বরাদ্দ বাড়ানো হোক, কেননা উনাদের এই মূহুর্তে ভালো রাখাটা বিশেষভাবে জরুরি।
আমার বলার বিষয়টি হচ্ছে তথ্য প্রবাহ। আমাদের দেশে তথ্য সংগ্রহের আইন আছে, তবে কাজ যে হয় না তা বলাই বাহুল্য। সরকারের কাছ থেকে সঠিক তথ্য পাওয়া যেন আল্লাহ্রর নিকট হতে ওহি পাওয়ার সমান ! করোনার শুরু থেকেই সত্য তথ্য প্রকাশ করুন, এমনটি নিয়ে অনেকবার লিখেছি। কম্ভুকর্ণে সেই আওয়াজ পৌঁছাবে কে? আমি সহ অনেকেই বারবার বলি, শতবার বলি, সত্য প্রকাশ করুন, সমালোচনা হলেও ভবিষ্যতে ঝামেলা কম হবে। কিন্তু সরকার বাহাদুর সেই পথে হাঁটেই ভয় পায় ! বুঝাই যায় দূর্বলতা আছে, তাই বলে কি সত্য প্রকাশ না হলে, সব সঠিক হয়ে ধরা দিবে? উত্তর হচ্ছে না। এটা সরকারের একান্তই ভুল ধারণা । আগামীতেই ভিন্ন তথ্য বের হবেই এবং আবার সেই গোড়া থেকে প্যাঁচাল শুরু হবে । আমরাও একি বিত্তের মাঝেই চক্কর খেতে থাকবো এবং ফলাফল শূণ্য।
লক্ষ্য করুন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের এই ঘটনাটি। সংসদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং যখন প্রশ্ন তুলেন, তারপরেও এই মন্ত্রনালয়ের যে সংসদীয় কমিটি আছে, তারাও সঠিক তথ্যটি প্রধানমন্ত্রীর নিকট পেশ করতে ব্যর্থ হলো ! সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বলা কথা বা প্রশ্নের ওজন জনগণের নিকট কতটা ভারী হবে ? সেটা কি এই মন্ত্রনালয় বুঝতে পেরেছে ? একবার ভাবুন তো, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাহেব যেভাবে সংবাদ সম্মেলনে সব হিসেব দিলেন, সত্য বলেই প্রমাণ হবে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। এবার ভাবুনতো , মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সম্মানটি এখন এই মন্ত্রনালয়ের কল্যাণে কোথায় গিয়ে পৌঁছালো বা কতটা হাল্কা হলো ? আর প্রধানমন্ত্রীই কি এখন সেই সংসদে দাঁড়িয়ে বলবেন, আমি ভুল করেছি !
আসুন একবার দেখার চেষ্টা করি, কেন ২০০০ হাজার টাকা দামের পাউরুটি, ৩০০০ হাজার টাকার দামে ভিম বা ইত্যাদি ইত্যাদি জনমানুষেরা বিশ্বাস করলো? সহজ উত্তরটি হলো, এই স্বাস্থ্যখাতেই ইতিপূর্বে ৩৭ লাখ টাকা দামে পর্দা, ৯০ হাজার টাকার বালিশ ইত্যাদির খবর সত্য বলে প্রকাশ হয়েছিলো । সেটার বিচার কি হয়েছে ? জনগণ আজ অব্দি জানেনা এবং ভবিষ্যতেও জানবে বলে মনে হয় না । সেই তথ্য প্রবাহের অভাব । সুতরাং জনগণের চোখকে যত ফাঁকি দেবার চেষ্টা করবেন, ঠিক ততটাই বিপদ ঘণিয়ে আসবে ।
গতকালই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাজ নিয়ে একটু কড়া ভাষায় লিখেছিলাম, ” বলদ দিয়ে পাল হয় না” আজকে এই সংবাদ সম্মেলনের পরে সেটাই আবার প্রমাণিত হলো । অবশ্য আমরা সিঙ্গাপুর/ হংকং/ আমেরিকা/ কানাডা হলেও, এই স্বাস্থ্যমন্ত্রী বহাল তবিয়তেই তার চেয়ারেই আছেন !
লেখার শেষে বলি, তথ্য প্রবাহ যত বন্ধ হবে, ততটাই গুজব বা রটনা ঘটবে । তথ্যের গোপন করে সরকারের হাতে বন্দী বিটিভি চালানো যায় । দেশে একদিকে গুম/খুন/ রাহাজানি/ জুলুম/ অত্যাচার/ অবিচার/ অমানবিকতা বা লাশের বন্যা বয়ে যাবে কিন্তু বিটিভিতে সবজি চাষ দেখানো যাবে, তাই বলে জনগণের চিন্তাভাবনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহ করা যায় না । পেরেছেধপেরেছেধকি কোনো খবর গোপন করে রাখতে ? তাই বলছিলাম, ” যত বেশি খোলা, তত কম ঘোলা “। ঘোলা পানিতে মাছের জায়গায় সাপও উঠে আসে ।

বুলবুল তালুকদার
যুগ্ম সম্পাদক শুদ্ধস্বর ডটকম

