পেন্ডুলাম দুলছেই

করোনার কল্যাণেই দেশে স্বাস্থ্যখাতের এত অনিয়ম নিয়ে কথা হচ্ছে, আমরা জনগণ হা করে সব শুনছি আর অবাক হচ্ছি। আমরা সাধারণ জনগণ সত্যি কি  অবাক হচ্ছি ? ধারণা করি অবাক হবার পার্সেন্ট শূণ্যের কোঠায় । কেননা জনগণ এর বিপরীতে ভিন্ন কিছু আশা করেনি বলেই মনে হয় । কেননা জনগণ সব জানে এবং বুঝেও ।

লিখে রাখুন, আগামীকাল যদি প্রকৃতি ও বন- জঙ্গল নিয়ে কিছু ঘটে ( এমনটা জানি না ঘটে, সেটাই কামনা ), দেখবেন বন বিভাগেও একি অবস্থা।  হয়তো বা দেখা যাবে সুন্দর বনে কোনো বাঘের অস্তিত্বই নাই ! সব অনেক আগেই বিক্রি হয়ে গেছে । বাঘ সুমারী নামে যে সব বাঘের ছাপ- টাপ মাটিতে  পাওয়া গিয়েছিলো, সেগুলো ছিলো সব ভোগাস । প্রজেক্ট তৈরি করেছে প্ল্যান অনুযায়ী এবং সব হজমও হয়ে গেছে প্ল্যান অনুযায়ী নিশ্চয়ই।

আগামীকাল মাছের মরক পড়ুক, দেখতে পাবেন মৎসহ বিভাগের কাণ্ডকারখানা । হয়তোবা কোটি কোটি পোণা মাছ কাগজে- কলমে ছাড়া হয়েছে, জলে নয় । কাজীর কিতাবের মত। জলে মাছ নাই, অসুবিধে হবেনা মৎসহ  বিভাগের হিসেব মিলাতে । অন্তত বলা যাবে বানের জলে সব ওপারে চলে গেছে ।

কথাগুলো বললাম কারণ আপনি যেখানেই যাবেন এমন ঘটনার বিপরীত কিছু পাবেন না । এমন কোনো প্রতিষ্ঠান পাবেন না যেখানে আপনি স্বচ্ছন্দে সব হিসেব মিলাতে পারবেন ! এমন কি হিসেব মিলানোর কোনো তড়িকাই নাই । তথ্য প্রবাহ আইনগতভাবে পাওয়ার কথা থাকলেও সেটা পাওয়া অনেকটা সোনার হরিণ পাওয়ার সমান ।

অথচ আশ্চর্যের বিষয় এই দেশটি স্বাধীন হয়েছিলো সমতার কারণে । স্বাধীন হয়েছিলো অধিকার পাওয়ার কল্যাণে । স্বাধীন হয়েছিলো মানবতা নিশ্চিত করার ব্রত নিয়ে  ! আজ অবাক চোখে দেখতে হয় সবকিছুই লুণ্ঠিত হয়ে আছে। বড় কস্ট নিয়েই বলতে হয়, বর্তমানে প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরেই ক্ষমতায় আছে আমাদের স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারি দলটি । তারপরেও প্রশ্ন তোলার অধিকারটুকুও আজ হরণ  হয়ে আছে । প্রশ্ন তুললেই অতিত টেনে কিছু কথা শোনানোর লোকের অভাব নেই ! অথচ অতীত থেকে শিক্ষা নিতে অপারগ  !

কথা প্রসঙ্গেই বলছি, কে এক শাহেদ ! তেরো বছর সরকার ক্ষমতায় আছে, শাহেদও আছে, অথচ শাহেদ বিএনপির না আওয়ামী লীগের সেটা নির্ধারণ করাই যেন প্রথম কাজ  !  মনোবিজ্ঞানের ভাষা বলে, দূর্বলতা ঢাকার জন্য দূর্বলেরা চিৎকার করে । শাহেদকে নিয়ে চেঁচামেচি তেরো বছরকে সামনে তুলে ধরে, এইটুকু কি সরকারের মাথায় খেলে না ! যতই চেঁচামেচি করা হোক, জনগণকে এগুলো আপাতত খাওয়ানো গেলেও, হজম করানো কখনোই সম্ভব নয় এবং কখনোই না ।

প্রশ্ন করা আবার বিপদের হয় । তারপরেও প্রশ্ন করতেই হয় , পেরেছেন কি, সম্রাট/ জিকে শামিম এদের ক্যাসিনো কান্ডের এত তুলকালাম জনগণকে হজম করাতে ? উত্তর হচ্ছে না পারেন নি এবং পারবেনও না। আবার বলতে হয়, জনগণ বোকা নয় , সব বুঝে এবং জানে ।

লেখার শেষে বলি , অতীতে বারবার আঙুল না তুলে নিজেদের এক যুগের বেশি সময়কে মূল্যায়ন করুন। সত্য কঠিন হলেও হজম করে প্রতিকার করুন । স্বাধীনতার মূলমন্ত্র কি ছিলো? সেগুলোকে একবার ঝালাই করে দেখুন, কেননা আপনারা ছিলেন স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারি দল। শুধু প্রার্থনা থাকবে, আগামীর দিনগুলোতে যেন এমন কিছু না ঘটে, যেখানে সর্বত্রই হাজারে হাজারে শাহেদরা বেরিয়ে আসে । শাহেদরা আপনাদের ঘরেই আছে । আপনারাই লালন- পালন করছেন । আপনারাই শাহেদদের হর্তাকর্তা/ মাতা- পিতা । আগামীতে অন্য শাহেদ বের হবার পূর্বেই সাবধান হোন । তা না হলে, সুযোগ পেলে জনগণ আপনাদের সরকারকেই শাহেদর ভোগান্তিতে ভোগাবে।  ।

চোখে পানি থাকলে নিজেই মুছে নেওয়া ভালো,  তা না হলে অন্যেরা সেই পানি নিয়ে ফয়দা লুটে 

 

20190210_195317

বুলবুল তালুকদার 

যুগ্ম সম্পাদক শুদ্ধস্বর ডটকম  ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.