চোখে স্পেশাল গ্লাস, মুখে মাস্ক ও হাতে হ্যান্ড গ্লাফসের প্রটেকশন থাকে জার্মানিতে দাঁতের ডাক্তারদের । ব্যাথা নেই, সমস্যা নেই তবু আগামীতে সমস্যা হতে পারে সেই হেতু আগাম সতর্কতা বৎসরে কম পক্ষে দু’বার। শরীরের ফিটনেস কমে যেতে পারে সেই আশঙ্কায় জিম , সাইকেলিং, দৌঁড়ানো, সাঁতার কাটা, রক্তের প্রয়োজনীয় উপাদানের ঘাটতিতে রুটিন পরিক্ষা, খাদ্যাভাসে কমতে বা বাড়তে পারে চর্বি বা ফ্যাট, হার্ণজয়রে ইত্যাদির উপর চলতে থাকে প্রতিটি মানুষের পরীক্ষা নিরীক্ষা সারাটি বৎসর ধরে। অস্বাস্থ্যকর খাবারে মানুষ অসুস্থ হতে পারে তার নিরিখে প্রতিটি খাবারের দোকানে চলে রুটিন পরীক্ষা।
আমদানিকৃত সকল পন্যসামগ্রিই দেশে ঢুকতে দেওয়া হয় একটা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর শনাক্তকরণের পর। প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বীমা পলেসী সরকারি ও বেসরকারি দু’টো নিয়মেই চালু আছে, যার নিরাপত্তা সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সমূহ এবং এর তদন্ত ও নিরাপত্তা বিধান করচ্ছে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়।
প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্যখাত সুরক্ষিত করতে করা হয়েছে বিশেষ নীতিমালা। যাতে করা হয়েছে প্রতিটি চাকরিজীবী, ব্যাবসায়ী বা যে, যে পেশাতে থাকুক না কেনো তার আয়ের উৎস হতে স্বাস্থ্যখাত আয় বা বেতনের ১০% থেকে ২০% অংশ যা সামাজিক জীবন ব্যবস্থার উপর সমীক্ষা করে করা হয়েছে। প্রতিটি নাগরিকদের কাছ থেকে এই অর্থ আদায়ের যে ব্যবস্থা গুলো করা হয়েছে তা হচ্ছে বেতনের পে স্কেল হতে সরকার বাধ্যকতা হিসাবে কেটে নিচ্ছে এবং বেরসকারী ও প্রাইভেট হলে তা-ও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবে যদি কারো বেতন থেকে এ্যাভারেজ হিসাবে ২৫০ ইউরো নেওয়া হলে ১২ মাস অর্থাৎ ১ বৎসরে সে এই বীমায় বা খাতে জমা করে আসে ৩০০০ হাজার ইউরো, যা প্রায় ৩ লাখ টাকার মত। ১০ বৎসরে ৩০ লাখ,৪০ বৎসর চাকরির মেয়াদ হলে দাড়া ১ কোটি ২০ লাখ টাকা যা সুদ ছাড়াই আর এর উপর ভিক্তি করেই দাড়িয়ে আছে জার্মানির স্বাস্থ্য সংস্থা বা স্বাস্থ্যসেবা খাত । জনস্বাস্থ্যের কোনো অবনতি না হওয়া মানেই স্বাস্থ্য খাতে বাড়তি আয় সেই লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার।
সরকার প্রধানের কোরনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রথম ভাষণে বলে ছিলেন, হয়ত ৭০% লোক এতে আক্রান্ত হতে পারে, ঠিক এমমই একটা দুর্ভাবনা বসত এই প্যান্ডামি বা মহামারীকে সামাল দেওয়া কঠিনতর হবে মনে করে আত্মহত্যা করে বসে এক স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জনগণের প্রতি কত কর্তব্যনিষ্ঠা হলে একজন মন্ত্রী আত্মহত্যা করতে পারে তা পৃথিবীতে বিরল।
মাত্র অল্প কয়েক সপ্তাহে ৫০০ বেড সহ আইসোলিশন বিশিষ্ট নির্মিত কোরনার বিশেষ হাসপাতাল আজ রুগী শুন্য। সমস্ত আইন কানুন স্বাস্থ্যবিধি চলছে তার নিজস্ব গতিতে। ১৮ বৎসরের নিচে কারও সাধ্য নেই মাদক দ্রব্য,এ্যলকাহল, তামাক সিগারেট, ইত্যাদি ক্রয়ের। যাতে ক্রেতার চাইতে বিক্রেতার লাইসেন্স সহ বড় ধরণের সাজ ও জেল,জরিমানার বিধান। এ দিকে মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া খাবার, ঔষধ, সব্জি, মাছ, মাংস, নিত্য প্রয়োজনীয় সকল দ্রব্যসামগ্রীতে রয়েছে স্পষ্ট ভাবে তারিখের সীমারেখা, যার বিন্দুমাত্র অনিয়ম মানেই বড় ধরণের জরিমানা।
কেউ কোথাও পাবে না তারিখ সুনির্দিষ্ট ছাড়া কোনো দ্রব্য। রোগ নেই, রুগী নেই। পলিউশন নেই, রক্তের সমস্যা নেই। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ১০০% ঠিক তবে সবই ঠিক। ৯৩ এর নিচে মানেই শ্বাসকষ্ট, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা।
ধীরগতিতে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেক হাসপাতাল। আর এর সবকিছুর জন্য, এ দেশের স্বাস্থ্যখাতের ভুমিকা নিয়ে পৃথিবীর অনন্য দৃষ্টান্তে আজকের জার্মানি।
যে খানে কোটি কোটি টাকার চিকিৎসা পেয়ে থাকে প্রতিটি নাগরিক। আমার বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকদের এমন সুবিধা দিতে সরকারের সদিচ্ছা ও পুরো অর্থ মন্ত্রনালয় ঢেলে সাজানো, নিয়ম কানুন,পদ্ধতির নতুন ভিসন দিতে পারে ঘুরে দাঁড়ানো শক্তি। দিতে পারে সকলের জন্য একটি সুন্দর স্বাস্থ্যব্যবস্থা।
মায়েদুল ইসলাম তালুকদার
জার্মান প্রবাসী কবি ।

