কাগজের চুম্বক শুনে কেউ আমাকে আবার পাগল ভাববেন না, প্লিজ । চুম্বকের বিশেষ্য পদ, ধর্ম বা গুণ হলো আকর্ষণ করা । অর্থাৎ যে ইস্পাত লৌহকে আকর্ষণ করে, তাকেই চুম্বক বলে । মূলে কিন্তু আকর্ষণ।
কাগজের চুম্বক বা আকর্ষণ অবশ্যই সব কাগজে নেই । রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের আইন দ্বারা রাষ্ট্র যে সকল বিশেষ কাগজে, বিশেষ আকারে, বিশেষ কিছু বিশেষণের দ্বারা মূল্য নির্ধারণ করে দেয়, যে কাগজগুলোকে কাগজের মুদ্রা বা টাকা হিসেবে আমরা চিনি, সেগুলোই মূলত কাগজের চুম্বক।
এই কগজের চুম্বকে এতটাই আকর্ষণ যে, মানুষ তার ধ্যান- জ্ঞাণ সবই এই চুম্বকেই নিশানা করে। এমনকি মানুষ তার জীবন চলার পথে, সকল কিছুকে উপেক্ষা করে , থ্রিয়মাণজ্ঞাণকে বিনষ্ট করে, জাত- পাতকে ধ্বংস করে হলেও অতি আকর্ষিত হয়। ঠিক সেই অতি প্রেম বা আকর্ষণের মূলেই জীবনের সকল ক্ষত নিহিত থাকে ।
বিশ্ব ব্রক্ষ্মান্ড বিশাল বিষয়, সেদিকে যাবো না । লক্ষ্য করুন, আজকে আমাদের দেশে যত ক্ষত হচ্ছে, সবকিছুর পিছনেই এই কাগজের চুম্বকের বিশেষ আকর্ষণের কারণেই হচ্ছে, মানুষ বা মানবিকতা সেখানে একেবারেই ম্রিয়মান । বিদ্যা- বুদ্ধি- শিক্ষা সবকিছু থাকার পরেও এই কাগজের চুম্বকের আকর্ষণের সীমারেখা সহজে কেউ টানতে পারছে না । যে যত ক্ষমতাশীল, যে যত বেশি কাগজের মুদ্রার মালিক, তারা যেন আরো বেশি আকর্ষীত হয়ে আছে। প্রকারান্তরে যা হচ্ছে, অন্য দশজনের জীবনকে বিপদের সম্মুখীন করে দিচ্ছে । সমাজকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে যাচ্ছে । এমনকি স্বাধীন একটি রাষ্ট্রকে তছনছ করে দিচ্ছে।
রাষ্ট্র বলতে সহজভাবে বলা যায় একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা, একটি ভূখণ্ড, কিছু জনমানুষ, কিছু নিয়ম- কানুন, কিছু কৃষ্টি- কালচার আর সর্বোপরি একটি স্বভূমি । যেখানে রাষ্ট্র একটি গন্ডি মাত্র বা স্বভূমি । সেই স্বভূমিকে বিশ্বের দরবারে সুউচ্চ পর্যায়ে তোলা বা নিচে নামানো, সব কিছুই আপন স্বভূমির জনমানুষের হাতেই থাকে। একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের নিয়মতান্ত্রিক আদর্শের দিকটিতে লক্ষ্য রাখতে পারলে, সেই রাষ্ট কখনোই বিশ্ব ব্রক্ষ্মান্ডে অমর্যাদা স্থানে পৌঁছাতে পারে না । অথচ লক্ষণীয় যে, আমাদের যুদ্ধ জয়ী স্বাধীন স্বভূমি বিশ্ব দরবারে আজকের এই করোনার ক্রান্তিকালে, আমরা নিজেরাই নিজেদেরকে হেয় প্রতিপন্ন করছি ! অথচ এই ভূমিটির জন্য এই ভূমির কত তরুণ- যুবক, আবাল- বৃদ্বা, নর- নারী বিরাট এক স্বপ্ন নিয়ে, স্বভূমিতে আদর্শীক একটি রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্য, জীবন দান করতেও কার্পণ্য করেননি ।
সাধারণ জনগণ হিসেবে যে কথাই বলতে বা লিখতে যাই, সব কিছুতেই গড়ের মাঠের মতন যুদ্ধ, স্বাধীনতা, মূলমন্ত্র ইত্যাদিতেই বারবার আঁটকিয়ে যাই। সব ভাবনাতেই সামনে দর্পণ হয়ে দাঁড়ায়, কেন এই দেশের জন্য মানুষ রক্ত দিয়ে যুদ্ধ করেছিলো ? যেই না এই ভাবনায় চলে আসি, সাথে সাথে সব কিছু কেমন জানি উলোটপালট হয়ে যায়। বলতে চাওয়ার কথাগুলোর দিক- নিশানা সব লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে যায়। বারবার সেই একই প্রশ্নেই থেমে যাই, কেন, কেন কেন ?
বলতে চাচ্ছিলাম লৌহচুম্বক আর কাগজের চুম্বকের আকর্ষণ নিয়ে । এসে ঠেকলাম স্বাধীনতার যুদ্ধ নিয়ে! না চাইলেও এখানেই এসে বারবার ঠেকি । আমার বারবার মনে হয়, সব প্রশ্নের উত্তর এই স্বাধীনতার মূলমন্ত্রের মধ্যেই নিহিত রয়েছে । এই প্রশ্নের উত্তর এই জাতীকে আজ হোক বা কাল হোক, বের করতেই হবে । তবেই আর এই কাগজের চুম্বকের আকর্ষণে এই দেশ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হবে না। রাষ্ট্রকে এর বিহিত করতেই হবে ।

বুলবুল তালুকদার
যুগ্ম সম্পাদক শুদ্ধস্বর ডটকম

