বহিরাগত যাত্রীদের বাংলাদেশে প্রবেশ দ্বারে যে সমস্ত পদক্ষেপ গুলো নেওয়া হয়েছে, তার অন্যতম পদক্ষেপ হচ্ছে কভিড ১৯, করোনা টেষ্টের সার্টিফিকেট
বহন করা যার মেয়াদ ৭২ ঘন্টা আগে হতে হবে, যা অনেক ক্ষেত্রেই বহির্বিশ্ব থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত পৌছানের সময়সীমা অতিক্রম করে থাকে।
যেমনটা ধরা যাক জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড,ফ্রান্স জাপান আমেরিকা বা আফ্রিকার যে কোনো দেশের, ডাক্তারদের নিকট থেকে এ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া, টেষ্ট করা, সেই রিপোর্ট সংগ্রহ করা, তারপর, ফ্লাইটের আগে এয়ারপোর্টে পৌছানো, কোথাও দু’এক জায়গায়১০/১২ ঘন্টা ট্রানজিট, সাথে ফ্লাইটের এর সময় যুক্ত করলে যা দাড়ায় অনেক ক্ষেত্রেই যাত্রীর সাধ্যের বাইরে চলে যায়। ধরা যাক কেউ জার্মানি থেকে সোমবার ফ্লাই করবে বাংলাদেশের উদ্দেশে, শনিবার ও রবিবার সরকারি ছুটি বা অফিস বন্ধের দিন, তার পক্ষে কোনো ক্রমেই ৭২ ঘন্টা সময়সীমী ধরে রাখা সম্ভব নয় এবং আমেরিকা থেকে আগত যাত্রী পক্ষে তো আরও নয়। আর তা ছাড়া, জারীকৃত প্রজ্ঞাপনে বিদেশী নাগরিকদের বাধ্যতামুলক আচরণবিধি, সৃষ্টি করে যাত্রীদের প্রতি বৈষম্য মুলক আচরণ যা কোনো ক্রমেই এমনটা হওয়া উচিৎ নয়। এ ক্ষেত্রে বৈষম্যমুলক আচরণ যাত্রী সংস্কৃতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। যাত্রীকে যাত্রী দৃষ্টিতে দেখতে হবে, দেশী-বিদেশী বলতে কোনো কথা এখানে থাকতে পারে না।
করোনা টেষ্টের সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে একজন জার্মানি থেকে টেষ্ট ও সার্টিফিকেটের খরচের কথা চিন্তা করলে সরকারি ভাবে যে রেট দেওয়া হয়েছে তা হচ্ছে ১৮০ ইউরো। যা বাংলাদেশী টাকায় দাড়ায় প্রায়
১৮,০০০ টাকা। যে হেতু এ সমস্ত দেশে আয় বুঝে ব্যয়, সেহেতু বাংলাদেশে অনেক কম খরচেই এই টেষ্ট করা সম্ভব। আর তা ছাড়া দেশে যাওয়া নিয়ে এই বাড়তি খরচ’টা মরার উপর খরার ঘা। অন্যান্য দেশেও এমনই ব্যায় বহুল। এই টেষ্ট বাংলাদেশ এয়ারপোর্ট বা স্থল বন্দর গুলোতে করলে সমস্ত অর্থটাই পাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার, যা রাজস্ব আয়ের বড় ধরনের একটা উৎস হতে পারতো। কেনো এয়ারপোর্ট বা স্থল ও নদী বন্দর গুলোতে করোনা টেষ্টের ব্যাবস্থা করা হচ্ছে না তা আমার বোধগম্য নয়। বাংলাদেশে টেষ্টের ব্যাবস্থাপনা না থাকলে সে একটা কথা ছিলো, যেহেতু হাজার হাজার এই টেষ্ট হচ্ছে তবে কেনো আগত যাত্রীদের এই সুবিধা দিয়ে রাজস্ব আদায় করা হচ্ছে না, নেওয়া হচ্ছে না সময় উপযোগি পদক্ষেপ। এ বিষয়ে শুধু উপসর্গের উপর ভিত্তি করে, শারীরিক সুস্থ অসুস্থতা দেখেও ততক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।
যেহেতু করোনা পরিস্থিতিতে আমরা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সকল কিছুই খুলে দিতে বাধ্য, সেহেতু সময়ের চাহিদা ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ নিতে হলে হতে হবে যুক্তিসঙ্গত ও গ্রহণযোগ্যতার সুনির্দিষ্ট নিয়ম কানুন।
তাই বিনীত অনুরোধ থাকবে টেষ্টের ব্যাবস্থাপনায় খোলা হউক করোনা টেষ্ট ডেস্ক যাতে যাত্রীদের ১৫ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কয়োরেন্টাইনের হয়রানি না পোহাতে হয়, অন্য দিকে ভূয়া সার্টিফিকেট নিয়ে বা সার্টিফিকেট থাকা সত্বেও যাত্রাকালীন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে পৌছাতে না পারে।
মায়েদুল ইসলাম তালুকদার, জার্মান প্রবাসী কবি এবং লেখক ।

