সুনির্দিষ্ট এবং কল্যাণমূলক শ্রমনীতি প্রণয়ন করুণ

শ্রম মন্ত্রনালয়ের সুনির্দিষ্ট শ্রমনীতি ছাড়া ডিজিটাল সরকার গড়ে তোলা সম্ভব নয় ।

 

সুনির্দিষ্ট শ্রম নীতি ছাড়া শ্রমিকদের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান সম্ভব  নয়, ঠিক তারই আলোকে সরকারের পক্ষ থেকে সঠিক শ্রম নীতি আইনি প্রক্রিয়ায় নিয়ে এসে তা বাস্তবায়ন করে হতে পারে শ্রমিক- মালিক উভয় পক্ষের ভবিষ্যৎ সুরক্ষার একটা সুষ্ঠু সমাধান।

এ ক্ষেত্রে সকল সরকারি ও বেসরকারী সকল প্রতিষ্ঠানকে শ্রম নীতির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। । শ্রম মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ব্যাতিত কোনো প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক নিয়োগ ও ছাটাই দুটোই হতে হবে জবাবদীহিতায় বাধ্যতামুলক।
শ্রম নীতিতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে এ বিষয়টি অত্যাবশ্যক বলে গণ্য হবে ।
প্রতিটি থানায় থাকতে হবে শ্রম মন্ত্রণালয়ের  অফিস। অর্থাৎ শ্রম মন্ত্রণালয়ের এই অফিসের অনুমোদন ছাড়া কেহই কোনো চাকরী দিতে বা গ্রহণ করিতে পারিবে না, আর যদি এর কোনো ব্যাতিক্রম ঘটে তবে গুণতে হবে শ্রমিক / মালিক উভয়েরই জরিমানা বিশাল অংকের, যাতে কেহই এই আইনের বাইরে যেতে সাহসী না হয়। থাকতে হবে আইনের প্রয়োগ। ভ্রাম্যমান আদালত ও জেল জরিমানায় রাজস্ব ফাকি দেওয়ার অভিযোগ, কারণ এই আইন শ্রমিক-মালিকের সুরক্ষার জন্য তৈরি। এতে শ্রমিক মালিকের নিকট থেকে যে অর্থ বা পারিশ্রমিক পাবে তার ৫% এবং মালিক ৫% নির্ধারিত বেতন হতে সরকারি শ্রম ট্রেজারীতে রাখতে বাধ্য থাকবে। উভয়েরই থাকতে হবে সরকারের অনুমোদন । এতে এক দিকে নিঃশ্চিত হবে শ্রমিকের পরিসংখ্যন, অন্যদিকে অবৈধ শ্রম বাজার নিয়ন্ত্রণ। এতে শ্রম আইনে শ্রমিক ও মালিকের আইনি অনুমোদন পত্র থাকতে হবে বাধ্যতা মুল উভয় পক্ষের।

অবৈধ ভাবে সরকারী অথবা বেসরকারী যে কোনো প্রতিষ্ঠানে, কেহই যেনো কোথাও কাজ বা শ্রম অবৈধ ভাবে দিতে না পারে তার একটা সঠিক পথ অবশ্যই বাংলাদেশে সরকারের এই আইনি প্রক্রিয়ায় সুরক্ষিত করতে হবে। এসে অনেক সোসাল ক্রাইম থেকে সরকার রক্ষা পাবে। পারবে না কেহই কোথাও অবৈধ কাজ করতে অন্য দিকে হতোদরিদ্র দেখি যে সরকারের ত্রাণ নির্ভরশীল হতে ।

এখানে অভিবাসন আইনের আওতায় যারা শ্রম বাজারে শ্রম দিতে অনুমোদিত তারাই সুরক্ষিত থাকবে।
এমনটা না হলে ভারত, মায়ানমার  রহিংগা, নেপাল, ভুটান থেকে আগতোদের হয়ে উঠবে বাংলাদেশে শ্রমের অভয় অরণ্য। বাড়তে থাকবে সঠিক বাংলাদেশীদের বেকারত্ব।
সে ভ্যান মালিক, স্কুটার মালিক, গাড়ির মালিক, বাড়ির মালিক সে যেই হউক না কেনো, বাড়ির চাকর চাকরানী, পাহারাদার, দোকানের কর্মচারী, সকল প্রকার শ্রমজীবী মানুষের হতে হবে বাধ্যতামুলক শ্রম অনুমোদন পত্র । চাকরী না থাকলে হাতে থাকতে হবে বেকারত্বের সনদপত্র। যা অনুমোদন করবে আন্চলিক বা থানা পর্যায়ের শ্রম মন্ত্রনালয়। দিনমজুরী কর্মচারি বা কৃষি কার্যকারী দিনমজুরীরও থাকতে হবে দিনচুক্তি শ্রম অনুমোদন পত্র, দৈনিক, মাসিক, বা ছয় মাসিক অনুমোদন শ্রমনীতিতে উল্লেখ থাকবে। । মুদির দোকান, হকার সবারই নিতে হবে অনুমোদন পত্র বা লাইসেন্স যে কোনো ব্যাবসা বাণিজ্য জন্য, যে কোনো অংকের টাকার বিনিময়ে যাতে সেও রাজস্ব প্রদানে শ্রম আইনের বেষ্টনীতে থাকে। এতে ভবিষ্যৎ এ যে কোনো বিপর্যয় থেকে সরকার তাকে সুরক্ষিত করতে পারে এই শ্রমিক ফান্ড থেকে।
ডিজিটাল সরকারের কথা বললে সে ডিজিটাল সরকারের এমন কাঠামো ছাড়া কখনই গড়ে উঠতে পারে না, ডিজিটাল সরকার ও শ্রমোবাজার। এতে হঠাৎ কোনো শ্রমিক কোনো কাজ ছাড়তে, মালিক ছাটাই করতে মানতে হবে শ্রম আইনের বিধিমালা।
দেশের করোনা পরিস্থিতি দেশের অস্তিত্ব রক্ষায় এনে দিয়েছে বিভিন্ন সমস্যা কিন্তু প্রয়োজন শুধু এই সমস্যা থেকে উত্তরণে সময় উপযোগী  সমাধান খুঁজে বের  করা।
আমার বিনীত অনুরোধ থাকবে বিষয়গুলো নিয়ে
সংশ্লিষ্ট মহল সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। সবাই সবার সঠিক পরিকল্পনা আদান প্রদান করলে আমরা সকল প্রকার সমস্যা থেকে দেশকে নিয়ে যেতে পারব সঠিক উন্নয়নের সিঁড়িতে। জয় হউক মেহনতী মানুষের। গড়ে উঠুক সুষ্ঠু শ্রমনীতি।

মায়েদুল ইসলাম তালুকদার, প্রবাসী কবি এবং লেখক ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.