সামনে দুর্ভিক্ষের সংকেত পাচ্ছি

আজ সন্ধ্যায় ( বাংলাদেশ সময়) দেশে আমার এক বন্ধু,  একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর ( সংগত কারণেই নাম বলছি না ) সাথে টেলিফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা হলো । আমার বন্ধুর দেশে ও বিদেশে মিলিয়ে ব্যবসা। জীবনকে দাঁড় করিয়েছে সত্যি অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে। চেষ্টা, সাধনা ও প্রতিশ্রুতির কল্যাণেই আজকে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ব্যবসা- বানিজ্যের কারণেই বিদেশ আসা যাওয়া নিয়মিতই আছে । তাছাড়া দেশের আনাচে কানাচে ঘোরাঘুরিতেও বেশ অভ্যস্ত বটে। তার এই বিষয়গুলো বলার কারণ, সে সমগ্র দেশের সামগ্রিক চিত্র সমন্ধে সব সময়েই বেশ ওয়াকিবহাল থাকে । সচেতন মানুষ এবং অভিজ্ঞও বেশ । সাধারণ কারণ বসত দেশের বর্তমান করোনা মহামারীর বিষয়েও বেশ সজাগ ।

বন্ধুর সাথে স্বাভাবিক কারণেই তার নিজস্ব ব্যবসা- বানিজ্য নিয়েও অনেক কথা হলো । তার ভাষ্য অনুযায়ী   সে ব্যক্তিগতভাবে বর্তমানে বেশ ভালো ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে আছে। যদিও সে এমন পরিস্থিতিতেও তেমনটি ভেঙে পড়েনি । তবে একটি হিসেব বললো, তাতে করে বর্তমান থেকে শুরু করে আগামী আরো ৬/৮ মাস ব্যবসা শূন্য থাকতে হবে । পরিষ্কার সব হিসেব কষে গড়গড় করে কথাগুলো বলে গেলো, কেননা তার ব্যবসা- বানিজ্য বিদেশের সাথে সংযুক্ত । তার মূল ভাষ্য অনুযায়ী ২০২০ সাল পুরোটাই জলে । এখান থেকে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। ইফেক্টেট পড়ছে  তার পুরো অফিসস্টাফ সহ সবাই ।

বন্ধুর সাথে আগামীর দেশ নিয়ে অনেক কথা হলো । তার স্পষ্ট ভাষ্য সামনেই দেশে একটি দুর্ভিক্ষের সমূহ সম্ভাবনা এখনই টের পাওয়া যাচ্ছে । রিক্সা চালকেরাও এখন কাজের অভাবে মানুষের নিকট হাত পাতছে । এমনকি রাতের বেলায় সে গাড়ী নিয়ে শহরের কয়েক জায়গায় থেমে দেখেছে, সেই রাতেও মানুষ এসে হাত পাতছে , সাহায্য চাচ্ছে । মানুষের এখনই কাজের অভাব শুরু হয়ে গেছে। বাসা- বাড়ীতে যে কাজের বুয়ারা কাজ করতো, তারা এখন ভালো বিপদে, মানুষের কাছে হাত পাতা ছাড়া উপায় নেই । আশেপাশের অনেক নমুনা বললো এবং বেশ আক্ষেপ করেই দেশের নানান বিষয়ে আফসোস করে গেলো ।

আমি নিজেও ইতিপূর্বে অনেক লেখায় আগামীর অর্থনৈতিক ভয়াবহতা নিয়ে নিজের ক্ষুদ্র জ্ঞাণে বেশ কয়েকবার লিখেছি।  ইউরোপ কিভাবে তাদের অর্থনৈতিক ভূমিকম্পকে সামাল দিবে, সেটাও কোনো এক লেখায় সংক্ষেপে লিখেছিলাম।  আগামীতে ইউরোপের দেশগুলোর পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা আছে।

তবে সংক্ষেপে আবার একটি উদাহরণ দেই । অষ্ট্রিয়া থেকে প্রতি বছর আট মিলিয়ন লোকের মধ্যে অন্তত দুই মিলিয়নের মতন মানুষ ভিন্ন দেশে ছুটি কাঁটাতে যায়। সেটা ইউরোপ/ এশিয়া সহ সর্বত্র । কিন্তু এবার তেমনটি হবার কোনো সম্ভাবনাই নাই । সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে, সবাই যেন গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে নিজ দেশেই থাকে, তাহলে অন্তত দেশের অর্থনীতর উপর চাপ কম পড়বে । সহজ হিসেব, দেশের টাকা দেশেই থাকবে, সরকারও তার অর্থনৈতিক কার্যক্রম কিছুটা সহজে চালাতে সক্ষম হবে । একথাও সত্য  এই দেশের জনমানুষেরাও নানান যুক্তি দেখিয়ে এবারের গ্রীষ্মকালীন ছুটি আপন দেশেই প্রস্তুতি নিচ্ছে। মোদ্দা কথা, নিজের অর্থনৈতিক দিকটিকে বেশ ছোট কে আনা, খরচের হাত না খুলা এবং সীমিত ও প্রয়োজনীয় ব্যয় ছাড়া কোনো খরচ না করা ।

বিষয়টি মূলত হাত ধোয়ার মতন । দুই হাত এক সাথে ব্যবহার করে, হাত ভালো করে ধোয়া সহজ এবং ভালো পরিষ্কার করা সম্ভব।  অর্থাৎ এই দেশের জনগণ ও সরকার এক সাথে লড়াইটি চালিয়ে যাক, যেন বিপদ মুক্ত হওয়া যায়।

আমাদের দেশের জনমানুষেরাও বেশ সহনশীলতার পরিচয় দিচ্ছে এবং আগামীতেও নিশ্চয়ই প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে । এখন সরকারকেও একটু বেশি এগিয়ে আসতে হবে । আবার জনমানুষকেউ সরকারের পাশে থাকতে হবে । দুয়ে মিলেই আগামীর বিপদ থেকে মুক্ত হওয়া সহজ হবে নিশ্চয়ই। যেমনটি দুই হাত একসাথে করে ধোয়া।

সামনে কোনো দুর্ভিক্ষ আসুক, এমনটা নিশ্চয়ই আমরা কেউ আশা করি না, তবে নমুনা ভালো ঠেকছে না । তবে এখন থেকেই শতভাগ অর্থনৈতিক প্ল্যান প্রোগরাম সঠিকভাবে করতে না পারলে কিছুই সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না বলেই মনে করি । সরকারের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট করেই বলছি, মুখে যতই খই ফুটুক, আমরা সিঙ্গাপুর/ ব্যাংকক নই বা আমেরিকা/ কানাডা তো অবশ্যই নই । আমাদের সামর্থ অনুযায়ী দ্রুত অর্থনৈতিক কার্যক্রম গ্রহণ করুন। কেননা দেশের মানুষের চোখে দেখা আপাতত নমুনাই ভয়ঙ্কর মনে হচ্ছে। বি সিরিয়াস  ।

20190210_195317

বুলবুল তালুকদার 

যুগ্ম সম্পাদক শুদ্ধস্বর ডটকম

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.