মানবদেহে ভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালাবে বাংলাদেশ

করোনা ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করতে চায় বাংলাদেশ। তবে তা আগামী বছরের আগে সম্ভব নয় বলে মনে করছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। অবশ্য এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও চীনের একটি ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তবে, ভ্যাকসিনগুলোর অনুমোদন পেতে ওইসব দেশেই আরো কয়েক ধাপ পাড়ি দিতে হবে। অর্ধশত ভ্যাকসিন নানা ধাপে পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। করোনা ভাইরাস স্পাইকের মাধ্যমে শ্বাসতন্ত্রের বিশেষ যে কোষে প্রবেশ করে সেই প্রক্রিয়া অকার্যকর করার লক্ষ্য বিজ্ঞানীদের। এ জন্য ভাইরাসের জিনগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে চলছে গবেষণা। এছাড়া, দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি করে আক্রান্ত কোষ ধ্বংসের কাজ করবে ভ্যাকসিন।

তিন মাসের গবেষণা শেষে ২৩ এপ্রিল মানবদেহে করোনা ভ্যাকসিনের প্রাথমিক পরীক্ষা চালায় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল। ২ জন স্বেচ্ছাসেবীর দেহে প্রয়োগ করা হয় এই ভ্যাকসিন। এছাড়া ১৬ মার্চ চীনের অ্যাকাডেমি অফ মিলিটারি মেডিকেল সায়েন্সেসের তৈরি ভ্যাকসিনের ক্লিনক্যাল ট্রায়ালের অনুমোদন দিয়েছে চীন সরকার। ২৭৩ জনের শরীরে দেহে প্রয়োগ করা হয় এই ভ্যাকসিন।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সূত্র জানিয়েছে, অন্য দেশের নাগরিকদের শরীরে কার্যকর ভ্যাকসিন বাংলাদেশের মানুষের শরীরে কাজ নাও করতে পারে। তাই বিষয়টি নিশ্চিত হতে শুরুতে অক্সফোর্ড এবং চীনের ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আইইডিসিআর বলছে, কেবল স্বেচ্ছাসেবীদের শরীরেই পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হবে এই ভ্যাকসিন। অবশ্য আগামী বছরের আগে করোনার কোন টিকা বাজারে আসার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধান চিকিৎসা উপদেষ্টা।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.