একাত্তরের এক অনন্য অকুতোভয় যোদ্ধা মজিবুর রহমান দেবদাসের মৃত্যু

মজিবুর রহমান  দেবদাস  একাত্তরে  রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালেয়র গণিত বিভাগের সিনিয়র লেকচারার ছিলেন। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বর্বরতার লিখিত প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি তাঁর পত্রে বলেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয় আর জ্ঞান চর্চার আধার নয়, এটা মিলিটারি ক্যাম্পে পরিণত হয়েছে। ক্যাম্পাস আবার স্বঅবয়বে আবির্ভূত হলে তিনি ক্যাম্পাসে ফিরে আসবেন। তখনই নিজের নাম পরিবর্তন করে দেবদাস রেখেছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষে তাঁর এই অবস্থানে ক্ষিপ্ত হয়ে হানাদার বাহিনী তাঁকে ধরে নাটোরে নিয়ে গিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করে।
১৯৭১ সালের মে থেকে কয়েকমাস যাবত অমানুষিক শারীরিক নির্যাতনে এই শিক্ষাবিদের মানসিক বৈকল্য ঘটে। সেটা থেকে তিনি আর কোনোদিন সুস্থ হতে পরেননি।

তাঁকে জীবন্ত শহীদ বলা হতো।

তাঁর কথা প্রথম পড়ে ভীষণ আন্দোলিত হবার পাশাপাশি হতাশও হয়েছিলাম। কারণ, এমন সাহসী মানুষটিকে নিয়ে তেমন আলোচনা হয়না, এটা ভেবে।

জয়পুরহাটের এই বীর সন্তান ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বপূর্ণ রেজাল্ট করে গণিতে মাস্টার্স পাস করেন। ১৯৬৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন থেকে এপ্লায়েড ম্যাথমেটিক্সে দ্বিতীয় মাস্টার্স করেন। তিনি করাচীর একাধিক কলেজে শিক্ষকতা করার পর ১৯৬৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র লেকচারার (বর্তমান সহকারী অধ্যাপক) পদে যোগদান  করেন।

মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় ত্যাগের জন্য ২০১৫ সালে সরকার তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করেন।

এই মহান আত্মত্যাগী শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মজিবুর রহমানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।

শুদ্ধস্বর/আইপি

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.