ইরফানের নামে বদলে যাচ্ছে মহারাষ্ট্রের গ্রাম!

এই তো সেদিন। আপামর সিনেপ্রেমীদের কাঁদিয়ে বড় অসময়ে বিদায় নিলেন অভিনেতা। ইরফান-শ্রদ্ধা আর স্মৃতিতে ডুবে রইল গোটা দেশ। কিন্তু এই দেশেরই এক প্রত্যন্ত গ্রাম যেন ইরফান খানের বিদায়ে রীতিমতো অভিভাবকহীন হয়ে পড়ল। প্রিয় মানুষের বিদায়ে তাই গ্রামের গোটা অঞ্চলের নামই বদলে দিতে চলেছেন তাঁরা।

মহারাষ্ট্রের ইগাতপুরির একাধিক গ্রাম ইরফানকে অভিভাবক বলেই মানেন। আর তাই তার প্রয়াণে পাহাড়ি ওই উপত্যকার নাম এবার থেকে হতে চলেছে ‘হিরো-চি-ওয়াদি’। মারাঠি ভাষার এই শব্দের অর্থ ‘নায়কের পাড়া’! কিন্তু কেন ইরফান এখানকার অভিভাবক? পিছিয়ে যেতে হবে বেশ কয়েক বছর আগে।

বাগানবাড়ি তৈরির জন্যে এখানেই কিছুটা জমি কিনতে চেয়েছিলেন ইরফান। তখনই জানতে পারেন, সেখানকার যোগযোগ ব্যবস্থা যেমন ভয়ংকর, তেমনি গোটা অঞ্চলে নেই স্কুল, এমনকী একটা অ্যাম্বুল্যান্সও। এরপরই অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করেন প্রবাদপ্রতিম এই অভিনেতা।

গ্রামের সকল বাচ্চাদের জন্য দেন বই-খাতা, সোয়েটার, টুপি-রেইনকোট। সেইসঙ্গে ছেলেমেয়েদের আধুনিক করতে দিয়েছিলেন বারোটি কম্পিউটার। প্রতিবছর ঈদ আর দিপাবলিতে ইরফানের মিষ্টি এর ফুল-সহ উপহার পৌঁছে যেত গ্রামের বাড়ি-বাড়ি। সেই মানুষটাই বিদায় নিলেন আজীবনের জন্যে। অসম্ভব কষ্টের মাঝেও তাই ইরফানকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাতে অভিনব পথই বেছে নিল ইগাতপুরি।

তাদের কাছে ইরফান ছিল ঈশ্বরের দূত। তার কাছ থেকে খালি হাতে ফেরেনি কেউ। তাই তার নামেই গ্রামের নাম বদলে দিচ্ছেন বাসিন্দারা। যতবার উচ্চারিত হবে সেই নাম, ততবার ফিরেফিরে আসবেন ইরফান খান।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.