ষাঁড়ের শবদেহ এবং দার্শনিক Bertrand Russell

ব্রাহ্মণবাড়িয়া যার সর্টকার্ট নেইম বি বাড়িয়া । এখন সারা বাংলাদেশের মানুষের আলোচনার বিষয়বস্তু । ঘটনা সবার জানা । আজকের পত্রিকায় দেখলাম গতকালকের সেই জানাজার পরে সমগ্র বি বাড়িয়ায় সরকার কঠিন লকডাউন করে দিয়েছে। কেননা বলা তো যায় না, এখন সেই বি বাড়িয়া থেকে করোনার প্রাদুর্ভাব কতটা হয় এবং কতদুর ছড়ায়। তবে খবরে যা দেখেছি, সেই জানাজায় শুধু যে বি বাড়িয়ার লোকজন ছিলো এমনটি নয় । দুর দূরান্ত থেকে পাবলিক নাকি ট্রাকে চেপেও এসেছিলো । সরকার আর কতভাবেই প্রটেক্ট দিবে। কথায় বলে না, ” যত দোষ নন্দ ঘোষ “ !

এখন করোনা আরো বাড়বে , সরকার হিমসিম খাবে, অর্থনীতির বারোটা বেজেই আছে এবং আরো বাজবে, পাবলিক হুজুগে কি করেছে, সেগুলোর কোনো হিসেব থাকবে না । তবে সব দোষ সরকারকেই বহন করতে হবে । আর সম্ভব হলে এই সুযোগে ক্ষমতায় হাত দেবার সুযোগ হলে, বিরোধী দলও ছাড়বে না । কেননা আমাদের দেশে রাজনীতি হয় মূলত ক্ষমতা কেন্দ্রীক, তাই কথাটি বলা মাত্র ।  তবে সেটার কোনো সম্ভাবনা মোটেও নাই, এটা যোতিস না হয়েও বলা যায় ।

অনেকেই বলছেন সরকার কেন বি বাড়িয়ায় সেই সময়ে ১৪৪ ধারা জারি করলেন না,  বা শাপলা চত্ত্বরের মতন ধোলাই দিলেন না ! এই জানাজার বদলে যদি বিরোধীদের এমন একটি জমায়েত এমন সময় হতো, তাহলে তো সরকার তাদেরকে পিটিয়ে পিটিয়ে নদীর জলে ফেলে আসতো। তাহলে কেন এই লক্ষাধিক লোকের জানাজায় বাঁধা দিলো না ।

না, সব সময় এটা আমাদের দেশে সম্ভব নয়। কেননা আমাদের দেশে ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট একটা ভিন্ন অবয়ব বহন করে । ধরুন সরকার সেই জানাজায় সত্যি সত্যিই যমের লাঠিপেটা করে সব ছত্রভঙ্গ করে দিলো। তারপরেই দেখা যেত, ধর্মকে টেনে এনে সবাই সরকারের চামড়া মুখে মুখেই তুলে ফেলতো। আমার কথা বিশ্বাস না হয়, আপনার পাশের বাড়ির মানুষটিকে জিজ্ঞাসা করে দেখুন, কি জবাব পান । কেননা এমন আহাম্মকের কান্ডকেউ অনেকে জোরালোভাবেই সমর্থন করছে। সুতরাং সব কিছু সরকারের পক্ষেও সম্ভব হয় না ।

হ্যাঁ সরকার কাজ একখান করেছে বটে। চেয়ারখানা ওসি সাহেবের নিকট হতে উদ্ধার করতে পেরেছে। যে ওসি একসময় অপারগ হয়েই চেয়ে চেয়ে দেখেছেন মাত্র । উপর থেকেও তার নিকট হুকুম আসে নি যে, সমাধান কর। অথচ বলির পাঠা এখন ওসি ! বি বাড়িয়ায় যেন একমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত সেই ওসিই ছিলো। তার উপরের চেয়ারগুলো বেশ আরামেই এসি রুমে দুলছে। পুলিশকে এমন শাস্তি দিবেন , আবার পুলিশের নিকট সব সমাধান চাইবেন। হ্যাঁ  তারা তো রক্ষক/ভক্ষক সবই। চালিয়ে যান যেভাবে চলে !!!

উপরের কথাগুলো বললাম নিচের ছবিটির জন্য ।

20200419_124718.jpg

আজকের ভারতের পত্রিকায় খবর । যে খবরটি এই শুদ্ধস্বরেও প্রকাশ হয়েছে । ষাঁড়ের মৃত্যুতে লকডাউন ব্রেক এবং করোনা ভয়াবহতাকে সরাসরি বৃদ্ধা অঙুলি প্রদর্শন !!! ঘটনাটি ভারতের । বিস্তারিত আর কিছুই বললাম না । কেননা এমন বর্বরতার বিষয়ে যত কম বলা যায়, ততই মঙ্গল । তবে হাসবো না কাঁদবো ? সেটাই ঠাউর করতে পারছিনা ।

মানুষের জানার শেষ নাই বলে একটা কথা আছে। বিশ্ব বিখ্যাত দার্শনিক ” Bertrand Russell” নিজের সমন্ধে বলেছিলেন, আমি কত কম জানি বা  কম জ্ঞাণী। আমি যখন একটি লাইব্রেরিতে ঢুকি, হাজারো বই দেখে ভাবি, আমি এখনও কত বই পড়িনি, কত কিছুই এখনো শোনা হয়নি, পড়া হয়নি, জানা হয়নি ! সত্যি লাইব্রেরি আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয় আমি এখনও কতটা অজ্ঞ !

20200419_124633.jpg

Bertrand Russell একজন জগত বিখ্যাত দার্শনিক বলছেন, তিনি কতটা অজ্ঞ ! আর আমরাতো তার পায়ের নখের সমানও না । তাই ভাবছি, সত্যি আমি নিজেও কতটা অজ্ঞ । আমি জানতাম, গরুর ভিতরে ৩৩ লক্ষ দেব- দেবতা বসবাস করে। গরু দুধ দেয়, মা তুল্য । তাই গরু পুজোনিয়। তবে জানতাম ” কেবল গাই গরু ” ( গাভী )। আজকে ভারতের গর্দভ পাবলিকদের ” ষাঁড় সবদেহ “ এর প্রতি অবাক করা জয়যাত্রা ( স্যরি, হবে সবযাত্রা)  দেখে,  নতুন করে আবার একটু জ্ঞাণী হলাম।

হায়রে মানুষ (!), জীবনে থুক্কু দিয়ে,  আবার নতুন করে পাথরে পাথরে ঘষা দিয়ে, নতুন পৃথিবীর শুরু করো। তবেই যদি সমাধান আসে।

20190210_195317

বুলবুল তালুকদার 

যুগ্ম সম্পাদক শুদ্ধস্বর ডটকম 

20200419_124633.jpg

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.