শরীয়তপুরে মৃত্যুর ১৮ ঘণ্টা পরেও এগিয়ে আসেনি কেউই, হাসপাতালে কাঁদছেন মা

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে আইসোলেশনে মৃত এক ব্যক্তির মৃত্যুর ১৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও সৎকারে কেউ এগিয়ে আসেনি। মৃত প্রশান্ত কর্মকারের মরদেহ কেউ নিতে এগিয়ে না আসায় হাসপাতালে বসে কাঁদছেন মৃতের মা। করোনাভাইরাস আছে এমন আতঙ্কে সৎকারে কেউই রাজি হচ্ছেন না বলে জানা যায়। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) শ্বাসকষ্ট নিয়ে ওই ব্যক্তিকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন স্বজনরা। শ্বাসকষ্ট থাকায় করোনা সন্দেহে তাকে সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রাখেন চিকিৎসকরা। বুধবার বিকাল পৌনে চারটায় ওই ব্যক্তি মারা যায়।

মৃত প্রশান্ত কর্মকার এর বাড়ি নড়িয়া উপজেলার ঘড়িসার ইউনিয়ন। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বী। মারা যাওয়ার পর থেকে তার মরদেহ সৎকারের জন্য আত্মীয় স্বজনকে জানানো হয় কিন্তু করোনা সন্দেহে সৎকারে কেউই রাজি হচ্ছেন না। সনাতন ধর্মাবলম্বী হওয়ায় প্রশাসনও অন্য ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। এমন ঘটনায় বিব্রতকর অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মনির আহমেদ জানান, বুধবার ওই ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর তার আত্মীয়-স্বজনরা কেউ আসেনি। যারা হাসপাতাল ছিলেন তাদের মধ্যে মৃতের মা ছাড়া অন্য সবাই পালিয়ে গেছে। যেহেতু সে সনাতন ধর্মাবলম্বী তাই তাদের ধর্ম মতেই সৎকার হবে এমনটাই জানিয়েছিলো স্বজনরা। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ায় এখন কেউ না আসায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃতদেহ মাটিচাপা দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.