প্রধানমন্ত্রীর প্রণোদনা-প্যাকেজ

Unbenannt

করোনাভাইরাস থেকে জীবনরক্ষায় জাতির জীবিকা, আর্থিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির প্রভাব থেকে উত্তরণে ৫টি প্যাকেজে প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকার সহায়তার প্যাকেজ ঘোষণার জন্য্ প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে ধন্যবাদ। এখন ৫টি প্যাকেজে সরকারের ব্যয়ের পথ-কৌশলের উপর অর্থনৈতিক ও আর্থিক ক্ষতি থেকে উত্তরণ নির্ভর করবে।

 

সুষম প্রতিযোগীতা ও দক্ষতা বাড়ার ধারা ছাড়াও বেসরকারীখাতের উৎপাদনশীলতা বাড়ে সরকারী সংস্থাসমূহের কর্ম-দায়িত্বশীল বহুমুখী সেবায়। তাই জাতির মেধাবী পেশাজীবিদের বেতন সমকালীণ করা(বাড়ানো নয়)  ও বিবিধ বিষয়ে আরও দুটোসহ ৭টি প্যাকেজ গ্রহণ করা হলে, ২০২০-২০২১তে বড় বন্যার ক্ষতি মে্টাতেও অর্থসংস্থানের ব্যবস্থাও হবে।

 

৭ম সহায়তা-প্যাকেজের বিবিধ বিষয়কখাত থেকে “বছরে মাত্র ১৪/১৫ কোটি টাকা ব্যয়ের অঙ্গীকারকৃত কুমিল্লা ও ফরিদপুর বিভাগ” করা হলে রাষ্ট্র-অবকাঠামো সুষমমুখী হবে। এতে বেসরকারীখাত উৎপাদনশীল হওয়ায় জিডিপির টেকসই প্রবৃদ্ধির হার ৫ বছরে আরও ১.৩% বাড়বে। এরপরে বেসরকারীখাতের প্রবৃদ্ধির বাড়ার সুযোগ ক্ষীন।

দেশের উৎপাদন-সেবার হার না বাড়িয়ে ঋণ-ভূর্তকী-অনুদান দেয়া হলে মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যস্ফীতি হবেই। তাই এসবের সাথে সম্প্রসারণমূলক চাহিদা-ষোগানমুখী উৎপাদনশীল আদিপ্রাণের (Inertia) দুটো চলমান পদক্ষেপ নিতে হবে। এ পদক্ষেপদ্বয় অনুদানের অর্থসহ অর্থনীতির উৎপাদন-সেবাকে লাগাতার

প্রাণোদণা, সঞ্চালন ও সম্প্রসারণের ধারা দিবে।

দেশের মেধাবী সন্তানেরা প্রধানতঃ জাতীয় বেতন স্কেলের অধীনে কর্মজীবি। তাই জাতীয় আয়-বন্টণের ধারা ও জাতীয় বেতন স্কেল সামঞ্জস হলে, দেশের মেধাবী পেশাজীবিরা কর্মশীল-দায়িত্বশীল থাকে। এতে বেসরকারীখাতের উৎপাদনও বাড়ে। জাতীয় আয়-বন্টণের সাথে জাতীয় বেতন স্কেল অসামঞ্জস

হলে, বেসরকারীখাতের উৎপাদনও কমে।

ভারত-পাকিস্তানের জাতীয় বেতন স্কেলের সর্বোচ্চ-সর্বনিম্ন বেতন অনুপাত ১৮ঃ১-এর উপরে (ইন্টারনেট দেখুন)। বাংলাদেশে তা ২০ঃ১ হওয়া সমীচীন। সেখানে অবিবেচকভাবে তা হ্রাস ৯.৫ঃ১ করা হয়। জুলাই, ২০১৫ চালুকৃত বেতন-ভাতা ডিসেম্বর, ২০১৯ শেষে ৬৫%-এ হ্রাস পায়। এজন্যে সরকারী সংস্থাসমূহে সেবা কমেছে, দূর্ণীতি বাড়ছে।

স্কেল নং নেতিবাচক চলমান

৮ম জাতীয় বেতন স্কেলসমূহ 

সম্মৃদ্ধিশীল অন্তর্বর্তীকালীন

জাতীয় বেতন স্কেলসমূহ: নমুনা-২ 

  সর্বোচ্চ (১নং) ও সর্বনিন্ম (২০নং)

শুরুর  মূল-বেতন অনুপাত  ৯.৮:১

৫০ ব: বয়সে মূল-বেতন অনুপাত  ৩.৭:১

সর্বোচ্চ (১নং) ও সর্বনিন্ম (২০নং)

শুরুর  মূল-বেতন অনুপাত  ৯.৮:১

৫০ ব: বয়সে মূল-বেতন অনুপাত  ১০:১

 
  ৮৬,০০০/- ১,৮০,০০০/-
  ৮২,০০০/- ১,৭০,০০০/-
০১ ৭৮,০০০/- ১,৬০,০০০/-
০২ ৬৬,০০০-২৪৮০-৭৬,৪৯০ ১,৪২,০০০-৩৬০০৪-১,৫৬,৪০০
০৩ ৫৬,৫০০-২২৬০৭-৭৪,৪০০ ১,২০,০০০-৩৩০০-১,৩৯,৮০০
০৪ ৫০,০০০-২০০০৯-৭১,২০০ ৯৬,০০০-৩০০০-১,২০,০০০
০৫ ৪৩,০০০-১৯৪০১১-৬৯৮৫০ ৮০,০০০-২৭০০১০-১,০৭,০০০
০৬ ৩৫,৫০০-১৭৮০১৩-৬৭০১০ ৬৪,০০০-২৩০০১২-৯১,৬০০
০৭ ২৯,০০০-১৪৫০১৬ -৬৩৪১০ ৫২,০০০-২০০০১৩-৭৮,০০০
০৮ ২৩,০০০-১১৫১৮-৫৫,৪৭০ ৪০,০০০-১৮০০১৪-৬৫,২০০
০৯ ২২,০০০-১১০১৮-৫৩০৬০ ৩৬,০০০-১৫০০১৫-৫৮,৫০০
১০ ১৬,০০০-৮০১৮-৩৮৬৪০ ৩১,০০০-১২৫০১৮-৫৩,৫০০
১১ ১২,৫ ০০-৬৩০১৮-৩০২৩০ ,০০০-১০৫০২০-৪৮,০০০           
১২ ১১,৩০০-৫৭০১৮-২৭,৩০০ ২৪,০০০-৯২০২২-৪৪,২৪০
১৩ ১১,০০০-৫৫০১৮-২৬,৫৯০                                     ২১,০০০-৮০০২৪-৪০,২০০
১৪ ১০,২০০-৫১০১৮-২৪,৬৮০   ১৮,৮০০-৬৯০২৪-৩৫,৩৬০
১৫ ৯,৭০০-৪৯০১৮-২৩,৪৯০                                       ১৬,৮০০-৬০০২৪-৩১,২০০  
১৬ ৯,৩০০-৪৭০১৮-২২,৪৯০ ১৫,০০০-৫২০২৪-২৭,৪৮০                
১৭ ৯,০০০-৪৫০১৮-২১,৮০০ ১৩,৫০০-৪৫০২৪-২৪,৩০০
১৮ ৮,৮০০-৪৪০১৮-২১,৩১০ ১২,২০০-৩৯০২৪-২১,৯০০
১৯ ৮,৫০০-৪৩০১৮-২০,৫৭০ ১১,০০০-৩৪০২৪-১৯,১৬০
২০ ৮,২৫০-৪২০১৮-২০,০১০ ১০,০০০-৩০০২৪-১৭,২০০
 
জেলাশহরের ভিত্তিতে চলমান ৮ম জাতীয় বেতন সর্বনিন্ম স্কেলের (২০নং) শুরুর মূল-বেভন ৩০-৩৫% বেশী রয়েছে। এটা সরকারী-বেসরকারীখাতে মুজুরী-কাটামো ও আন্দোলনকে প্রভাবিত করছে। সুতরাং সর্বনিন্ম স্কেলের (২০নং) মূল-বেভন ১০,০০০/- বাস্তবমুখী হবে। সব পযায়েই বেতন বাড়বে জন্যে অন্তর্বর্তীকালীন  হিসেবে  মূল-বেভন ১০,০০০/- হলে বাস্তবায়নে সংকট হবে না। ১লা মে, ২০১৯ থেকে বাস্তবায়নে  ২০১৮/১৯ অথবছরে বেতন-ভাতা ও অনুদান খাতে মাত্র ৫%ব্যয় বাড়বে।
 
জিডিপির প্রবৃদ্ধিস উপর প্রভাব (-) ১.০%  নেতিবাচক  +২.৫% উপরে  বাড়বে (চালুর বছরে ৩.৩%)
মুল্যস্ফীতির উপর প্রভাব (-) ১.০%  নেতিবাচক  প্রায় +২.০% হ্রাস পাবে                
রাজস্ব আয়ের  উপর প্রভাব নেতিবাচক রয়েছে  অধিকভর ইতিবাচক হবে                  
রাজস্ব ব্যয়ের  উপর প্রভাব নেতিবাচক/অপচয় বাড়ছে অধিকভর ইতিবাচক হবে
উন্নয়ণ বাজেটের উপর প্রভাব নেতিবাচক/অপচয়  বাড়ছে অধিকভর ইতিবাচক হবে
দূনীতির  উপর প্রভাব নেতিবাচক রয়েছে ও বাড়ছে অধিকভর ইতিবাচক হবে
প্রশাসনের  উপর প্রভাব নেতিবাচক রয়েছে ও বাড়ছে অধিকভর ইতিবাচক  ও উন্নয়ণশীল  হবে
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নেতিবাচক রয়েছে ও বাড়ছে অধিকভর ইতিবাচক ও উন্নয়ণশীল  হবে
 
বাস্তবায়ন নীতিমালাঃ

১)  ঋণ করে  বেভন-ভাতা না দিয়ে আয়কর পাওয়ার পরে ১লা,  জানুয়ারী থেকে  জাতীয় বেতন স্কেল চালু করা।  তাহলে অথবছরের গড় হারে বেভন-ভাতা হবে। ১লা মে, ২০১৯ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় বেতন স্কেলের বেভন-ভাতা প্রাপ্যতা প্রদান করা।

২) মূল-বেভন নিধারেণর ক্ষেত্রে স্ব স্ব স্কেলে সমপরিমান ইনক্রিমেন্ট প্রাপ্য হবেন। তবে ১৫.০% নীচে কেউ প্রাপ্য হবে না।

৩) আবাসন-ভাতার হার বাস্তষমুখী করা যেতে পারে।  আবাসন-ভাতার হার ৪০.০% (ন্যুনত ৪১২৫/-টাকা), ৩৫.০%,  ৩০.০%, ২৫.০% ও ২০.০%  করা হলে   আবাসন গ্রেডের সাথে আরও সামঞ্জস হবে। জনসৎখ্যার ভিত্তিতে অফিস উপজেলায় হলে + ০.০%,   জেলা  বা সমপযায়ের  শহরে হলে + ৫.০%,   বিভাগ   বা সমপযায়ের  নগরে  হলে + ১০.০%,  বন্দর বা সমপযায়ের  হলে + ১৫.০%,  ও ঢাকামহানগরে হলে + ২০.০%, করা যেতে পারে।  তবে  মূল-বেভন কাঠামোর পরিবতন আানাটাই মুখ্য বিষয়। এবং ৪) অন্যান্য সবভাতা একই থাকবে,        

মুজুরী-স্কেল, ২০১৯ ও ভারত-পাকিস্তানের আলোকে সর্বনিম্ন বেতন ১০,০০০/০০ টাকা ও ১৬ঃ১ অনুপাত ভিত্তিক “অন্তর্বর্তীকালীণ জাতীয় বেতন স্কেল” ১লা এপ্রিল, ২০২০ থেকে চালু হলে, ১ম বছরেই জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ন্যুনত ২.৫% বাড়বে। জরুরী-অন্তর্বর্তীকালীণ হওয়ার জন্যে ‘কমিশণ’ গঠণের প্রয়োজন নেই। সবপর্ষায়ে ২০%-এর উপরে বাড়বে জন্যে এটা চালুতেও সমস্যা হবে না।

 

জরুরীভাবে বিভাগদ্বয় ও অন্তর্বর্তীকালীণ জাতীয় বেতন স্কেল চালু হলে প্রথমবছরে প্রবৃদ্ধির হার আরও ২.৭% বাড়বে। পরবর্তীতে ১লা জানুয়ারীতে জাতীয় বেতন স্কেল ও ১লা মে’তে মুজুরী স্কেলে বছরওয়ারী “প্রবৃদ্ধি-ভাতানীতি” চালু হলে বাড়তি জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৫ বছরে ৩.৮% হবে। কর-আয়ও ৫ বছরে জিডিপির ১৬.০% উপরে হবে।

 

সরকারী-বেসরকারীখাতকে কর্মশীল করে বাড়তি কর-আয় দিয়ে সার্বজনিন বয়স্ক, দু’শিশু, বিধবা, ইত্যাদি দরিদ্র- ভাতাসমূহ ৫০০/০০ থেকে ১৫০০/০০ টাকায় উন্নীত করাও যাবে। তাহলেই দিন-মুজুরসসহ নিম্ন-আয়ের প্রায় ৫০% জনতা এ তৃতীয় পদক্ষেপভুক্ত হবে। ১নং থেকে ৬নং প্যাকেজে বাদপড়াগণ ৭নং প্যাকেজভুক্ত হবে।

 

আগামী মে-মাসের মধ্যে করোনা থেকে জীবনরক্ষায় বিশ্বে কোয়ারেন্টিন-লকডাউন ও রিমিটেন্স-বাণিজ্য স্বাভাবিক হবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। দু’মাসের বেশী জাতির নিরাপত্তা বেষ্টণী লাগবে না। করোনার ক্ষতি কমাতে বাজার অর্থনীতির “দক্ষতা-সুষমমতা” বাড়ানোর এ পদক্ষেপসমূহ নেওয়া হলে, আসন্ন ২০২০-২১-এর পর পর বড় বন্যার ক্ষতিও কমবে।

 

============================================================

*মোহাম্মদ আহ্সানুল করিমঃ রাষ্ট্র-বিশেষজ্ঞ, মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক বিসিএস কর্মকর্তা। ১৯৮২ থেকে “উচ্চতর  সম্মৃদ্ধিশীল গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ” গড়ে তোলায় ভিত্তিমূলক প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠনের উদ্যোক্তা এবং প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার রূপরেখা(১৯৮৫), প্রগতিশীল গণতন্ত্র(১৯৯১) ও সংবিধান সংশোধনের দিকগুলো(২০১০) নিবন্ধ/বইযের লেখক।

 

 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.